সরস্বতী একা নন, সঙ্গে থাকেন লক্ষ্মী-কার্তিক-গণেশও! ব্যক্তিক্রমী পুজো বাঁকুড়ায়
গ্রামে মূর্তি তৈরি করে দুর্গাপুজো হয় না। আর সেই দুর্গা পুজোর আনন্দ সরস্বতী পুজোয় চেটে পুটে উপভোগ করেন ওন্দার রতনপুরের মানুষ। গ্রামের দাস ও বিশ্বাস পাড়ায় টানা ন'দিন ধরে চলে পুজো। আলাদা আলাদাভাবে পুজোর পাশাপাশি প্রতিমাতেও রয়েছে বৈচিত্র। এখানে শ্বেতশুভ্রবসণা দেবী সরস্বতী একা আসেন না, একচালা প্রতিমায় লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক ও ভগবতীর সঙ্গে একাসনে তাঁর অবস্থান।
নিয়ম অনুযায়ী পঞ্চমীতে শুরু হয় পুজো। এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট মহাপ্রভুর ভোগ নিবেদন করে সেই ভোগ দেওয়া হয় দেবীকে। আর ওই ভোগে পাঁকা কাঠাল নিবেদন করার নিয়ম চলে আসছে একেবারে শুরুর সময় থেকে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, গ্রামের মাঠে রয়েছেন দেবী অম্বিকা। ফলে মূর্তি তৈরি করে দুর্গা পুজোর চলন নেই। ফলে গ্রামের সরস্বতী পুজোতেই মানুষের আবেগ, আনন্দ আর উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

কর্মসূত্রে সারা বছর যে যেখানেই থাকুন না কেন, বছরের বিশেষ এই দিন গুলিতে তাঁরা ছুটে আসেন গ্রামে। ন'দিন ধরে মেলা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবের মেজাজ এখন বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের উপর ওন্দার রতনপুর গ্রামে।
বাংলায় শুধু ব্যতিক্রমী সরস্বতী পুজোই নয়, প্রায় সব পুজোতেই ব্যতিক্রমী পুজো রয়েছে। উত্তর ও পশ্চিম ভারতে যেমন অষ্টভূজা দুর্গা থাকে, বাংলার দুর্গা দশভূজা। ঠিক তেমনই উত্তর ও পশ্চিম ভারতে সরস্বতীর চার হাত। বাংলায় দুই হাত।
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে ব্যাঘ্রবাহনা দুর্গা দেখা যায়। কোচবিহার রাজবংশে দেবীর পায়ের কাছে সিংহের সঙ্গে বাঘের অবস্থান রয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দুর্গার বাম পাশে থাকেন লক্ষ্মী ও ডানে সরস্বতী। কোথাও আবার বামে সরস্বতী, ডানে লক্ষ্মী।












Click it and Unblock the Notifications