বিষ্ণুপুরের 'দলবদলু' তৃণমূল বিধায়ক তন্ময় ঘোষের বাড়ি, চালকলে আয়কর হানা
রাজ্যে রেশন বণ্টন দুর্নীতির তদন্ত চলছে। বনমন্ত্রী গ্রেফতার। এই আবহের মধ্যেই এবার আয়কর দফতরের নজরে 'দলবদলু' বিধায়ক তন্ময় ঘোষ ওরফে বুম্বা। বুধবার বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে আয়কর আধিকারিকরা হানা দিলেন। বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক তন্ময় ঘোষের বাড়ি সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলেছে এদিন।
জানা গিয়েছে, দলীয় কার্যালয়, মদের দোকান, লজ ও চুড়ামনিপুরের রাইস মিলে হানা দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ঘটনার সময় বিধায়ক বাড়িতে ছিলেন না। তিনি বিধানসভায় ছিলেন বলে একটি সূত্র মারফত জানা যায়। তার কাছে খবর আসার পরেই তিনি বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যান।

তৃণমূলের সঙ্গেই রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন তন্ময় ঘোষ। দলের যুব সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। পরে ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাতারাতি শিবির বদলে বিজেপিতে যোগ দেন। বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিজেপির টিকিটে।
তৃণমূলের অর্চিতা বিদকে ১১ হাজার ৪২০ ভোটে পরাজিত করে বিধানসভায় যাওয়ার ছাড়পত্র আদায় করে নেন তিনি। পরে ওই বছরেরই আগস্টের শেষ সপ্তাহে কলকাতায় গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ। তখন থেকেই বিজেপি সঙ্গে তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
এদিন আয়কর দফতরের আধিকারিকরা বিষ্ণুপুরে পৌঁছে দু'টি দলে ভাগ হয়ে যান। বিধায়কের পরিবারের চুড়ামনিপুরের রাইস মিল ও বাড়িতে হানা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মদের দোকান, কার্যালয় ও লজে হানা দিয়েছেন আধিকারিকরা। বিকেল পর্যন্ত পাওয়া খবরে আয়কর অফিসাররা তদন্ত চালাচ্ছেন।
এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে জেলার রাজনীতিতে। দল বদলের কারণেই কি এই আয়কর হানা? না কী অন্য কোনও বিষয়? সেই প্রশ্ন উঠেছে। বিধায়ক তন্ময় ঘোষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত লোকেরা বিজেপির সঙ্গে থাকতে পারে না। আয়কর দফতর স্বশাসিত সংস্থা। যেমন খবর পেয়েছে তেমন কাজ করছে।












Click it and Unblock the Notifications