বাংলাতেই নেপালি সংস্কৃতিতে পুজো হন উমা, পোশাকেও পড়শি সংস্কৃতি
সারা বাংলা জুড়ে চলছে উৎসব। মহা সমারোহে দুর্গাপুজোর আবাহন চলছে রাজ্যজুড়ে। কোথাও দেবীর মৃন্ময়ী রূপ। কোথাও থিমের পুজো। অষ্টমীর অঞ্জলী থেকে সন্ধিপুজো, সব কিছুই চলছে সংস্কৃত শ্লোক, শাস্ত্র মেনে।
এই রাজ্যেই আরও এক অন্য ধরনের পুজো হচ্ছে। দেবী দুর্গার পুজো হচ্ছে। কিন্তু সবটাই নেপালি নিয়ম, আচারে। দেবীর আদলেও যেন নেপালি এক ছাপ রয়েছে। কী ভাবতে অবাক লাগছে? ভাবছেন, এও আবার হয় না কী!

সত্যিই হয়। পুজো হচ্ছে নেপালি সংস্কৃতিতে। যারা পুজো করেন, তারা নেপালের বাসিন্দা ছিলেন। যে পুরোহিত পুজো করছেন, তিনিও নেপালি সংস্কৃতির মানুষ। এদিকে দুর্গাপুজো তাদের প্রাণে রয়েছে। ভারতবর্ষ তথা বাংলা যে বহু ভাষাভাষী, সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র। এ যেন আরও একবার তারই প্রমাণ।
দেবী দুর্গা পুজিত হচ্ছেন নেপালি সংস্কৃতিতে।কালচিনির ভারতীয় যুব সংঘে এলে দেখা যাবে এই ছবি। উত্তরবঙ্গের একটি অঞ্চল কালচিনি। নেপাল এই এলাকা থেকে খুব একটা দূর নয়। নেপালি সংস্কৃতির বহু মানুষ এখানে বসবাসও করেন। কালচিনির গোরে লাইন এলাকাতেই হচ্ছে দুর্গাপুজো। দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতীর মাথাতেও লাল রঙের ঘোমটার কাপড় দেওয়া হয়েছে।
দশভুজার পরনে রয়েছে নেপালি মহিলার পোশাক।লক্ষ্মী ও সরস্বতীর পরনেও রয়েছে একই ধরনের নেপালি মহিলার পোশাক। গয়নার ধরনেও রয়েছে চমক। মা ও দুই মেয়ের গায়ে, গলায় রয়েছে নেপালি ধাঁচের গয়না।
কার্তিক,গণেশকেও দেখা যাবে নেপালি পুরুষের পোশাকে। বাদ যাননি মহিষাসুরও। তার পরনে আবার বাঘছালের আসলে পোশাক। কার্তিক , গণেশের মাথায় রয়েছে ধাকা টুপি। সঙ্গে রয়েছে খুকরি। প্রত্যেকের মুখের আদলও সামান্য অন্য রকম।
এবারে এই পুজোর চার বছরে পড়ল। নেপালি সংস্কৃতিতে হচ্ছে এই দুর্গাপুজো। নেপালি পুরোহিত দিয়েই হয় পুজো। সম্পূর্ণ নেপালি সংস্কৃতির আদল দেখা যায় এই পুজোতে।
দেবাদিদেব মহাদেবকে স্থাপন করে পুজো হয় এখানে। এই পুজোয় দেবীকে নিবেদন করা হয় ১০৮ টি শালুক ফুল। এই পুজো কালচিনি গোরে লাইনের নেপালি সংস্কৃতির মানুষদের কাছে এক ভিন্ন আবেগ। পুরুষ ও মহিলারা নেপালি সংস্কৃতির পোশাক পরে এই পুজোতে অংশগ্রহণ করেন।












Click it and Unblock the Notifications