নজরে পূর্ব মেদিনীপুর, করোনা-আমফান ফাঁড়ার মাঝেও কেমন কাটল ২০২০
নজরে পূর্ব মেদিনীপুর, করোনা-আমফান ফাঁড়ার মাঝেও কেমন কাটল ২০২০
এখনও গোটা দেশের পাশাপাশি করোনার সঙ্গে যুঝঝে বাংলাও। এদিকে ২০২০ সালে রাজ্যের মাটিতে যে সমস্ত জেলাগুলিতে সর্বাধিক করোনা সংক্রমণ দেখা যায় তার মধ্যে শীর্ষ তালিকায় ছিল পূর্ব মেদিনীপুর। লাগাম ছাড়িয়েছিল পূর্বমেদিনীপুর জেলার আক্রান্তের সংখ্যাও। কিন্তু রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রশাসনিক মহলের আপ্রাণ চেষ্টায় অবশেষে খানিকটা হলেও মেলে সুফল।

করোনা মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখে জেলার এই কোভিড হাসপাতাল
করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই মহামারী ঠেকাতে বড়সড় ভূমিকা রাখে পাশকুরার কোভিড হাসপাতাল। এই হাসপাতালেই সুগঠিত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও ডাক্তারি পরিষেবার কারণে গত কয়েক মাসেই করোনা আক্রান্ত হয়েও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন অনেকে।

লকডাউন কার্যকর করতেও তৎপরতা বাড়ায় জেলা প্রশাসন
এদিকে মার্চের শেষভাগে যখন গোটা দেশে লকডাউন জারি করে সরকার তখন তা কড়া হাতে পালন করতে দেখা যায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলাপ্রশাসনকে। এমনকী লকডাউন অমান্যকারীদের কড়া শাস্তিও দিতে দেখা যায় জেলা পুলিশ। গোটা জেলা জুড়েই বাড়ানো হয় পুলিশি নজরদারি। বড় সংখ্যায় রাস্তায় নামেন সিভিক ভলেন্টিয়াররাও। অন্যদিকে করোনা রোগীদের সঠিক পরিষেবা পৌঁংছে দিতেও বড় ভূমিকা রাখে পুলিশ।

আমফানের ধ্বংসলীলায় তছনছ হয়ে যায় পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তৃর্ণ এলাকা
অন্যদিকে শুরু থেকেই বিষাদের ছায়া ২০২০ সালের ছত্রে ছত্রে। করোনা মহামারীর মাঝেই গোটা রাজ্যের বুকে নতুন ক্ষত তৈরি করে চলে যায় আমফান ঘূর্ণিঝড়। আর এই বিধ্বংসী ঝড়ে সব থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে রাজ্যের একাধিক উপকূলবর্তী এলাকা। সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি হয় দিঘা, কাঁথি সহ পূর্বমেদিনীপুরের বিস্তৃর্ণ এলাকার। ভেঙে অগুনতি কাঁচা বাড়ি, ব্যহত হয় ইলেকট্রিক পরিষেবা।

আমফান-দুর্নীতির অভিযোগ গোটা জেলাজুড়েই
অন্যদিকে আমফান সঙ্কট মোকাবিলায় কেন্দ্রের তরফে আর্থিক সহায়তা মিললেও তার বন্টন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয় রাজ্যের বিভিন্ন বিরোধী দলের তরফে। তা নিয়ে উত্তপ্ত হয় রাজ্য-রাজনীতি। দুর্নীতির অভিযোগ উঠে পূর্ব মেদিনীপুর জেলাজুড়েও। আর অভিযোগের তীর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই।

মার খায় দীঘার পর্যটন ব্যবসা
এদিকে করোনা লকডাউনের ফলে বড়সড় ধাক্কা খায় গোটা রাজ্য তথা দেশের পর্যটন শিল্পই। ধাক্কায় খায় দীঘা-শঙ্করপুরের পর্যটন ব্যবসায়। করোনা ভয়েই গত কয়েকমাস দীঘামুখী হতে দেখা যায়নি কোনও পর্যটককেই। তার জেরে রীতিমতো মার খায় দীঘা-শঙ্করপুরের হাজার হাজার হোটেল মালিকেরা। আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েন বাস মালিকেরাও। যদিও আনলক পর্ব শুরু হতেই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে সামগ্রিক পরিস্থিতি।












Click it and Unblock the Notifications