সাগরদিঘি উপনির্বাচনের হারের কারণ কী? নিঝুম কার্যালয়ে পর্যালোচনায় ‘মনমরা’ তৃণমূল
সাগরদিঘিতে তৃণমূলের কার্যালয়ে তো বটেই, শুক্রবার প্রায় সব কার্যালয়ই প্রায় বন্ধ ছিল। তৃণমূল নেতা-কর্মী কারো মনে স্ফূর্তি নেই। রাজ্যের পরিবর্তনের পর এই প্রথম হার সাগরিদিঘি কেন্দ্রে, তা সহজে হজম করে উঠতে পারছেন না নেতারা।
টানা তিনবার যে কেন্দ্র থেকে জিতে আসছে তৃণমূল, সেখানে উপনির্বাচনে যে এভাবে হেরে বসতে হবে, তা কল্পনাও করেননি তৃণমূল নেতারা। কিন্তু সেটাই হয়েছে। সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের বায়রন বিশ্বাসের কাছে হেরেছেন তৃণমূল প্রার্থী। কিন্তু তাঁদের এই হারের কারণ কী? তা খুঁজতেই নিঃঝুম কার্যালয়ে বৈঠকে বসলেন তৃণমূল নেতারা।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই প্রথম এমন নিঝুম হয়ে রয়েছে তৃণমূলের কার্যালয়। সর্বত্র হার নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে। নেতারা একে অপরকে দুষছেন। শেষে হারের কারণ খুঁজতে শুক্রবার দলের উত্তর মুর্শিদাবাদ কার্যালয়ে বৈঠকে বসলেন জেলা নেতারা।

সাগরদিঘিতে তৃণমূলের কার্যালয়ে তো বটেই, শুক্রবার প্রায় সব কার্যালয়ই প্রায় বন্ধ ছিল। তৃণমূল নেতা-কর্মী কারো মনে স্ফূর্তি নেই। রাজ্যের পরিবর্তনের পর এই প্রথম হার সাগরিদিঘি কেন্দ্রে, তা সহজে হজম করে উঠতে পারছেন না নেতারা। তাই কেন হার, তা জানতে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি খলিলুর রহমান, খড়গ্রাম বিধায়ক আশিস মার্জিত, লালগোলার বিধায়ক মহম্মদ আলি-সহ জেলা তৃণমূলের নেতারা বৈঠকে বসলেন।
মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘি বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বৈঠকের পর নবগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক কানাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, এমন একজন জয়ী হলেন, যিনি কোনও কাজ করতে পারবেন না মানুষের জন্য। মুর্শিদাবাদ রঘুনাথগঞ্জে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃবৃন্দরা সাগরদিঘি বিধানসভায় পরাজয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে অজুহাত দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিনের মধ্যে দেখা যাবে যাদেরকে নিয়ে খেলার চেষ্টা করছে কংগ্রেস-সিপিএম, আগামীদিনে আসল রং প্রকাশ পেয়ে যাবে তাদের। বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। পঞ্চায়েত নির্বাচনে আগেই দেখা যাবে সব বেরিয়ে গেছে। সাগরদিঘি উপনির্বাচনে যেটা হয়েছে, তা অতীত। ভবিষ্যতে কী হবে, ফলাফল কেন আমাদের খারাপ হল, তা নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করলাম।
যাঁরা পর্যবেক্ষক ছিলেন, যাঁদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁদেরকে নিয়ে বৈঠক করা হল। পর্যালোচনা করা হল, রিপোর্ট তৈরি করে আমরা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠাবো। এরপর ফের রিভিউ মিটিং করা হবে। জেলা তৃণমূল বলছে, প্রচারে কোনো ঘাটতি ছিল না। তারপরও নির্বাচনে পরাজয় হয়েছে। তাই পরাজয়ের কারণ খোঁজা জরুরি।
ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী এই নির্বাচনে অনৈতিক জোট হয়েছে বলে জানিয়েছেন। সাগরদিঘিতে যে জোট হয়েছিল বিরোধীদের, তা আমারা যথাযথ সময়ে প্রমাণ করে দেবো। এ প্রসঙ্গে সাইদুর রহমানকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। সেখানে তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানানো হয়।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই হারের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানান তিনি। এলাকায় তৃণমূল প্রচুর উন্নয়ন করেছে। বিভিন্ন কাজ হয়েছে। বায়রন বিশ্বাস যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি কোনো কিছুই করতে পারবেন না। উন্নয়ন করতে গেলে তৃণমূল ছাড়া গতি নেই। মানুষ তৃণমূলের পক্ষেই রায় দেবে পঞ্চায়েতে।












Click it and Unblock the Notifications