দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণীর মন্দিরের আদলে মণ্ডপ, হিন্দু- মুসলিম দুই সম্প্রদায় পুজোর উদ্যোক্তা
ধর্মীয় বিভেদ তাদের মধ্যে নেই। হিন্দু, মুসলমান দ্বন্দ্ব তাদের মনে উঁকিও দেয় না। সেজন্য দুর্গাপুজোয় আনন্দে সামিল হয়েছেন এলাকার হিন্দু- মুসলমান সকল পরিবারের সদস্যরাই। শুধু তাই নয়, এবারের পুজোয় মণ্ডপ হয়েছে দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিনীর মন্দিরের আদলে।
৭৯ বছরের সম্পৃতি। পাঁশকুড়া ক্যানাল বাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির নাম বহু দূর পর্যন্ত প্রচারিত। তার অন্যতম পরিচিতি দুই ধর্মের অবস্থান। হিন্দু ও মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মানুষজনই একজোট হয়ে এই দুর্গাপুজো করে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে।

চলতি বছরে এই পুজো ৭৯ বছরে পদার্পণ করল। কখনও পুজো নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা হয়নি। দীর্ঘ ৭৯ বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন একত্রিত হয়ে পুজো করছেন। আর এখানেই তাদের আনন্দ। মুসলমানরাও এই পুজোকে তাদের অন্তরস্থলে রাখেন। চলতি বছর দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে বানিয়ে ফেলেছেন দক্ষিণেশ্বর মন্দির।
রানি রাশমনির ভবতারিণীর মন্দির হিন্দুদের মধ্যে অত্যন্ত পরিচিত৷ তবে এই মন্দিরে সব ধর্মের লোকজন আসার উপর ছাড়পত্র দেওয়া ছিল। সেই মন্দিরেই আদলেই এবার মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে এখানে। এই মণ্ডপের মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষের কাছে সাম্প্রদায়িক একতার সুপ্রশস্থ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। এমনই জানিয়েছেন, দুই ধর্মের মানুষজন।
এবার আগে আগেই মণ্ডপ সাধারণ মানুষদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ মণ্ডপ ও প্রতিমা দেখার জন্য হাজির হয়েছেন। সপ্তমী, অষ্টমীতেও প্রচুর দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন এই পুজো দেখার জন্য। অন্য এলাকার বাসিন্দাদের কাছেও এই পুজোর আকর্ষণ আছে।
কেবল দুর্গোৎসব নয়। মহরমের ক্ষেত্রে হিন্দু মুসলিম একত্রিত হয় বলে জানিয়েছে এই পুজো কমিটি। এবারে প্রতিমা সাবেকিয়ানায় মোড়া। পুজোর কটা দিন দুই ধর্মের মানুষ এক জায়গায় একত্রিত হয়ে সামাজিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেন।
দুর্গোৎসব উপভোগ করেন এখানের মানুষজন। ভোগ রান্না থেকে প্রসাদী ফল কাটা, সব কিছুতেই সকলে হাত লাগান। দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দির দেখতে বিগত দিনগুলিতে বহু মানুষ এসেছেন। বাকি পুজোর দিনগুলোতে প্রচুর মানুষের ঢল নামবে। এমনই মনে করছেন পুজো কমিটির সদস্যরা।












Click it and Unblock the Notifications