বিষাদে মোড়া জগদ্ধাত্রী পুজো হোক বা মহুয়া বিতর্ক! ২০২০ সাল কেমন কাটল নদীয়াবাসীর
বিষাদে মোড়া জগদ্ধাত্রী পুজো হোক বা মহুয়া বিতর্ক! ২০২০ সাল কেমন কাটল নদীয়াবাসীর
শুরু থেকেও ছত্রে বিষাদের ছায়া ২০২০ সালের অলিতেগলিতে। এমনকী বছর শেষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও কমেনি আতঙ্কা। এদিকে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি করোনা মহামারীর হাত থেকে নিস্তার পায়নি নদীয়া জেলাও। যদিও করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই মারণ ভাইরাসকে ঠেকাতে কোমর বেঁধে মাঠে নামতে দেখা যায় নদীয়া জেলা প্রশাসনকে।

শুরু থেকেই শক্ত হাতে করোনা মোকাবিলায় নামে জেলা প্রশাসন
এমনকী করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তেই গোটা জেলাজুড়েই বিভিন্ন এলাকাকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তৈরি হয় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারও। এমনকী করোনা মোকাবিলায় প্রশাসনিক স্তরে কোনোরকম খামতি এড়াতে লাগাতার গোটা নদীয়া জেলা পরিদর্শন করেন জেলা শাসক সহ আরও একাধিক কর্তাব্যক্তিরা। মাঠে নামে পুলিশও।

করোনার কবলে মায়াপুরের বিখ্যাত ইস্কন মন্দির
এদিকে করোনার কবলে পড়ে নদীয়ার মায়াপুরের বিখ্যাত ইস্কন মন্দিরও। ৮৪ দিন বন্ধ থাকে মন্দিরের দরজা। নিষিদ্ধ ছিল জনসাধারণের প্রবেশাধিকার। শুধুমাত্র আরধ্য দেবদেবীর সেবার জন্য প্রবেশাধিকার মেলে সেবায়েতদেরই। এর বাইরে গোটা লকডাউন ও তার পরবর্তী সময়ে মন্দিরে পায়ের চাপ পড়েনি কোনও বহিরাগতের। যার জেরে এই লকডাউনেই দেখা জনশূন্য মায়পুরের স্মৃতি কথা অচিরেই ঠাঁই করে নেবে নদীয়ার মানুষের ইতিহাসের পাতায়।

২০২০ সালেই আরও ক্ষমতা বাড়ল কৃষ্ণনগরের সাংসদের
এদিকে চলতি বছরেই একাধিক রাজনৈতিক উত্থান-পতন দেখা যায় নদীয়ার রাজনৈতিক ময়দানে। এই বছরেই আরও ক্ষমতা বাড়ে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মিত্র। তাঁর কাধেই জেলা তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব তুলে দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। যদি তারপরেও যে মহুয়া মিত্রর জন্য বড়সড় বিপদ ঘন্টা বাজছিল তা কে বলতে পারে।

বিতর্কের মুখে মহুয়া মিত্র
বছর শেষের দোরগোড়ায় এসে প্রথমবারের জন্য দেশব্যাপী বিতর্কের মুখে পড়েন প্রতিবাদী মহুয়া। তৃণমূলের কর্মীসভায় মিডিয়ার উদ্দেশ্যে অবমাননাকর মন্তব্য করে গোটা রাজ্যের কাছেই খোরাক হন এই তৃণমূল সাংসদ। এমনকী রিপোর্টারদের উদ্দেশ্যে তাঁর করা ‘দু-পয়সার সাংবাদিক' মন্তব্যকে ঘিরে রীতিমতো জলঘোলা হয় রাজ্য-রাজনীতির ময়দানে। তাঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ।

করোনা ছাপ রাস-জগদ্ধাত্রী পুজোতেও
এদিকে করোনা সঙ্কটের ছায়া পড়েছিল কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপের রাস উৎসবেও। শান্তিপুরেও রাস উৎসবে মেতে উঠতে দেখা যায়নি সাধারণ মানুষকে। বিসর্জন, এমনকী শোভাযাত্রারও অনুমতি মেলেনি পুলিশের তরফে। এমনকী কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজোতেও একই প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। অন্যদিকে বছর শেষের মুখে এল বড়সড় দুঃসংবাদ। ডিসেম্বরেই চলে গেলেন বাংলা তথা নদীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক সুধীর চক্রবর্তী।












Click it and Unblock the Notifications