আসুন বিজেপিকে তাড়াই, তৃণমূলকেও হারাই! বাঁকুড়ার জন্য একডজনের বেশি 'প্রতিশ্রুতি'কে সামনে রেখে পথে নীলাঞ্জন
বাংলার লাল মাটির জেলা বাঁকুড়া। লোকসভায় বাঁকুড়ার দুটি আসন, একটা বাঁকুড়া অপরটি বিষ্ণুপুর । জেলার সদর শহর বাঁকুড়ায় এবার সিপিআই (এম) প্রার্থী আইনজীবী নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত। কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে এই লোকসভা কেন্দ্রে তিনি এবার লড়াই করছেন। রাজ্যের অন্য জায়গার মতো বিগত কয়েক বছর ধরে বাঁকুড়া'র লাল ঝাণ্ডার রংও অনেকটা ফিকে। এবার সেই লালঝাণ্ডার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত প্রায় দু'মাসেরও বেশf সময় ধরে বাঁকুড়া লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার গ্রাম থেকে শহর চষে ফেলেছেন তিনি। মানুষের কাছাকাছি পৌঁছনোর ক্ষেত্রে অন্য দুই প্রার্থীর থেকে তিনি এগিয়ে বলেই দাবি করেছেন নীলাঞ্জন।
জাতপাতের রাজনীতিকে পিছনে রেখে প্রচারে তিনি সামনে নিয়ে এসেছেন সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকাকে। এব্যাপারে নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত কথা খুব পরিস্কার । তিনি বলেন, তৃণমূল-বিজেপি'র নেতারা আর মানুষের জীবন জীবিকার সমস্যা নিয়ে কথা বলেন না । তাঁরা কেউ ব্যস্ত তোলাবাজিতে, কেউ ব্যস্ত দাঙ্গাবাজিতে। আর তিনি নেমেছেন রুজিরুটির পক্ষে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের কথাকে রাজনীতির মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনাই তাঁর এবং দল সিপিআইএমের প্রধান কাজ ।

প্রচারের কেন্দ্র ও রাজ্যের নীতির কথা
কেন্দ্রের এবং রাজ্যের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতি, পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস, খাদ্যদ্রব্যের মাত্রাছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে লাগামছাড়া দুর্নীতি নিয়েই তিনি বেশি সরব হয়েছেন এবার প্রচারে। একই সঙ্গে প্রচারে তিনি তুলে ধরছেন বর্তমান রাজ্য সরকারের ডিএ নীতিকে।
সোজা কথা
নীলাঞ্জনের কথায়, 'অর্ধেক সরকারি দপ্তর জেলে বসে আছে, এ দৃশ্য বাংলার মানুষ আগে দেখেনি কোনওদিন। সরকারি চাকরি, কয়লা, গরু, বালি, লটারি, বেআইনি নির্মাণ ও সিন্ডিকেট, ১০০ দিনের কাজ, ঘরের টাকা, বনসৃজনের টাকা, মিড ডে মিল, হাসপাতালের দালালচক্র, পাড়ায় বিভিন্ন ছুতোয় তোলাবাজি - তৃণমূল আমলে দুর্নীতিকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ-প্রশাসনের লোকজনও এই তোলাবাজির সিস্টেমের অংশ হয়ে গিয়েছে। এই দুর্নীতির বিষচক্র থেকে চারপাশকে রক্ষা করতে হবে। এমনটাই বলছেন সিপিআইএম প্রার্থী। তিনি বলেছেন, চোর-ডাকাতদের শাস্তি চাই এবং মানুষের টাকা মানুষের কাছে ফেরত চাই, এটাই সোজা কথা ।
কোন কোন কাজকে গুরুত্ব
বাঁকুড়ার গ্রামে গ্রামে নীলাঞ্জন আওয়াজ তুলেছেন, আসুন বিজেপিকে তাড়াই। তৃণমূলকেও হারাই। আগামীদিনে সাংসদ তহবিলের ১০০% অর্থ খরচ করা সহ বাঁকুড়ার উন্নতিকল্পে যে কাজগুলোর ওপর বাঁকুড়ার সিপিআইএম প্রার্থী নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত গুরুত্ব দিয়েছেন তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য, জঙ্গলমহলের উন্নয়নের স্বার্থে ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথ, বাঁকুড়া-মশাগ্রাম রেলপথ এবং হাওড়া কর্ড লাইনের সংযুক্তিকরণ, বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ করা, জেলার বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দু পাতা এবং অন্য বনজ সম্পদ ভিত্তিক বিকল্প জীবিকার সংস্থান ফের চালু করা, জেলার আদিবাসী হস্টেলগুলো পুনরায় চালু করা, জেলার বন্ধ হয়ে যাওয়া পাথর খাদানগুলো পুনরায় চালু করা, কংসাবতী জলাধারের জলের অপচয় বন্ধ করা, খাতড়া শহরকে পুরসভায় উন্নীত করা, বাঁকুড়া জেলায় একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে কাজের সন্ধানে যুবক ছেলেদের ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া আটকানো, বাঁকুড়া হাসপাতালের আধুনিকীকরণ, জেলার দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ ।
এখন আগামী ৪ জুনের জন্য অপেক্ষা। সেদিনই বোঝা যাবে বাঁকুড়ার জণগণ তাঁকে কতটা আশীর্বাদ করেছেন। তবে জেতার ব্যাপারে নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত একশো ভাগ আশাবাদী ।












Click it and Unblock the Notifications