অমানবিক ঘটনা! পাণ্ডুয়া সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ডেই পড়ে থাকল মৃতদেহ, দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠল
এক অমানবিক ঘটনার নজির রইল পাণ্ডুয়ার হাসপাতালে। এক মৃত ব্যক্তির শরীর হাসপাতালের বিছানাতেই পড়ে থাকল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পরিবারের লোকজন ওই মৃতদেহ নিতে পর্যন্ত এল না!
সকাল পেরিয়ে দুপুর। দুপুর গড়িয়ে বিকেল৷ মৃতদেহ পড়ে থাকল হাসপাতালের পুরুষ রোগীদের ওয়ার্ডে। সম্ভবত পচন শুরু হওয়ায় শরীর থেকে কটূ গন্ধও বেরোতে দেখা যায়। অন্যান্য রোগীরাও অস্বস্তিতে পড়েন। কেউ কেউ বাইরের বারান্দায় এসে বসে থাকেন৷

কিন্তু সম্পূর্ণ উদাসীন থাকল কি করে পাণ্ডুয়া হাসপাতাল? এতক্ষণ ধরে কেন অন্যান্য রোগীদের মধ্যেই কেন পড়ে থাকল মৃতদেহ? কেন আগে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল না? সেই প্রশ্নও উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। মৃত্যুর খবর জানানো হয়। কিন্তু তারা আসেনি। পরে মোবাইল ফোনও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে মৃতদেহ নিয়ে গিয়েছে। লজ্জার ছবি ধরা পড়ল এই রাজ্যেরই সরকারি হাসপাতালে।
বুধবার পাণ্ডুয়া হাসপাতালে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত বেডেই পরে রইল মৃতদেহ। নিতে এল না কেউ। দূর্গন্ধ ছড়ানোয় অন্য রোগীরা পরিজনরা হইচই শুরু করে। পরে ব্যবস্থা নিল হাসপাতাল। পুলিশের সহযোগিতায় দেহ উদ্ধার করে পাঠানো হল চুঁচুড়া ইমামবারা হাসপাতালের মর্গে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, ত্রিবেনী শান্তি কলোনির বাসিন্দা চন্দ্রজিৎ অধিকারীকে (৬২) গত ২২ ডিসেম্বর ভর্তি করা হয়। দুপুর বারোটা নাগাদ শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হন বৃদ্ধ।পরিবারের লোকজন তাকে ভর্তি করে দিয়ে চলে যায়। আর তারা খোঁজ নিতে আসত না বলে অভিযোগ।
আজ সকালে তার মৃত্যু হয়। সেই থেকে হাসপাতালের বেডেই পরে থাকে মৃতদেহ। দেহে পচন ধরে দুর্গন্ধও বেরোতে থাকে বলেও অভিযোগ। শান্তনু আইচ নামে এক রোগীকে দেখা যায় বেড ছেড়ে হাসপাতালের বাইরে রয়েছেন। তিনি বলেন,দীর্ঘক্ষণ হয়েছে মৃত্যু হয়েছে। তাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি। দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। ওয়ার্ডে থাকা যাচ্ছে না। তাই বাইরে এসে দাঁড়িয়ে আছি।
রোগীর এক আত্মীয় কল্পনা দত্তের অভিযোগ, গন্ধে চিকিৎসা করাতে এসে আরও খারাপ হয়ে যাবে যে কোনও রোগী। আমরাও ওয়ার্ডে থাকতে পারিনি। অনেক বার বলা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। কোনও ব্যবস্থা নেয়নি তারা।
পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ মঞ্জুর আলম জানান, বৃদ্ধকে ভর্তি করে দিয়ে যাওয়ার পর আর সে ভাবে খোঁজখবর নেয়নি পরিবার। হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মীরাই দেখাশোনা করেছে। সকালে স্বাভাবিক মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের। তার ছেলে, জামাইকে ফোন করা হয়েছিল। তারা কেউ আসেনি। পরে ফোনও বন্ধ করে দেয়।পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়। দেহ চুঁচুড়া ইমামবারা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications