১৩দিন ধরে চলে মূর্শিদাবাদের ধূলিয়ান রাজবাড়ির ৩০০ বছরের পুরনো পুজো
বাঙালির শ্রেষ্ঠপুজো দুর্গোৎসব কড়া নাড়ছে দোরগোড়ায়। আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ করোনা আবহেও জানান দিয়ে যাচ্ছে শরৎকাল এসে গিয়েছে। সত্যিই দেশে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে পুজো আদৌও হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা গিয়েছিল। অবশেষ সব সংশয়ের অবসান ঘটিয়ে এ বছর দুর্গাপুজোপালন হচ্ছে তবে সরকারের দেওয়া বিধি–নিষেধ সব মেনে। বারোয়ারি ও থিম পুজোর পাশাপাশি রাজবাড়ির পুজোগুলিও কিন্তু প্রস্তুতি সারতে শুরু করে দিয়েছেন। তেমনি একটি পুজো হল মূর্শিদাবাদের ধূলিয়ান রাজবাড়ির ৩০০ বছরের দুর্গাপুজো।

ধূলিয়ান রাজবাড়িকে অনেকেই কাঞ্চনতলা রাজবাড়ি হিসাবে চেনে। লোকমুখে এই রাজবাড়ির ইতিহাস সম্পর্কে যা জানা যায়, এই রাজবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাঘবেন্দ্র নাথ রায়। তিনি ঢাকার বালুচি গ্রাম থেকে মূর্শিদাবাদের পারদাওনাপুরে এসেছিলেন এবং এখানে বসতি স্থাপন করেন। শোনা যায়, একবার তিনি নৌকা বিহারে বেড়িয়েছিলেন, সেউ সময় ধূলিয়ান শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এরপর তাঁর নজরে পড়ে কাঞ্চনতলা নামে একটি এলাকা, এটি ঠিক কাছিমের পিঠের মতো। অর্থাৎ এখানে জল দাঁড়াতে পারবে না। তিনি এখানেই রাজবাড়ি তৈরি করবেন বলে মনঃস্থির করেন। এরপর থেকেই এই রাজপরিবারে দুর্গাপুজো শুরু হয়। ৩০০ বছরের পুরনো এই পুজো আজও সেই একই জৌলুস ও রীতি–নিয়মের সঙ্গে পালন করা হয়।
রাঘবেন্দ্র নাথ রায়ের পরিবার ও গ্রামবাসীদের সহায়তায় এই পুজো এখন হয়। পরিবারের অনেকেই দেশের বাইরে থাকলেও পুজোর ক’টা দিন তাঁরা সকলেই এখানে চলে আসেন। তবে এ বছর অনেকেই আসতে পারবেন না করোনা মহামারির জন্য। এই রাজবাড়িতে পুজো চলে ১৩ দিন ধরে, রয়েছে বলিদান প্রথা। তবে দুর্গাপুজোর আগে মা গঙ্গার পুজো করাই এই পরিবারের রীতি। নির্দিষ্ট দিন থেকেই ধূলিয়ান রাজবাড়ির পুজো শুরু হয়ে যাবে বলে জানা গিয়েছে। প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।












Click it and Unblock the Notifications