বঙ্গ ভোটে বাটলা ইনকাউন্টার ইস্যু! সে সময় মমতার স্বভাব কেমন ছিল মনে করালেন মোদী
বাংলার ভোটে বাটলা এনকাউন্টার ইস্যু। আর এই ইস্যুতে সামনে রেখেই ভোটের আগে ফের মমতাকে বিধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত কয়েকদিন আগে অমিত শাহও এই নিয়ে মুখ খুলেছিলেন তিনি।
বাংলাতে শুরু ভোটযুদ্ধ! আর সেই ভোট যুদ্ধে এবার ঢুকে পড়ল দিল্লির বাটলা হাউস এনকাউন্টার ইস্যু। পুরুলিয়ার নির্বাচনী প্রচারে এসে এই ইস্যুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
গত কয়েকদিন আগে একই ভাবে বাটলা হাউস শুটআউটে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন জে পি নাড্ডা। আজ বৃহস্পতিবার একই ভাবে মমতাকে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! সে সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা কি বলেছিলেন সে বিষয়টিকে সামনে রেখেই আক্রমণ শানালেন তিনি।

বাটলা এনকাউন্টার নিয়ে মমতার বক্তব্য মনে করালেন মোদী
সেই সময় ফেক এনকাউন্টার বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই বিষয়টিকে সামনে রেখেই মমতাকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আদালতের রায়ে দোষ প্রমাণিত। দোষীকে সাজা হিসাবে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। এরপরেও আপনি বলবেন ওটা ফেক এনকাউন্টার। আপনার তো রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়া উচিত।

পুলওয়ামা নিয়েও মমতাকে আক্রমণ মোদী
পুরুলিয়ার ময়দান থেকে পুলওয়ামা হামলা নিয়ে মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। হামলার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন দিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন সে বিষয়ে মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,'দেশের সেনাদের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন। পুলওয়ামা হামলার পর কার সঙ্গে মমতা ছিলেন, সবাই জানেন। বাটলা হাউস এনকাউন্টারে জঙ্গির গুলিতে মৃত্যু হয় জওয়ানের। তখন এনকাউন্টারের সমালোচনা করেছিলেন মমতা।'

বাটলা এনকাউন্টার নিয়েও মুখ খোলেন নাড্ডাও
গত ২৪ ঘন্টা আগেই বাটলা এনকাউন্টার নিয়ে মমতাকে আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। পুলিশ ইন্সপেক্টর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আরিজ খানের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর কটাক্ষ, "মমতাদিদি বলেছিলেন, বাটলা হাউসে ফেক এনকাউন্টার হলে উনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। ওই ঘটনায় আরিজ খানকে তো ফাঁসির সাজা দিয়েছে আদালত। এখন কবে উনি রাজনীতি ছাড়বেন?"

কি এই বাটলা এনকাউন্টার!
গত কয়েক বছর আগে দিল্লির জামিয়া নগরে জঙ্গিদমনে নেমেছিল দিল্লি পুলিশ। 'অপারেশন বাটলা হাউস' এই নামে শুরু হয়েছিল অভিযান। সেই অভিযানে খতম হয় ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের দুই জঙ্গি আরিফ আমিন এবং মহম্মদ সাজিদ। জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল মহম্মদ সইফ এবং জিশানকে। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল দিল্লি পুলিশ ইন্সপেক্টর তথা এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট মোহন চাঁদ শর্মার। অভিযুক্ত আরিজ খানকে ধরতে পারেনি পুলিশ। পালিয়ে যায় এলাকা ছেঁড়ে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছিল। উত্তাল হয় রাজধানী। সম্প্রতি সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক আরিজ খানকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে আদালত। বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন বিচারকরা। নিহত পুলিশ ইনস্পেক্টর মোহন চাঁদ শর্মার হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত 'ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন'-এর জঙ্গি আরিজ খানকে মৃত্যুর শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আর সেই বিষয়টিকে সামনে এনেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধতে শুরু করলেন মোদী।

নিরাপত্তা ও মমতাকে ঘিরে এদিন তুমুল পারদ চড়ান প্রধানমন্ত্রী
লোকসভা ভোটের সময় মমতার গাড়ির সামনে জয় শ্রীরম স্লোগান প্রসঙ্গ তুলে মোদী একাধিক বক্তব্য রাখেন। 'গাড়ি থেকে নেমে আপনি কতজনকে ধমকে বকেছিলেন, বাংলার মানুষের মনে আছে। আর পুলিশকে বলেছিলেন পাকড়ো। ' প্রসঙ্গত মমতার কনভয়ের সামনে জয়শ্রীরাম ধ্বনি নিয়ে এমনই বক্তব্য রাখেন মোদী। পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তা ও মমতাকে ঘিরে এদিন তুমুল পারদ চড়ান প্রধানমন্ত্রী। এরপর মোদী নাম না করে মমতার মন্দিরে যাত্রার প্রসঙ্গ তোলেন। মোদী বলেন , মমতা এসব করতে বাধ্য হচ্ছেন, কারণ বাংলার জনতা এসব করতে বাধ্য করাচ্ছে তাঁকে।












Click it and Unblock the Notifications