স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা শুনে ভর্তি নিল না কোনও হাসপাতাল! ১৪ ঘণ্টা পর গাড়িতেই মৃত্যু
স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা শুনে ভর্তি নিল না কোনও হাসপাতাল! ১৪ ঘণ্টা পর গাড়িতেই মৃত্যু
স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও ভর্তি নিল না কোনও হাসপাতাল। একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হল রোগীর। ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে শেষমেশ মৃত্যুর দেশে পাড়ি দিল দুর্গাপুরের জব্বরপল্লির ওই রোগী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও কেউ ভর্তি নেয়নি, এই ঘটনায় ফের একবার প্রশ্নের মুখে পড়ল রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা।

স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করাবেন জেনে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি নিতে চায়নি রোগীকে। পাঁচ-পাঁচটি হাসপাতাল ঘুরেছে রোগীর পরিবার। শেষে কার্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন রোগী। শনিবার সকালে এমনই মর্মান্তিক ঘটনার স্বাক্ষী থেকেছে রাজ্য। দুর্গাপুরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ফিরিয়ে দিয়েছে রোগীকে।
শনিবার সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন পেশায় ঘড়ির দোকানি নির্মল মণ্ডল। তখন একটি মোটরবাইক তাঁকে ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হন নির্মল। তাঁকে চটজলদি তাঁকে দুর্গাপুরক মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে স্থানান্তর করা হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে গিয়েও রেহাই নেই রোগীর। তাঁকে সেখান থেকেও ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়।
বছর ৬২-র ওই বৃদ্ধের অবস্থা খুবই গুরুতর ছিল। সেই কারণ দেখিয়ে আরও ভালো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তাঁকে স্থানান্তর করে দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সুচিকিৎসা দেওয়ার জন্য পরিবারের লোক তারপর এক হাসপাতালে থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেছে আহত নির্মল মণ্ডলকে নিয়ে। একটির পর একটি হাসপাতালে ঘুরেও তাঁকে চিকিৎসা করানো যায়নি বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, স্বাস্থসাথী কার্ডে চিকিৎসা হবে শুনেই কোনও হাসপাতাল দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে ভর্তি নেয়নি। কার্যত বিনা চিকিৎসায় রবিবার ভোরে মৃত্যু হয় তাঁর। দুর্গাপুর থেকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, তারপর অনায়ম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় নির্মলকে। কিন্তু সেখানে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা হবে শুনেই হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ ভর্তি নিতে চায়নি। সেখান থেকে রোগীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, একে একে দুর্গাপুরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে শেষ মৃত্যু-শয্যায় ঢলে পড়েন নির্মল।
পরিবাররে তরফে জানানো হয়েছে, কোনও হাসাপাতাল চিকিৎসা করায়নি। গাড়িতে গাড়িতে ঘুরেছে সারা রাত। শেষে ভোরে গাড়িতেই তিনি মারা যান। এরপর মৃতদেহ নিয়ে জব্বলপল্লি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিজনরা। এরপর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুলিশ পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেন এবং রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসানোর আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।












Click it and Unblock the Notifications