বাঁকুড়ার আদিবাসী কন্যা সুস্মিতা দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে যাচ্ছেন, খুশি গ্রামে
এবার ৭৪ তম সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লির রাজপথে প্যারেডে অংশ নেবেন বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলের এক আদিবাসী কন্যা। খাতড়ার চিরুনগর গ্রামের সুস্মিতা সোরেন। তার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া এলাকা জুড়ে।
বাবা সহদেব সোরেন পেশায় স্থানীয় সুপুর হাইস্কুলের শিক্ষক। মা মমতা সরেন প্রাথমিক শিক্ষিকা। প্রত্যন্ত চিরুনগর গ্রাম থেকে দিল্লির রাজপথ সুস্মিতার এই জার্নি মোটেই সহজ ছিল না।

খড়বন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ শেষ করেন তিনি। এরপর গড় রাইপুর গার্লস হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ। খাতড়ার কংসাবতী শিশু বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। বর্তমানে বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজে সংস্কৃত অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি।
এই কলেজে পড়াশুনা করতে এসেই এন.এস.এস অর্থাৎ জাতীয় সেবা প্রকল্পে নিজের নাম লেখানোর সুযোগ পান তিনি। পরে চলতি বছরে নভেম্বর মাসে দেশের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে নিয়ে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আর সেখান থেকেই এই রাজ্যের আট জন সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে প্যারেডে অংশ নেওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছেন। জঙ্গলমহলের সুস্মিতা সোরেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
বিশেষ সূত্রে খবর, সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন দিল্লীর রাজপথে প্যারেডে অংশ নেওয়ার আগে চূড়ান্ত পর্বের অনুশীলনের জন্য সুস্মিতা সরেন সহ এন.এস.এস বিভাগ থেকে নির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবকদের ১ জানুয়ারী থেকে দিল্লীর বিশেষ ক্যাম্পে রাখা হবে। ওই ক্যাম্প চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত। আর সেকারণেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্মিতারা দিল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে খবর।
বরাবর পড়াশুনায় ভালো, সদা হাস্যময়ী, প্রাণ চঞ্চল হিসেবে পরিচিত সুস্মিতা সোরেন। তিনি বলেন, বেশ ভালো লাগছে। স্কুল জীবনেই এন.এস.এসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। তখন সেই সুযোগ হয়নি। আর তাই কলেজে এসে সেই সুযোগ পেয়ে আর হাতছাড়া করতে চাইনি। প্রথম দিকে মা, বাবা একটু নিমরাজি ছিলেন। এখন সবাই সমানভাবে সমর্থন করছেন। উৎসাহ দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
মেয়ের এই সাফল্যে খুশি সুস্মিতার বাবা সহদেব সোরেন, মা মমতা সোরেন। তাঁরা বলেন, মেয়েকে নিয়ে আমরা গর্বিত। দক্ষিণ বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত জঙ্গল মহল থেকে দিল্লির প্যারেডে অংশগ্রহণের সুযোগের খবরে তাঁরা সকলেই আনন্দিত।
কলেজের এই ছাত্রীর সাফল্যে খুশি বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজের জুলজি বিভাগের অধ্যাপক ও এন.এস.এস ইউনিট-১ এর পোগ্রাম অফিসার সুরজিৎ মজুমদার। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে সমাপ্তি সিংহ মহাপাত্রের হাত ধরে আমাদের দিল্লি যাত্রা। এরপর একে একে অনেকেই গিয়েছে। এবার নবতম সংযোজন সুস্মিতা সরেন। তাঁর এই সাফল্যে তারা প্রত্যেকেই খুব খুশি।












Click it and Unblock the Notifications