নীল গাড়ি স্টেশনে ফেলে হাওয়া আততায়ীরা, পুলিশের চোখে ধুলো দিতে রেলপথেই কি চম্পট
এই নীল গাড়ি থেকেই আসানসোলের কয়লা ব্যবসায়ীকে গুলি করা হয়েছিল। তারপর সেই নীল গাড়ি রাস্তায় ফেলে কোথায় গেলেন আততায়ীরা? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। তদন্তকারী অফিসাররা আততায়ীদের খোঁজ এখনও পায়নি। গাড়িটি খুঁজে পেলেও তার নম্বর প্লেট ভুয়ো বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

শনিবার সন্ধ্যা ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ শক্তিগড়ে একটি ল্যাংচা দোকানের সামনে কয়লার কারবারি রাজু ঝায়ের সাদা ফরচুনা গাড়িটা দাঁড়াতেই পিছন থেকে একটি গাড়িতে করে চারজন এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। সেই গুলিতে গাড়ির সামনে বসে থাকা রাজু ঝা ঝাঁঝরা হয়ে যান।
কিন্তু কারা তাঁকে খুন করল? তবে কি রাজু ঝায়ের খুনের সঙ্গে দুর্গাপুর, অন্ডাল, পান্ডবেশ্বর,রানিগঞ্জের একাধিক কয়লার কারবারের কোনো যোগ রয়েছে? শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রাজু নিজের হোটল ফরচুনে ছিলেন। সন্ধা সাতটা নাগাদ ব্যবসায়িক সঙ্গী ব্রতীন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন।
গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুর্গাপুরে পলাশডিহা এলাকায় যোগদান মেলায় বিজেপিতে যোগ দেন রাজু। কিন্তু টিকিট না পাওয়ায় আর সে ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যোগ ছিল না রাজুর। অবৈধ কয়লার ব্যবসার বেতাজ বাদশা ছিলেন রাজু। পরবর্তী সময়ে ভলভো বাস পরিষেবা, হোটেল-সহ একাধিক ব্যবসা শুরু করেন রাজু।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজু ঝাকে শক্তিগড়ে হাইরোডের ধারে গুলি করে খুন করার পর তদন্তে নামে পুলিশ। পুলিশ দুষ্কৃতী দলের নীল গাড়িকে ট্র্যাক করতে নাকা তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু নাকা তল্লাশিতে কোনো ট্রেস করা যায়নি। রবিবার সকালে জানা যায় গাড়িটি শক্তিগড় রেল স্টেশনের রাস্তায় পড়ে রয়েছে।
গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল রাস্তায় ধারে। তাহলে আততায়ীরা কি ট্রেনপথ ধরে চম্পট দেয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন নাকা তল্লাশি এড়াতেই আততায়ীরা পালানোর পরিকল্পনা চেঞ্জ করেছিল। এরপর গাড়িটির নম্বর নিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। কিন্তু সেখানেও ধাক্কা খান তদন্তকারীরা।
ওই নীল রঙের গাড়িটি থেকে গুলি ছোড়া হয়। রাজু ঝায়ের গাড়ি শক্তিগড়ের আমড়া মোড়ের সামনে দাঁড়াতেই গুলি চলে এলোপাথাডি। রাজু গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর এক সঙ্গীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারপর তদন্তে নেমে রাস্তার মোড়ে মোড়ে চেকিং শুরু করে পুলিশ। আততায়ীরা কোন পথে পালায়, তা ট্রেস করতে পারেনি পুলিশ।
সকালে গাড়িটি উদ্ধারের পর স্পষ্ট হয় সড়ক পথে পালানোর পরিকল্পনা বানচাল করে চারা রেলপথে পালায়। যেহেতু গাড়িটি রেল স্টেশনের সামনে পাওয়া যায়। তাই অনুমান আততায়ীরা রেলপথই ধরেছে। তদন্তকারীরা মনে করছে, খুব শীঘ্রই ধরা পড়বেন আততায়ীরা।












Click it and Unblock the Notifications