২৯ বছর ধরে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে বাঁকুড়ায় চলছে বাবা বুড়ো পীরের ঔরস উৎসব
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন বাঁকুড়ার ইন্দাসের জিনকরা গ্রামে। 'ধর্ম যাঁর যাঁর, উৎসব সবার এই 'মন্ত্রে'ই বিশ্বাসী এই এলাকার মানুষ। এই গ্রামেই রয়েছে বাবা বুড়ো পীরের মাজার। প্রতিবছরই ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে বাবা বুড়ো পীরের ঔরস উৎসবে মেতে ওঠেন গ্রামবাসী। বাংলাদেশের পরিস্থিতির মাঝে বাঁকুড়ার এই উৎসব নজির সৃষ্টি করেছে।
দক্ষিণ দামোদর এলাকার বর্ধমান-বাঁকুড়া সীমান্তের গ্রাম ইন্দাসের জিনকরা। এখনেই গত ২৯ বছর ধরে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে বাবা বুড়ো পীরের ঔরস উৎসবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন ডাঃ নূর আলম-সুকুমার রুইদাসরা। প্রতিবছরের মতো এবারও হিন্দু-মুসলিম ধর্মাবলম্বী সকলেই মেতে উঠেছেন বাবা বুড়ো পীরের ঔরস উৎসবে। জেলার দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এখানে। এলাকায় মানুষের কথায় দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষ পীরের মাজারে মানত করেন, চাদর চড়ান। উৎসবে উপস্থিত প্রত্যেকেই পাশাপাশি বসে খিচুড়িও খান।

এই উৎসবের উদ্যোক্তারা বলেন, বাবা বুড়ো পীরের ঔরস উৎসব কোন বিশেষ ধর্মের অনুষ্ঠান নয়, এই উৎসব আমাদের সবার। এই উৎসবে সবাই একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে চলছে এই উৎসব যা ২৯ বছর ধরে চলে আসছে। স্থানীয় একজন জানান, আমরা হিন্দু-মুসলিম ভাইবোনেরা খুব আনন্দের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আসছি।
এদিন বাবা বুড়ো পীরের ঔরস উৎসবে এসেছিলেন পূর্ব বর্ধমানে বাসিন্দা পুতুল দাস। পীর বাবার মাজারে চাদর ও চড়ান তিনি। পতুল দেবী জানান, দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম, বাবার কাছে মানত করার পর সুস্থ হয়ে উঠেছি। আর সেকারণেই মাজারে চাদর চড়াতে এখানে তার আসা বলে তিনি জানান।












Click it and Unblock the Notifications