ফের নারী নির্যাতন বাংলায়, গৃহবধূর হাত - পা বেঁধে কাটা হল চুল
ভয়াবহ ঘটনা। মধ্যযুগীয় বর্বরতা৷ আবার নারী নির্যাতন এই বাংলায়৷ শ্বশুরবাড়িতে চরম নির্যাতনের শিকার হলেন এক গৃহবধূ। পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না৷ এই অভিযোগও সামনে আসছে৷ ঘটনাটি কোচবিহারে দিনহাটার।
মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে মাঝেমধ্যেই টাকা চাওয়া হয়৷ বাপের বাড়ি থেকে যেমন করে হোক টাকা এনে দিতে হত৷ মেয়ের দরিদ্র বাবার টাকা দেওয়ার সামর্থ নেই৷ এবার ওই বধূর হাত - পা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। ধান কাটার কাঁচি দিয়ে বধূর চুল কেটে দেওয়া হয়। ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

দিনহাটার ভেটাগুড়ি ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের বালাডাঙা এলাকার ঘটনা। এই ঘটনা আবারও মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে সামনে এনে দিয়েছে। সাত দিন আগে দিনহাটার মহিলা থানায় অভিযোগ জানানো হয়। এখনও অভিযুক্তরা অধরা। উচ্চ পর্যায়ে আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানানো হবে। এই কথা জানিয়েছেন ওই গৃহবধূ।
অত্যাচারিত ওই গৃহবধূ জানান, সাত দিন হয়ে গেলেও অভিযুক্তরা এখনও অধরা। প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে পুলিশের কাছ থেকে কোনওরকম সহযোগিতা পাচ্ছেন না। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।
আট বছর আগে ব্রহ্মানের চৌকি এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হয় ভেটাগুড়ির বালাডাঙার বাসিন্দা অভিজিৎ বর্মণের। বিয়ের সময় অভিজিৎ বর্মণের পরিবারের দাবি মতো যৌতুকও দেওয়া হয়। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই শুরু হয় নির্মম অত্যাচার।
স্বামী অভিজিৎ বর্মণই নয়। শাশুড়ি, পিসি শাশুড়ি, ননদও মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন চালাত। মাঝেমধ্যেই বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হত। টাকার দাবি পূরণ না হলেই কপালে জুটত মার। গত সাত দিন আগে নির্যাতন চরমে পৌঁছয়।
স্বামী এবং পরিবারের সকলে মিলে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর শুরু করে। এরপর ধান কাটার কাঁচি দিয়ে মাথা ন্যাড়া করা হয়। রাতে শ্বশুর তার হাত পায়ের দড়ি খুলে দেয়। কোনও মতে আড়াই কিলোমিটার দূরে বাপের বাড়িতে তিনি পৌঁছান। দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় চিকিৎসার জন্য।
প্রাথমিক সুস্থতার পর দিনহাটা মহিলা থানায়
স্বামী অভিজিৎ বর্মন ও শাশুড়ি, পিসি শাশুড়ি ও পিসতুতো ননদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সাত দিন হয়ে গেলেও এখনও অভিযুক্তরা পলাতক। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications