গত দেড় দশকে কীভাবে পতন হয়েছে টাকার মূল্যে, একনজরে গ্রাফ

বিগত দেড় দশকে মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার মানে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। ২০১০ সালে যেখানে এক ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল মাত্র ৪৪.৭০ টাকা, আজ ২০ মে ২০২৬-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬.৮৩ টাকায়। অর্থাৎ, গত ১৫-১৬ বছরে ভারতীয় মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা অর্ধেকেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। মুদ্রার এই ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের পকেটেও টান ফেলছে।

১৫ বছরের খতিয়ান: পতনের ধারা

গ্রাফটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতীয় মুদ্রার এই নিম্নমুখী যাত্রা কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সীমাবদ্ধ নয়।

২০১০-২০১৪: ২০১০ সালে টাকার মান ছিল ৪৪.৭০, যা ২০১৪ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার সময় বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩.০৪ টাকায়। অর্থাৎ, ৪ বছরেই দাম কমেছিল প্রায় ১৯ টাকা।

২০১৫-২০২১: এই সময়ে টাকার মান ৭০-এর ঘর অতিক্রম করে। করোনা মহামারী এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাবে ২০২১ সালে এক ডলারের দাম পৌঁছায় ৭৪.২৯ টাকায়।

২০২২-২০২৬: সবথেকে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে গত চার বছরে। ২০২২ সালে টাকার দাম এক লাফে ৮২.৭৩ টাকায় পৌঁছায়। আজ ২০২৬ সালের মে মাসে তা ৯৬.৮৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ইতিহাসের সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তর।

কেন এই পতন?

অর্থনীতিবিদদের মতে, টাকার এই করুণ অবস্থার পিছনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ দায়ী।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত থেকে টাকা তুলে মার্কিন বাজারে বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ছে এবং টাকা দুর্বল হচ্ছে।

অপরিশোধিত তেলের দাম: ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগ আমদানি করে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতকে বেশি ডলার খরচ করতে হয়, যা টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: চলমান বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার ফলে বিশ্বজুড়েই ডলারের আধিপত্য বাড়ছে।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

টাকার দাম কমার অর্থ হলো বিদেশ থেকে পণ্য কেনা এখন ভারতের জন্য অনেক ব্যয়বহুল। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর:-

জ্বালানি তেলের দাম: আমদানি খরচ বাড়ায় পেট্রোল-ডিজেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে।

মূল্যবৃদ্ধি: পরিবহণ খরচ বাড়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, যেমন—ভোজ্য তেল, চাল, ডালের মতো পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে।

বিদেশি শিক্ষা: যারা বিদেশে পড়াশোনা করতে যাচ্ছেন, তাদের আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, আরবিআই বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ডলারের ওপরে ওঠা থামানো সম্ভব হচ্ছে না। গ্রাফের ইঙ্গিত অনুযায়ী, টাকার মান যেভাবে ১০০-র দিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+