Malda murders: ২০ বিঘা জমির উপর তৈরি আসিফের দুর্গ! রহস্যভেদ করতে ঘটনার তদন্তে এবার CID
শিউরে ওঠার মতো ঘটনা! ঠান্ডা পানীয়তে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নৃশংস খুনের ঘটনা। একসঙ্গে মা, বাবা, বোন এবং দিদাকে খুনের ঘটনায় কার্যত ঘুম উড়েছে মালদহবাসীর। কিছুতেই যেন বিশ্বাস করা যাচ্ছে না যে এলাকার আসিফ মহম্মদ এই ঘটনা ঘটাতে পারে
শিউরে ওঠার মতো ঘটনা! ঠান্ডা পানীয়তে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নৃশংস খুনের ঘটনা। একসঙ্গে মা, বাবা, বোন এবং দিদাকে খুনের ঘটনায় কার্যত ঘুম উড়েছে মালদহবাসীর। কিছুতেই যেন বিশ্বাস করা যাচ্ছে না যে এলাকার আসিফ মহম্মদ এই ঘটনা ঘটাতে পারে বলে। এই ঘটনার তদন্তে নামতে চলেছে সিআইডি।
আলাদা ভাবে সিট গঠন করে ঘটনার তদন্ত করছে মালদহ জেলা পুলিশ প্রশাসনও। তবে বেশ কয়েকটা বিষয় ক্রমশ চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে তদন্তকারীদের কাছে।

তদন্ত করছে সিআইডিও
ঘটনার ছোট নয়। অনেক গভীরে এর বিস্তার। এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্তে স্পেশাল তদন্তকারী দল তৈরি করেছে মালদহ জেলা পুলিশ প্রশাসন। আলাদা ভাবে এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত করছে সিআইডিও। ইতিমধ্যে ধৃত অভিযুক্ত আসিফ মহম্মদকে জেরা করেছে সিআইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। অন্য একটি সিআইডির টিম ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন। বাড়ির নকশা থেকে শুরু করে সুড়ঙ্গ পর্যন্ত তাঁরা ঘুরে দেখেছেন। তবে এদিন নতুন করে বাড়ির ভিতর থেকে প্রচুর পরিমাণে প্লাউড উদ্ধার করা হয়েছে। কি কারণে এই পরিমাণ প্লাউড জমিয়ে রাখা হয় তা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। তবে প্রাথমিক অনুমান, মৃহদেহগুলি ঢাকতে সম্ভবত বিশাল পরিমাণ প্লাউড ব্যবহার করা হয়।

বাড়ির নকশা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের
সুড়ঙ্গের উপর যে ঘর তৈরি করা হয়েছে তাতে কোনও দরজা-জানলা নেই। কেন এভাবে এই ঘর তৈরি করা হয়েছিল সেটাও ভাবাচ্ছে তদন্তকারী আধিকারিকদের। ইতিমধ্যে এই ঘর যে রাজমিস্ত্রি তৈরি করেছে তাঁর খোঁজ শুরু হয়েছে। কারণ এই ঘর তৈরি করতে কি কথাবার্তা হয়েছিল সেই সমস্ত বিষয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তদন্তে উঠে এসেছে যে, ওই ঘর নাকি ফায়ারিং রেঞ্জ তৈরি করার জন্যে বানানো হয়েছিল। গুলির আওয়াজ যাতে বাইরে না যায় সেজন্যে সমস্ত ফুটো আটকে দেওয়া হয়। আর সেই কারণে রাজমিস্ত্রীকে জেরা করার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সিআইডি।

হ্যাকিংয়ের কাছে পারদর্শী
অভিযুক্তকে জেরা করে একের পর এক তথ্য পাচ্ছেন আধিকারিকরা। অভিযুক্ত আসিফ হ্যাকিংয়ে পারদর্শী। একবার পুলিশ তাঁকে আটকও করে এই কাজ করার জন্য। কিন্তু এরপরেও সে এই কাজ চালিয়ে গিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এমণকি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধ।

বড়সড় আগ্নেয়াস্ত্রের ডিল!
মালদহ কান্ড ক্রমশ অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করেছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, ভয়াবহ এই হত্যাকান্ডের কয়েকদিন আগেই বড়সড় একটা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একটা ডিল হয়। আসিফের কাছে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র আসে। সেগুলি তাঁর এক বন্ধুর বাড়িতে সে রেখে আসে বলে জানাতে পেরেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ইতিমধ্যে আসিফের বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এই পরিমাণ অস্ত্র কীভাবে আসিফের কাছে এল সেটাই এখন বড় প্রশ্ন তদন্তকারীদের।

জেনে ফেলাতেই কি খুন!
আসিফের সঙ্গে কি কোনও জঙ্গিযোগ রয়েছে? সেটাই এখন ভাবাচ্ছে তদন্তকারী আধিকারিকদের। আর তা জেনে ফেলাতেই কি নৃশংস ভাবে খুন? উঠছে প্রশ্ন। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত জিয়াউলের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই আসিফের বাড়ি। কোনও ভাবে কি আসিফের সঙ্গে জিয়াউলের যোগাযোগ রয়েছে? যদিও অভিযুক্ত জিয়াইল এই মুহূর্তে জেলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। কিন্তু কোনও সময়ে জিয়াউলের সংস্পর্শে এসে জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন আসিফ? সম্ভাবনা এখনই উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তককারীরা। এই মুহূর্তের আসিফের বন্ধুদেরও জেরা করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications