বিধায়ককেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি বাছলেন মমতা, ফের ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি উপেক্ষা
বিধায়ককেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি বাছলেন মমতা, ফের ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি উপেক্ষা
বিজেপির নবান্ন অভিযানের দিনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জেলা সফর শুরু করেছেন। আর তাঁর জেলা সফর শুরু হয়েছে দুই মেদিনীপুর থেকে। সোমবার খড়গপুরের সভা থেকেই তিনি ঘোষণা করলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতির নাম। পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে দলের এক বিধায়ককেই এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হল।

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাধিপতি কে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাধিপতি করা হচ্ছে উত্তম বারিককে। উত্তম বারিক পটাশপুরের বিধায়ক। তাঁর কাঁধেই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে এই গুরুভার। বছর ঘুরলেই পঞ্চায়েত ভোট। সেই নিরিখে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাধিপতি নির্বাচনের দিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের।

‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি উপেক্ষা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্ষেত্রে 'এক ব্যক্তি এক পদ' নীতি উপেক্ষা করেই পটাশপুরের বিধায়ক উত্তম বারিককে বেছে নিলেন জেলা সভাধিপতির আসনে। খড়গপুর শিল্পতালুকে এদিন পূর্ব মেদিনীপুরের নেতাদের নিয়ে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সভার পরই তিনি ঘোষণা করেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতির নাম।

বিধায়কের উপরই আস্থা রাখলেন মমতা
পটাশপুরের তৃণমূল বিধায়কের উপরই আস্থা রাখলেন মমতা। পঞ্চায়েত ভোটের আগে কোনওরকম ঝুঁকি তিনি নিতে চাইলেন না। ইতিমধ্যে কেটে গিয়েছে প্রায় চার মাস। জেলা পরিষদের সভাধিপতি নেই। অনেক কাজ আটকে রয়েছে। সামনে পঞ্চায়েত ভোটের আগে সেই কাজ সারতে হবে। তাই দক্ষ হাতেই তিনি ভার তুলে দিলেন। হাতে সময় মাত্র কয়েক মাস। তাই এই অবস্থায় তিনি আনকোরা কাউকে বেছে নিতে সাহস করলেন না বলেই বিশেষ সূত্রের খবর।

চার মাস পর মনোনীত নয়া সভাধিপতি
গত ১৮ মে প্রয়াত হয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরে জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তারপর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পরিষদের সভাধিপতির আসনটি ফাঁকা পড়েছিল। সম্প্রতি ঠিক হয়েছিল চার দিনের জেলা সফরে এসে নয়া সভাধিপতি কে হবেন, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিজেপির নবান্ন অভিযানের দিন মেদিনীপুরে মমতা
মঙ্গলবার ছিল বিজেপির নবান্ন অভিযান। মুখ্যমন্ত্রী সোমবারই চলে এসেছিলেন মেদিনীপুরে। মঙ্গলবার যখন বিজেপির নবান্ন অভিযানকে ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়ে কলকাতা ও হাওড়া, তখন মঙ্গলবার দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করেন। এই বৈঠক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেন। এরপর বুধবার তিনি তমলুকের নিমতৌড়িতে প্রশাসনিক সভা করবেন। সেই সভা থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প মেরিন ড্রাইভের।

বিজেপির বেলুন ফুটো, বললেন আশ্বস্ত মমতা
তারপর তিনি ফিরে আসবেন পশ্চিম মেদিনীপুরে। ১৫ সেপ্টেম্বর খড়গপুর শিল্পতালুকের স্টেডিয়ামে তিনি সাত হাজার যুবক-যুবতীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেবেন। মঙ্গলবার তিনি খড়গপুরের বৈঠক থেকেই বিজেপির নবান্ন অভিযান নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, এই নবান্ন অভিযান প্রমাণ করেছে বিজেপির বেলুন ফুটো হয়ে গিয়েছে, লোক হয়নি নবান্ন অভিযানে।












Click it and Unblock the Notifications