Bankura: ভাদ্রমাসে ভাদু পুজোয় মাতল বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল, কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ভাদুগান
ভাদুকে নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের মাতামাতি যখন একেবারে কমে এসেছে, ঠিক তখনও ভাদু জাগরণ নিয়ে এতোটুকুও উন্মাদনা কমেনি সিমলাপালের গ্রাম গুলিতে। দীর্ঘ ঐতিহ্য আর পরম্পরা মেনে মঙ্গলবার ভাদ্র সংক্রান্তিতে ভাদু জাগরণে সামিল হলেন সিমলাপাল নতুন বাজারের মানুষ।
দেবতা হিসেবে নয়, ঘরের মেয়ে হিসেবেই পূজিতা হন ভাদু, তাই বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের পরিবর্তে সম্মিলীত নারী কন্ঠে বিশেষ সূর সম্মিলীত গানই ভাদু আরাধণার মূল মন্ত্র। সঙ্গে বাড়িতে তৈরী বিভিন্ন ধরণের পিঠে আর দোকান থেকে কিনে আনা জিলিপিই নৈবেদ্য হিসেবে ভাদুকে নিবেদন করা হয়।

ভাদু ও ভাদু জাগরণকে নিয়ে অসংখ্য লোককথা প্রচলিত আছে, তবে বহুল প্রচারিত লোককথাটি হলো, সে অনেককাল আগের কথা। বর্তমান পুরুলিয়া জেলার কাশীপুরের রাজা নীলমণি সিংহদেও এর আদরের মেয়ে ভাদু ওরফে ভদ্রাবতী। মেয়ে বিবাহযোগ্যা হলে এক রাজপুত্রের সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করেন রাজা নীলমনি সিংহদেও।
বিয়ে করতে আসার পথে ডাকাত দলের হাতে প্রাণ হারান বরবেশী রাজপুত্র! আর সেই খবর উৎসব কাশীপুর রাজবাড়িতে পৌঁছালে আনন্দোৎসব বিষাদে পরিনত হয়। আর হবু বরের অকাল মৃত্যু শোক সহ্য করতে না পেরে রাজা, রাজপরিবার আর রাজ্যবাসী সকলের প্রিয় ভাদু আত্মঘাতি হন। পরে অকাল প্রয়াতা মেয়ের স্মৃতিকে মানুষের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতেই বাবা নীলমণি সিংদেওর ভাদু পূজার সূচণা করেন। এই পূজার কোন মন্ত্র নেই, বিশেষ এক সূরে গানের মাধ্যমেই ঘরের মেয়ের আরাধণায় মাতেন বাঁকুড়া-পুরুলিয়া সহ রাঢ় বঙ্গের মায়েরা।
একটা সময় ভাদ্র সংক্রান্তীতে ভাদ্র পূজাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল, এখন তা আর নেই। বর্তমান প্রজন্মের কেউ-ই সেভাবে আগ্রহী নয় ভাদু জাগরণে। তার পরিও সিমলাপালের নতুন বাজারের মানুষ নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টার পাশাপিশি বর্তমান প্রজন্মের সাথে ভাদুর পরিচয় ঘটাতে যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তা যথেষ্ট প্রশংসনীয় বলেই অনেকে জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications