নারদের গোপন ক্যামেরার হুল, ফিরে দেখা এক ঝলকে
নারদকাণ্ডে কী হয়েছে একদিন পর্যন্ত, কোথায় দাঁড়িয়ে সিবিআই তদন্ত, একঝলকে ফিরে দেখা
২০১১ সালে এরাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সারদা, রোজভ্যালি সহ নানা কেলেঙ্কারিই অস্বস্তি বাড়িয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের। সারদায় যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা- মন্ত্রী জালে জড়িয়েছেন, তেমনই রোজভ্যালিকাণ্ডও পিছু ছাড়েনি তৃণমূলের নেতামন্ত্রীদের। কিন্তু গত গত ৭ বছরে নারদকাণ্ডের মত কাঁটা বোধহয় কোনওটাই হয়নি তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে।[আরও পড়ুন:শোভনের পথেই জেরা এড়ালেন সুব্রত, কবে যাবেন সিবিআই দফতরে স্থির করলেন নিজেই]

কী হয়েছিল?
২০১৬ সালের মার্চ মাসে বিধানসভা ভোটের বিজ্ঞপ্তি তখন জারি হয়ে গিয়েছিল। প্রচারপর্বও শুরু হয় হয়, এমনই সময়ে 'স্টিং-অপারেশন'-এর একটি বিস্ফোরক ভিডিও প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি। ইন্টারনেট নিউজ পোর্টাল নারদ নিউজ-এর শীর্ষ সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েলের দু'বছর ধরে গোপনে তোলা ভিডিও প্রকাশ হতেই ঝড় বয়ে যায় গোটা দেশেই। ভিডিওয় দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক, সাংসদ ও নেতা মিলে মোট ১৩ জন ম্যাথু-কে সুবিধে পাইয়ে দিতে ঘুষ নিচ্ছেন। ভিডিও-তে বর্ধমানের তৎকালীন পুলিশ সুপার আইপিএস এস এম এইচ মির্জা-কেও ম্যাথুর কাছ থেকে অর্থ নিতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পরই প্রথমে অভিযুক্ত নেতা-মন্ত্রীরা জাল বলে দাবি করলেও পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আর কেউই কিছু বলেননি।[আরও পড়ুন:নারদে তলব কাকলি ঘোষ দস্তিদার, নোটিশ পেয়ে কী বললেন তৃণমূল সাংসদ]

কাদের দেখা যাচ্ছে ভিডিওতে?
একটি ভুয়ো সংস্থা তৈরি করে সেই সংস্থা চালু করতে বিভিন্ন নেতা মন্ত্রীর কাছে যান নারদ সাংবাদিক ম্যাথু। গোপন ক্যামেরা অপারেশনে দেখা যায় মুকুল রায়, সৌগত রায়, শুভেন্দু অধিকারী, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়,সুব্রত মুখোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুলতান আহমেদ, ইকবাল আহমেদ ও অপরূপা পোদ্দারদরা অর্থ নিচ্ছেন ম্যাথুর কাছ থেকে। এঁদের কয়েক জনের সঙ্গে ম্যাথুকে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন আইপিএস আধিকারিক এসএমএইচ মির্জা। তাঁকেও টাকা নিতে দেখা গিয়েছে এই ভিডিওয়।[আরও পড়ুন:সারদায় ইস্টবেঙ্গল- মোহনবাগান, নারদায় কি এবার ফাঁসতে চলেছে মহমেডান]

কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
এই ঘটনাকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্ত বলেই দলীয় সাংসদ, বিধায়কদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশ্য ভোট প্রচারে গিয়ে একবার তিনি বলেই ফেলেছিলেন, আগে জানলে অভিযুক্তদের টিকিট দিতেন না তিনি। তবে এই ঘটনার তদন্ত হবে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।[আরও পড়ুন:নারদের হুলে সিবিআই পৌঁছল কাকলির ঘরে, কবে মিলল হাজিরার নির্দেশ]

কীভাবে এগোল নারদ তদন্ত?
২০১৬ সালের জুন মাসে কলকাতা পুলিশকে নারদকাণ্ডের তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু, যে সব অভিযুক্ত নেতা- মন্ত্রীরা টাকা নিয়েছেন, তাঁদের থেকে বেশি কলকাতা পুলিশের তদন্ত হচ্ছিল কে বা কারা টাকা দিয়েছে সেদিকেই। তদন্তে নেমে নারদ- সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েলকেও একাধিকবার সমন পাঠায় লালবাজার। অবশ্য অসুস্থতার কারণে প্রথমদিকে তিনি হাজিরা দেননি তিনি। কিন্তু, এই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে কংগ্রেস ও বিজেপি। এরপর ২০১৬ সালের ৫ই অগাস্ট কলকাতা পুলিশের তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে হাইকোর্ট। এরইমধ্যে প্রথমে হায়দরাবাদ তারপর চণ্ডীগড়ে পাঠানো হয় নারদকাণ্ডের ফুটেজ। সেখানে সব ক'টি ফাইল খোলা না গেলেও বেশিরভাগ ফুটেজই আসল বলে রিপোর্ট পাঠায় চন্ডীগড়ের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি। এই মামলার তদন্তের ভার সিবিআইকে দেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। বেশ কিছুদিন শুনানি চলার পর চলতি বছরের মার্চ মাসে এই মামলার তদন্তভার সিবিআইকে নেওয়ার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু, সেখানেও ধাক্কা খেতে হয় রাজ্যকে। সুপ্রিমকোর্টও হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে। সিবিআই তদন্তভার হাতে নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এই মামলায় পৃথক একটি এফআইআর দায়ের করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও।

চলতি বছরে এপ্রিল মাসে, নারদকাণ্ডে ১৩জন অভিযুক্তের নামে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। যাঁদের নামে এফআইআর দায়ের হয় তাঁরা হলেন, মুকুল রায়, সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সুলতান আহমেদ, ইকবাল আহমেদ, অপরূপা পোদ্দার, শুভেন্দু অধিকারী ও আইপিএস এসএমএইচ মির্জা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০ বি ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে সিবিআই।

এই মামলায় ইতিমধ্যেই ইকবাল আহেমদ ও সুলতান আহমেদকে জেরা করেছে সিবিআই। জেরা করা হয়েছে নারদ সাংবাদিক ম্য়াথু স্যামুয়েলকেও। ইতিমধ্যেই শোভন চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়কেও সমন পাঠিয়েছে সিবিআই। যদিও তাঁরা প্রথম সমনে সিবিআই-এর কাছে হাজিরা দিতে যাননি। ১৭ জুলাই বা ১৮ জুলাই সিবিআই দফতের হাজিরা দিতে বলা হয়েছে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেও।












Click it and Unblock the Notifications