উষ্ণ হচ্ছে সিঁড়ির মেঝে, সেকেন্ডে শুকোচ্ছে জল! অলৌকিক ঘটনায় ঘুম উড়েছে পরিবারের
News on Bankura: এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী কাশীনাথ কুম্ভকার! ক্রমাগত গরম হয়ে উঠছে সিঁড়ির একটি অংশ। এমনিতেই প্রবল গরমে পুড়ছে বাংলা। অন্যান্য জেলার মতো লালমাটির জেলা বাঁকুড়াতেও চলছে তাপপ্রবাহ। আর এর মধ্যেই এই ঘটনায় রীতিমত ঘুম উড়ে যায় পরিবারের।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, বাঁকুড়ার ছাতনার কমলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিসানা কুমোর পাড়ার বাসিন্দা কাশীনাথ কুম্ভকার। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা তিনি। হঠাত করেই বাড়ির সিঁড়ির একটি অংশ ক্রমাগত গরম হয়ে উঠছে। গত কয়েক দিন ধরে একই ঘটনা! প্রথমে গরমে ঘটছে বলে মনে করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু দিনে দিনে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছিল। এতটাই ওই অংশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল যে একটু জল ফেললেই সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে যাচ্ছে।

এমনকি মাঝে মধ্যে বাড়ির সিঁড়ির ওই অংশ এতটাই গরম হয়ে যাচ্ছিল যে পা ফেললেই ছ্যাঁকা খেতে হচ্ছিল কাশীনাথ কুম্ভকার পরিবারের সদস্যদের। ঘটনায় যথেষ্ট বিচলিত হয়ে পড়েন কুম্ভকার পরিবার। রীতিমত রাতের ঘুম চলে গেছিল! এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে ওই বাড়িতে ভীড় করতে শুরু করেন অনেকেই। অতি আলৌকিক ঘটনা বলে প্রচার শুরু করতে থাকেন কেউ কেউ। এমনকি ভূতুড়ে কান্ড বলেও কেউ কেউ প্রচার করতে শুরু করেন।
এই অবস্থায় ঘটনাস্থলে আসেন প্রশাসনের আধিকারিকরাও। কীভাবে এই ঘটনা তারাও খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। এই অবস্থায় আলৌকিক ঘটনা বলেই বিশ্বাস করতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। সমস্যা কাটাতে আধ্যাত্মিক নির্ভারাতে বাড়তে পরিবারের। এই অবস্থায় প্রশাসনের মাধ্যমে খবর পৌঁছয় পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীদের কাছেও।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের বাঁকুড়া জেলা কমিটির সম্পাদক জয়দেব চন্দ্র নিজে ওই গ্রামে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন। গোটা ঘটনা সরজমিনে পরীক্ষা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই 'রহস্যে'র সমাধানও করে ফেলেন তিনিই।
জয়দেব চন্দ্র বলেন, কোন আলৌকিক ঘটনা নয়, এমনকি গ্যাস সংক্রান্ত কোনও সমস্যা নয় বলেও জানান তিনি। জয়দেববাবুর কথায়, বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, নেই কোন আর্থিং সংযোগ। আর সিঁড়ির ওই অংশে রয়েছে লোহার বিম। ফলে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক শর্ট শার্কিটেই এই সমস্যা বলে তিনি জানিয়েছেন।

কার্যত কয়েক সেকেন্ডেই রহস্য ভেদ বিজ্ঞান মঞ্চের! কোন আলৌকিক ঘটনা নয়! বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীদের এই রহস্য উন্মোচনের খবরে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন ছাতনার গ্রামের কুম্ভকার পরিবার। বাঁচলেন প্রশাসনের আধিকারিকরাও।












Click it and Unblock the Notifications