শুরু তিনদিনের 'বাহা বঙ্গা বাহা পরব'! বাঁকুড়া শহরের আদিবাসী পল্লিতে ধামসা মাদলের বোলের সঙ্গে চলছে নাচ
ধামসা মাদলের বোল, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আদিবাসী রমণীদের নাচ। চলছে পুজার্চনা। গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে বহু দূরে থেকেও আজও এভাবেই নিজেদের ঐতিহ্য আর পরম্পরা বাঁচিয়ে রেখেছেন বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন চম্পাকিয়ারির আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন।
বেশ কয়েক বছর আগে চাকুরিজীবি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন বাঁকুড়া শহরের চম্পাকিয়ারিতে গড়ে তোলেন জনবসতি। সেখানেই মানুষ হওয়া তাদের নবপ্রজন্মের মধ্যে নিজেদের সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে বছরভর নানান উদ্যোগ নেন তাঁরা। সেই ধারাবাহিক কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে চলতি বছরেও শুরু হয়েছে 'চম্পাকিয়ারি বাহা বঙ্গা বাহা পরব'।

প্রথা মাফিক দোল পূর্ণিমার পর থেকে শহুরে সাঁওতাল পল্লী চম্পাকিয়ারিতে তিন দিনের 'বাহা বঙ্গা বাহা পরব' শুরু হয়েছে। আদিবাসী প্রথানুযায়ী, প্রথম দিন উম্ মাহা অর্থাৎ শুভ সূচনা, দ্বিতীয় দিন সারদি মাহা মানে মূল পূজানুষ্ঠান আর উৎসবের তৃতীয় অর্থাৎ শেষ দিনে জালে মাহা বা বাহা বাস্কে।
নিজেদের ঐতিহ্য আর পরম্পরা রক্ষায় নবপ্রজন্মের আগ্রহ বাড়ছে বলে দাবি আদিবাসী সমাজের। তাদের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও অংশগ্রহণই সে কথা প্রমাণ করছে। কলেজ ছাত্রী শিলি মুর্মু বলেন, গ্রাম হোক বা শহর, দেশ হোক কিংবা বিদেশ, নিজেদের সংস্কৃতি চর্চা ও রক্ষায় তাঁরা বদ্ধপরিকর। প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি ফুল সৃষ্টি কর্তাকে নিবেদন কথার পরেই এই বসন্তে তাঁরা খোঁপায় লাগাবেন বলে তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা সোনামনি মাণ্ডি বলেন, এই পুজোর দিনগুলোর জন্য তাঁরা সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন। শহুরে জীবনে বেড়ে উঠলেও বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েরাও এই পুজোকে ঘিরে সমানভাবে আগ্রহী বলে তিনি জানান।
এই বাহা পরবের ব্যাখ্যা করে চম্পাকিয়ারি গ্রামের পূজারি মলিন্দ হাঁসদা বলেন, বসন্তের সূচনায় এই উৎসব পালিত হয়। নতুন ফুল, পাতাকে এই উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁদের আরাধ্য দেবতা 'মারাংবুরু'কে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন ফুল সমর্পণ করা হচ্ছে ততদিন এই সম্প্রদায়ের কেউ কোনও ধরণের ফুল, এমনকি নতুন পাতা পর্যন্ত ব্যবহার করেন না। বাহা পরব শেষে সবাই নতুন ফুল, ফল, পাতা ব্যবহার করতে পারবে বলেও তিনি জানান।












Click it and Unblock the Notifications