চোখের জলে বিদায় বাঁকুড়ায়, গান স্যালুট মণিপুরে মৃত জওয়ানকে
গোটা গ্রাম যেন ভেঙে পড়েছে এলাকায়। একবার শেষবারের মতো তাকে দেখতেই হবে। কিন্তু যাকে দেখবে, সে নিজেই তো কফিনবন্দি৷ আর তো তরতাজা হাসি মুখ ফিরে আসবে না।
সহকর্মীদের কাঁধে চড়ে কফিনবন্দি দেহ গ্রামে ফিরল বাঁকুড়ার গ্রামে। মণিপুরে উগ্রপন্থী হামলায় হত সিআরপিএফ জওয়ান অরূপ সাইনি। রবিবার সাত সকালে সোনামুখীর পাঁচাল গ্রামে শহিদ এই জওয়ানের দেহ এসে পৌঁছায়।

ভোরের আলো ফোটার আগেই গ্রাম ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকায় খবর হয়ে গিয়েছিল। কয়েক হাজার মানুষ ছুটে এসে অপেক্ষা করেছিল পাঁচাল গ্রামে। দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া এই বীর শহিদ অরূপ। তাঁকে শেষবারের মতো একবার চোখের দেখা দেখতে হাজির হন।
মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার নরানসেইনা এলাকায় আধা সেনার সঙ্গে উগ্রপন্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে শহিদ হন বাঁকুড়ার অরূপ সাইনি সহ দুই সিআরপিএফ জওয়ান। সিআরপিএফের ১২৮ নম্বর ব্যাটেলিয়নের হেড কনস্টেবল পদে ছিলেন অরূপ সাইনি। তাঁর গ্রামের বাড়িতে খবর এসে পৌঁছেছিল। নিথর দেহ আগে কলকাতা থেকে পৌঁছায়।
এদিন সকালে কলকাতা থেকে বাঁকুড়ার গ্রামে পৌঁছায় কফিনবন্দি দেহ। বীর জওয়ানকে শ্রদ্ধা জানাতে গ্রামে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। এদিন সিআরপিএফের পক্ষ থেকে গান স্যালুট দিয়ে অরূপ সাইনিকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে স্থানীয় শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
অরূপ সাইনির পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৪ সালে তিনি সিআরপিএফ জওয়ান হিসেবে কাজে যোগ দেন। জম্মু-কাশ্মীরে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। বছর দেড়েক আগে মণিপুরে বদলি হন তিনি। বাড়িতে বাবা রমাকান্ত সাইনি। এছাড়াও স্ত্রী পূর্ণিমা সাইনি। তাদের পাঁচ বছরের এক মেয়ে, দেড় বছর বয়সের এক ছেলে রয়েছে।
দুই ভাই কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন। এলাকায় অত্যন্ত 'ভালো মানুষ ও পরোপকারী' হিসেবে পরিচিত অরূপের এই অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। এবার দোল উৎসবে শেষ বারের মতো বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। পাড়ার কচিকাঁচাদের সঙ্গে রঙের উৎসবে যোগ দিয়ে সেই ছবি ফেসবুকে শেয়ারও করেন তিনি। চৈত্র সংক্রান্তির গাজনের আগে কর্মক্ষেত্রে ফেরেন অরূপ। লোকসভা ভোট শেষে ফের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তার আগেই সব শেষ!












Click it and Unblock the Notifications