Migrant Labour Death: হায়দরাবাদে মৃত্যু বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের, টাকার অভাবে বাঁকুড়ার গ্রামে ফিরল না দেহ
Bankura: রোজগারের আশায় পাড়ি দিয়েছিলেন হায়দরাবাদে (Hyderabad)। কিন্তু কাজ শুরুর আগেই শরীর সঙ্গ দিল না। অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাঁকুড়ার পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Labour) গৌতম মাহাত। টাকা পয়সার অভাবে দেহ বাড়িতে পর্যন্ত আনতে পারল না পরিবার। প্রশাসনকে পাশে পাননি বলে অভিযোগ মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের।
অভাব অনটনের সংসারে কোনওমতে দিন গুজরান। এলাকায় কাজের অভাব। তাই রোজগারের সন্ধানে গত ২৭ নভেম্বর বাঁকুড়ার খাতরার আমডোবা গ্রাম থেকে হায়দরাবাদে কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন বছর চল্লিশের গৌতম মাহাত। গত ৩০ নভেম্বর ঠিকা শ্রমিকের কাজে যোগ দিতে গিয়ে আচমকাই অসুস্থ বোধ করেন তিনি।

এলাকারই কয়েকজনের সঙ্গে দল বেঁধে কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন গৌতম। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই পরিযায়ী শ্রমিককে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
খাতড়ার আমডোবা গ্রামে গৌতম মাহাতর বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী ও দশ বছরের সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মা। শেষবারের মতো ঘরের ছেলেকে দেখতে পেলেন না তাঁরা কেউই। শুধুমাত্র টাকার অভাবের কারণে দেহ বাড়িতে আনা যায়নি বলে জানান তাঁরা। জঙ্গলমহলের বাড়িতে শোকের ছায়া।
মৃতের দাদা উত্তম মাহাত এদিন বলেন, "এলাকায় কাজের সুযোগ নেই। সেকারণে রোজগারের আশায় ভাই হায়দরাবাদে ঠিকা শ্রমিকের কাজে গিয়েছিল। মৃতদেহ বাড়িতে আনার কথা বলেছিলাম। কিন্তু আনার খরচ এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা। শুনেই আমরা বাধ্য হয়ে পিছিয়ে আসি।" এই অবস্থায় প্রশাসনিক সাহায্য ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব বলে তিনি জানান।
অপরদিকে মৃতের স্ত্রী লক্ষ্মী মাহাত বলেন, "আমাদের বিকল্প কোনও রোজগারের সুযোগ নেই। তাই টাকার অভাবে মৃতদেহ বাড়িতে আনা যায়নি।" খবর পেয়ে এদিন গৌতম মাহাতর বাড়িতে যান আদিবাসি কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিরা। সংগঠনের বাঁকুড়া জেলার সভাপতি ফুলচাঁদ মাহাত বলেন, "এই পরিবারটির পাশে এখনও প্রশাসন দাঁড়ানো তো দূর, কোনও খোঁজখবরও নেয়নি।" এনিয়ে তারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হবে বলেও জানান।












Click it and Unblock the Notifications