KLO প্রধান জীবন সিং-এর হুমকি ভিডিও-র জের, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফরে নিরাপত্তা জোরদার
পলাতক কেএলও (KLO) প্রধান জীবন সিং (Jiban Singh)-এর হুমকি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি বেঙ্গলি ওয়ান ইন্ডিয়া), যার জেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আসন্ন উত্তরবঙ্গ (North Bengal) সফরে নিরাপত্তা
পলাতক কেএলও (KLO) প্রধান জীবন সিং (Jiban Singh)-এর হুমকি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি বেঙ্গলি ওয়ান ইন্ডিয়া), যার জেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আসন্ন উত্তরবঙ্গ (North Bengal) সফরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জীবন সিংকে ওই ভিডিওতে পৃথক রাজ্যের দাবির পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে হুমকি দিতে শোনা গিয়েছে। তবে ভিডিওটি কবে রেকর্ড করা তা জানা যায়নি।

মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফর
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিমানে বাগডোগরা গিয়েছেন। সেখান থেকে হাসিমারায় যাওয়ার কথা। রাতে সেখানকার মালঙ্গী ফরেস্ট টুরিস্ট লজে থাকবেন। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে কর্মীসভা করবেন তিনি। রাতে ওই টুরিস্টলজেই থাকবেন। বুধবার তিনি আলিপুরদুয়ারের সুভাষিনী ফুটবল গ্রাউন্ডের একটি গণবিবাহ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর হাসিমারা থেকে হেলিকপ্টারে বাগডোগরা এবং সেখান থেকে বুধবার বিকেলে কলকাতায়।

জীবন সিং-এর সতর্কবার্তা
কেএলও প্রধান জীবন সিং-এর যে ভিডিও সামনে এসেছে, সেখানে তাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক করতে শোনা যাচ্ছে। তিনি বলছেন, কামতাপুর গঠন ঠেকাতে চেষ্টা করলে রক্তপাত হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যা জনগণেরবিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ করছে। মুখ্যমন্ত্রীকে সাবধান করে দিয়ে সে বলেছে, সাবধান কামতাপুরের মাটিতে পা রাখবেন না।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
ভিডিওটি কবে কোথায় তোলা তা জানা না গেলেও সেখানে কেএলও প্রধান জীবন সিংকে সামরিক পোশাকে দেখা গিয়েছে। তাকে ঘিরে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে জঙ্গিরা। এই ভিডিও সামনে আসার পরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, এমনটাই খবর সূত্রের। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর সফর সূচিতে থাকা এলাকাগুলিতে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা ও অসম থেকে একাধিক কেএলও জঙ্গি ও লিঙ্কম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে গত মাসে ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ধনকুমার বর্মনকে। অন্যদিকে অসমের ধুবরি থেকে গত এপ্রিলে তিনজন সন্দেহভাজন কেএলও জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কেএলওর লক্ষ্য কামতাপুর রাজ্য গঠন
১৯৯৫ সালে গঠিত হয় কেএলএ। কোচ-রাজবংশী সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক রাজ্যের দাবিতে তারা জঙ্গি হামলাও শুরু করেছিল একটা সময়ে। তবে আস্তে আস্তে তা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। অসমের উলফা জঙ্গিরা কেএলও জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেয়। কেএলওর টার্গেট হল উত্তরবঙ্গের ছটি জেলা এবং অসমের কিছু অংশ নিয়ে কামতাপুর রাজ্য গঠন করা।
রাজ্যের গোয়েন্দা কর্তা বলছেন, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে কেএলও নিজেদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর পিছনে রয়েছে কেন্দ্রের দুই প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং জন বার্লার আলাদা রাজ্যের প্রতি সমর্থন। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদও আলাদা রাজ্যের দাবিকে সমর্থন করেছেন। এছাড়াও গত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪ টি আসনের মধ্যে ৩০ টি আসন পাওয়া বিজেপির একাধিক বিধায়কও আলাদা রাজ্যের দাবিতে সুর মিলিয়েছেন। যদিও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের তরফে মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য আলাদা রাজ্যের দাবি থেকে দলকে দূরে সরিয়েছেন।
এদিন তিনি বলেছেন, বিজেপি বাংলা ভাগের দাবিকে সমর্থন করে না।












Click it and Unblock the Notifications