Tigress Zeenat: ৮ দিন পর বাগে এল বাঘিনী, জেলা সফরে বেরিয়ে বাঁকুড়া থেকে খাঁচাবন্দি জিনাত
Tigress Zeenat: বাঁকুড়ায় বাঘ বন্দি খেলা শেষ! আট দিন পর অবশেষে খাঁচায় বন্দি হল বাঘিনী জিনাত। রবিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ঘুমপাড়ানি গুলি করে তাকে বাগে আনেন বনকর্মীরা (Forest Department)। রবিবার বাঁকুড়ার (Bankura) রানিবাঁধের গোঁসাইডিহির জঙ্গলে ঢোকার পর থেকেই কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছিল বাঘিনী। অবশেষে বিকেলে খাঁচায় বন্দি করা হল বাঘিনীকে।
বন দফতরের কেন্দ্রীয় মুখ্যপাল এস.কুণাল ডাইভাল জানান, গত আট দিন ধরে কার্যত হিমশিম খেতে হয়েছে তাঁদের। সিমলিপাল থেকে ঝাড়গ্রাম, তারপর পুরুলিয়া হয়ে বাঁকুড়া, বিভিন্ন এলাকায় বাঘিনী ঘুরে বেড়িয়েছে। এদিন সিমলিপাল, সুন্দরবন, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার বন দফতরের টিম একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায়। সঙ্গে পুলিশ, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ছিলেন। বন দফতরের ওই আধিকারিক জানান, পুলিশের সহায়তা পুরোদমে মেলাতেই শান্তিপূর্ণভাবে বাঘ ধরা সম্ভবপর হয়েছে।

বাঘিনীকে প্রাণী চিকিৎসক পরীক্ষা করেছেন। তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান বনকর্তা। ইতিমধ্যেই বাঘিনীটিকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে খবর। রবিবার গোঁসাইডিহির পুরো জঙ্গল নেট দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। রাতেও একাধিকবার ঘুমপাড়ানি গুলি ছোঁড়া হলেও কাজ হয়নি। অবশেষে রবিবারের বিকেলে বাগে আনা গেল বাঘিনীকে। গত আট দিন ধরে ড্রোনের মাধ্যমেও জঙ্গলে চলছিল নজরদারি।
রেডিও কলার অ্যাপের মাধ্যমেও খোঁজার চেষ্টা করা হয়। বাঁকুড়ার রানিবাঁধের গোঁসাইডিহিতে গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলেই ঘুরে বেড়াচ্ছিল বাঘিনী। নিশ্চিত জানতে পেরেই ব্যারিকেড ও নেটের ফেন্সিং ছোট করে ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়া হয় এদিন। গুলি লেগে নিস্তেজ হতে থাকে বাঘিনী। পরে তাকে ধরে এনে খাঁচাবন্দি করা হয়। বর্তমানে বাঘিনীর শরীর সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছে বন দফতর।
গত ১৫ নভেম্বর বাঘিনী জিনাতকে মহারাষ্ট্র থেকে ওড়িশার সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভে আনা হয়েছিল। সিমলিপালে জঙ্গলের সীমানা ছাড়িয়ে ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া রেঞ্জ ঘুরে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির জঙ্গলে প্রবেশ করে বাঘিনী। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। তৎপরতার সঙ্গে তল্লাশি অভিযান শুরু করে বন দফতর। সন্ধে হতেই শুনশান হয়ে যায় গোটা এলাকা। বাঘিনীর গতিবিধি নিয়ে গ্রামে গ্রামে চলে সতর্কতা অভিযান।
বেলপাহাড়ি থেকে পুরুলিয়ার জঙ্গলে পৌঁছে যায় বাঘিনী জিনাত। তারপর পুরুলিয়া থেকে বাঁকুড়ার রানিবাঁধে গোঁসাইডিহি গ্রামে পৌঁছয় সে। মুকুটমণিপুর জলাধার সংলগ্ন ছোট্ট জঙ্গলে বাঘিনীর অবস্থান বুঝতে পারেন বন দফতরের কর্মীরা। ঘটনায় জীবিকায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে রবিবার সকালেই অভিযোগ করেন গোঁসাইডিহি গ্রামের মানুষেরা। প্রশাসনিক নির্দেশে মাছ ধরার কাজ বন্ধ ছিল। তবে এবার বাঘিনী ধরা পড়ায় সে সমস্যার সুরাহা হতে চলেছে।












Click it and Unblock the Notifications