যারা আমাকে গালি দিচ্ছেন, তারা আমার মন্তব্যকেই মান্যতা দিচ্ছেন : আমির খান
নয়াদিল্লি, ২৬ নভেম্বর : শাহরুখ খান অসহিষ্ণুতা প্রশ্নে নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসলেও, নিজের বক্তব্যে অনড় মিস্টার পারফেকশনিস্ট। জানিয়ে দিলেন তা স্পষ্টই।
রামনাথ গোয়েঙ্কা সাংবাদিকতা পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমির খানের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড় গোটা দেশ। একদিকে শাসক জোটের আক্রমণ, অন্যদিকে বলিউডও দ্বিধাবিভক্ত। এই প্রসঙ্গে ফের একবার মুখ খুললেন আমির নিজে। বুধবার তিনি জানিয়ে দেন তিনি বা তাঁর স্ত্রী কিরণ কারোর ভারত ছাড়ার মনোবাঞ্ছা নেই। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, তবে তাঁকে যেভাবে অশালীনভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে তাতে তাঁর অহিষ্ণুতা মন্তব্যই মান্যতা পাচ্ছে।[স্ত্রী এমনকী ভয়ে দেশ ছাড়ারও পরামর্শ দিয়েছিলেন, অসহিষ্ণুতার প্রশ্নে মুখ খুললেন আমির খান!]

বুধবার আমির বলেন, "প্রথমেই আমি বলে দিতে চাই আমি বা আমার স্ত্রী কিরণ কারোরই এই দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনও মনোভাব নেই। আমরা কখনও তা করিনি, ভবিষ্যতেও করতে চাই না। যারা আমার মন্তব্যের উল্টো মানে ধরছেন তারা নয় আমার সাক্ষাৎকারটি পুরো দেখেননি আর নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে আমি যা বলেছি তার অপব্যাখ্যা করছেন।
ভারত আমার দেশ। আমি আমার দেশকে ভালবাসি। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান যে এই দেশে জন্ম আমার, এবং এখানেই বাস করি। আমি সেদিন সাক্ষাৎকারে যা যা বলেছিলান সেই একই বক্তব্য আমি এখনও দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।" [ভোলবদল কিং খানের! ভারতে অসহিষ্ণু কখনও বললেননি দাবি শাহরুখের!]
পাশাপশি আমির এও বলেন, "যারা আমায় দেশদ্রোহী বলছে, তাদের আমি বলতে চাই ভারতীয় হিসাবে আমি গর্বিত। তার জন্য আমার কারোর অনুমতি বা অনুমোদন লাগবে না। আমার মনের কথা বলার জন্য যারা আমাকে গালি দিচ্ছে, আমি দুঃখিত যে তারা আমার মতামতকেই মান্যতা দিচ্ছেন।"
অন্যদিকে যাঁরা আমিরের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের জন্য তিনি বলেন, "যারা আমার পাশে ছিলেন তাদের ধন্যবাদ। আমাদের সুন্দর ও অনন্য দেশকে রক্ষা করতে হবে যার জন্য এই দেশের নাম। এই দেশের ঐক্য, বৈচিত্র, অন্তর্ভুক্তিকরণ, এর ভাষাগুলি, সংস্কৃতি, ইতিহাস, সহিষ্ণুতা, ভালবাসা, সংবেদনশীলতা এবং মানসিক শক্তি এই সব রক্ষা করতে হবে।"
এরপরে নিজের বক্তব্য, রবীন্দ্র নাথের কবিতা দিয়ে শেষ করেন আমির, "চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির...."।
উল্লেখ্য সোমবার রামনাথ গোয়েঙ্কা সাংবাদিকতা পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমির সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, "আমি যখন বাড়িতে আমিরের সঙ্গে কথা বলি, ও বলে আমাদের কি ভারত ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত? দেশের অসহিষ্ণু পরিস্থিতিতে আমরা ভীত। এরপরই টুইটারে ট্রেন্ড করতে শুরু করেন আমির খান। বিভিন্ন মহল থেকে আমিরের মন্তব্যের সমালোচনা করা হয়।"












Click it and Unblock the Notifications