ডান হাত কেটে নিলেও বাম হাতে লেখা শুরু রেণুর, অদম্য জেদই লক্ষ্যে পৌঁছনোর সোপান
ডান হাত কেটে নিলেও বাম হাতে লেখা শুরু রেণুর, অদম্য জেদই লক্ষ্যে পৌঁছনোর সোপান
হাত কাটলেও কাড়া যায়নি রেণুর প্রাণশক্তি। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে ভর করেই জীবন যুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করে দিয়েছেন তিনি। তিনি যে কব্জি হারিয়েও দমবার পাত্রী নন, তা হাসপাতালের বেডে শুয়েই বুঝিয়ে দিলেন রেণু খাতুন। ডানহাতের কব্জি কেটে নেওয়ার পর বাম হাতেই লেখা শুরু করে দিলেন তিনি।

জীবন যুদ্ধে হার মানবেন না তিনি। সরকারি নার্সিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্বামীর আক্রোশের মুকে পড়ে ডান হাত হারাতে হয়েছে তাঁকে। একদিন পরেই হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুরু করলে বাম হাতে লেখার অনুশীলন। রেণু শুরু করলেন ঘুরে দাড়ানোর লড়াই। সমাজের বুকে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে।
স্বামীর নিসংসতায় শনিবার কাটা গেছে ডান হাতের কব্জি। তাতেও দমে যান নি তিনি। মঙ্গলবার থেকে বাঁ হাত দিয়ে লেখা শুরু করলেন তিনি। দুর্গাপুরের হাসপাতাল থেকে তাঁর নতুন লড়াই শুরু হয়ে গেল। সরকারি নার্সিংয়ের চাকরি তিনি করবেনই। মঙ্গলবারই স্বাস্থ্যদফতর থেকে রেণুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। রেণুর পাশে দাঁড়িয়েছেন সহকর্মীরা।
হাসপাতাল থেকেই নিজের জীবন যুদ্ধের কথা জানিয়ে রেণু কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন অভিযুক্তদের। তিনি তাঁর পলাতক স্বামী ও তার দুই বন্ধুর কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। রেণুর সহকর্মীরা এবং পরিবার-পরিজনেরাও দাঁড়িয়েছেন তাঁর পাশে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে তদন্তের ভিত্তিতে কেতুগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে রেণুর শ্বশুর ও শাশুড়িকে।
স্ত্রী নার্সিংয়ের সরকারি চাকরি পেয়ে ছেড়ে চলে যেতে পারে, সেই আতঙ্কে স্বামী বেছে নেয় নৃশংসতাকে। সরকারি চাকরি পাওয়া বন্ধ করতে স্ত্রীর হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার পরিকল্পনা করে সে। বন্ধুদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করে। মুকে বালিশ চাপা দিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডান হাতের কব্জি থেকে কেটে নেওয়া হয় হাত।
মধ্যয়ুগীয় এই বর্বর ও নৃশংস-কাণ্ডের পর পালিয়ে যায় স্বামী। কাটা হাত লুকিয়ে রাখে এংনকী রেণুর সমস্ত নথিও সে নিয়ে পালিয়ে যায়। নির্মন এই ঘটনার আকস্মিকতাও টলাতে পারেনি কেতুগ্রামের রেণু খাতুনের অদম্য জেদকে। দুর্গাপুরের শোভাপুর সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেণু এদিন বুঝিয়ে দেন জীবন যুদ্ধে তিনি জিতবেনই।
সরকারি নার্সিংয়ের চাকরির তালিকায় নাম বেরিয়েছিল রেণুর। তারপরেই ক্ষোভে বন্ধুদের নিয়ে রেণুর ডান হাতের কব্জি কেটে দিয়েছিল অভিযুক্ত স্বামী শের মহম্মদ ও তার দুই বন্ধু। হাতের কব্জি চলে গেলেও ভেঙে পড়েনি রেণু। রেণুর আবেদন স্বাস্থ্যদফতর এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তিনি যাতে চাকরিটা পান তার আবেদন জানান রেণু। সহকর্মীরা জানান, অত্যন্ত শক্ত মনের মেয়ে রেণু। রেণুর জেদই তাঁকে তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। জীবন-যুদ্ধে রেণু জিতবেনই, শাস্তি হবে অভিযুক্তদের।












Click it and Unblock the Notifications