বিশ্বকাপ ২০১৫: দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের মুখ্য ১০টি কারণ
মেলবোর্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারি: ১৩০ রানের বড় ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশ্বকাপের ম্যাচে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল 'মেন ইন ব্লু'। এম এস ধোনি নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল ৩ বারের হারের ধারা ভেঙে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। শুধু তাই নয়, এতদিন সেখানে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শুধু শচীন তেণ্ডুলকরের শতরানের রেকর্ড ছিল। এখন সেই তালিকায় উঠে এসেছেন শিখর ধাওয়ানও।
আরও পড়ুন : বিশ্বকাপ ২০১৫- দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩০ রানের ব্যবধানে চূর্ণ করল ভারত
ভারতের এই জয়ের পিছনে বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টর খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। যার মধ্যে ১০ টি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১) শিখর ধাওয়ানের সেরা রান ১৩৭। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একমাত্র শচীন তেন্ডুলকরের (২০১১ সালে) শতরান করার রেকর্ড ছিল। ধাওয়ান টুর্নামেন্টে পা রেখেছিলেন 'নন পারফরম্যান্সের' মানসিক চাপ নিয়ে। কিন্তু ধাওয়ানের ফর্মে ফেরাটাই দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হয়েছিল এদিন।
২) আজিঙ্কা রাহানের দ্রুত অর্ধশতরান করা। (৬০ বলে ৭৯ রান, ৪x৭, ৬x৩)। রাহানের স্ট্রাইক রেট ১৩১.৬৬ ছিল, যা অবশ্যই দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপাকে ফেলেছিল।
৩)দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণের মুখে পড়েও ভারতের ৩০০-র বেশি রান তোলা। বিশ্বের সেরা ফাস্ট বোলার ডালে স্টেনের বোলিং আক্রমণকে নস্যাৎ করে দেওয়া।
৪) শতাধিক রানের পার্টনারশিপের দুটি জুটি, প্রথম শিখর ধাওয়ান এবং বিরাট কোহলির (দ্বিতীয় উইকেটে ১২৭ রান ), দ্বিতীয়টি ধাওয়ান ও রাহানে (তৃতীয় উইকেটে ১২৫ পান)।
৫) দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবি ডিভিলিয়ার্সের ৩০ রানে রান আউট হওয়া। সেই সময় ডু প্লেসি এবং ডিভিলিয়ার্স মিলে বড় পার্টনারশিপ গড়ার দিকে যাচ্ছিল। এই জুটি বেশীক্ষণ বাইশ গজে টিকে থাকলে ভারতের কপালে দুঃখ ছিল। কিন্তু মোহিতের দুর্দান্ত থ্রোয়ে তা হয়নি। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে পরে অবশ্য ভারত অধিনায়কও ডিভিলিয়ার্সের রান আউটের উল্লেখ করেন।
৬) এদিন ভারতীয় দলের জয়ের পিছনে ভারতীয় ফিল্ডারদের ভূমিকা অনস্বীকার্য ছিল।

৭) ধোনির অধিনায়কত্ব এদিন অনবদ্য ছিল। এমনকী প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ধোনির উদ্ভাবনী শক্তির জন্য তাঁর প্রশংসা করেছেন।
৮) গুরুত্বপূর্ এই ম্যাচের টস জেতাটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। টসে জিতে প্রথম ব্যাট নিয়ে ৩০৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করে দেওয়াটা দলের মনোবল শক্ত করার ক্ষেত্রে কাজ করেছে।
৯) বোলারদের সফল হওয়া। সাধারণত বলা হয়ে থাকে ভারত যে ম্যাচ জেতে ব্যাটিংয়ের জোরেই জেতে। ভারতীয় বোলিং অপেক্ষাকৃত দুর্বল। তবে এদিন দৃশ্যটা অন্যরকম ছিল, মহম্মদ শামি, আর অশ্বিন, মোহিত সকলেই দুরন্ত বোলিং করেছেন।
১০) ভারতের জন্য মাঠে সমর্থন ছিল দেখার মতো। যা ভারতকে মানসিক দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। মাঠে প্রায় ৯০,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে অধিকাংশই 'মেন ইন ব্লু'-সমর্থনে। একবারও মনে হয়নি ভারত মেলবোর্নের মাঠে খেলছে। খেলোয়াড়রা অনুভব করেছে যেন তারা মুম্বইয়ে খেলছে। সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ধোনি।












Click it and Unblock the Notifications