আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছেলেকে চাকরি করে দেওয়ার অভিযোগ! গ্রেফতার প্রধান শিক্ষক
শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একের পর এক দুর্নীতি সামনে এসেছে। লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে চাকরি করে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকি এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে একাধিক তৃণমূল নেতার। আর এর মধ্যেই বড়সড় দুর্নীতি ফাঁস
বেআইনি ভাবে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি! আর এর মধ্যেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই নিজের স্কুলেই ছেলেকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ। আর সেই অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আশিস তিওয়ারিকে গ্রেফতার করল সিআইডি। যিনি মুর্শিদাবাদের গোথা এআর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বলে জানা গিয়েছে।

আজ সোমবার সকাল থেকে দফায় দফায় জেরা করা হয় ওই ব্যক্তিকে। বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি পান তদন্তকারী আধিকারিকরা। আর এরপরেই গ্রেফতার করা হল আশিস তিওয়ারিকে। যদিও বড়সড় এই কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর থেকেই খোঁজ নেই ছেলে অনিমেষ তিওয়ারির। তাঁর খোঁজ চালাচ্ছে সিআইডির আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অনিমেশ গোথা এআর হাইস্কুলে ভুগোল পড়াতো। কিন্তু তাঁর চাকরি বেআইনি ভাবে হয়েছে। তথ্য জানার আইনে এমনই বিস্ফোরক তথ্য পান সোমা রায় বলে এক মহিলা। আর এরপরেই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মহিলা। বিচারপতি বিশ্বজিত বসুর এজলাসে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। সেখানে মহিলা অভিযোগ করেন যে, অনিমেশ বেআইনি ভাবে পড়াচ্ছে। তাঁর সুপারিশ কিংবা কোনও নিয়োগ পত্র নেই।
মামলার শুনানি চলাকালীন বিষয়টি মেনে নেয় স্কুল সার্ভিস কমিশনও। এমনকি যে বছর অনিমিষের স্কুলে নিয়োগ হয় সেই বছর কোনও নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষা হয়নি বলেও জানায় কমিশন। এরপরেই সরজমিনে তদন্তের জন্যে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত অনিমেশের স্কুলে ঢোকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। শুধু তাই নয়, বেতন বন্ধেরও নির্দেশ দেন বিচারপতি বিশ্বজিত বসু। কিন্তু কীভাবে তাঁর নিয়োগ হল সেটা প্রকাশ্যে আসাটা ছিল চ্যালেঞ্জের।
এমনকি এই বিষয়ে আদালত ডিআইয়ের কাছেও তথ্য চায়। সংশ্লিষ্ট ডিআইয়ের এই বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানায়। যদিও সিআইডি একেবারে গভীরে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। ডিআই সহ অফিসের সমস্ত কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিআইডির আধিকারিকরা। কিন্তু সেভাবে কোনও তথ্য সামনে আসেনি। তদন্ত চলাকালীন একাধিকবার স্কুলেও যান তদন্তকারীরা। একাধিকবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশিস তিওয়ারিকেও জেরা করেন তদন্তকারীরা। বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মিলছিল না। আজ সকাল থেকে ফের একবার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। আর সেই দীর্ঘ জেরাতেই আশিস তিওয়ারি সমস্ত তথ্য জানিয়েছেন বলে খবর। আর এরপরেই গ্রেফতার বলে জানা যাচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, ওই স্কুলে প্রধান শিক্ষক থাকাকালীনই অনিমেষের নিয়োগ হয়। সমস্ত কিছু জাল করেই বাবা ছেলেকে স্কুলে ঢুকিয়ে দেন বলেও জানতে পেরেছেন আধিকারিকরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications