আইএসএল খেলতে কার কার কাছে দৌড়েছিল মোহন-ইস্ট, খবরে চাঞ্চল্য, কী বলছে দুই প্রধান
এআইএফএফ সূত্রের দাবি কর্পোরেট সংস্থাদের সঙ্গে মোহন-ইস্টের চুক্তির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তারা আইএসএলে খেলতে পাননি। কী বলছেন ময়দানের কর্মকর্তারা।
এই মরশুমে আইএসএলে খেলছে না ইস্টবেঙ্গল -মোহনবাগানের খেলা হচ্ছে না তা নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে কলকাতা ফুটবলের দুই প্রধানই নাকি তাবড় ব্যবসায়ী সংস্থা ও ধনীদের কাছে স্পনসরশিপ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেছিলেন। সেগুলো সফল না হওয়ার জন্যই নাকি খেলা হল না দুই প্রধানের। সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ফের সরগরম কলকাতা ফুটবল।[আরও পড়ুন:ভারতীয় ফুটবলের এ কোন বিজ্ঞাপন, দেশে এবার দুই জাতীয় লিগ]

ফুটবল স্পোর্টস ডেভলপমেন্ট লিমিটেডের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান কর্মকর্তারা। এই সংস্থাই এই মুহূর্তে ভারতে আইএসএল আয়োজন করে। ভারতের 'মিলিয়ন ডলার'ফুটবল টুর্নামেন্টে কী উপায়ে খেলা যায় তার সমাধান সূত্র বের করার চেষ্টা করেছেন।[আরও পড়ুন:আইএসএলে এটিকে নয়, মুম্বই সিটি এফসিকেই কিনতে আগ্রহী ম্যান সিটি]
সূত্রের মত গত এক বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় কথা চালিয়েছে দুই প্রধান। আইপিএলে কলকাতার ফ্রাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে কথা চালিয়েছিল মোহনবাগান। মোহন বাগান কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও হয় কেকেআর সিইও ভেঙ্কি মাইসোরের। কথা অনেক দূর এগোনোর পর মউয়ের খসড়া তৈরি করেন বাগান আইনজীবীরা। কিন্তু সেই খসড়াতে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেনি কোনও পক্ষই।

এরপর নাকি এআইএফএফ আসরে নেমেছিল মোহনবাগানের তরী পাড়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। ফরাসি এক কোম্পানির সঙ্গে কথাবার্তা এগোনোর পর বাগান নাকি নির্দিষ্ট সময়ে কাগজ জমা দেয়নি। ফলে সেই কথাও কার্যকারী হয়নি। অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতার সঙ্গেও কথা চলার পর কোনও রূপরেখা পাওয়া যায়নি।

একই ঘটনা নাকি ঘটে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গেও । টাটা স্টিলের সঙ্গে নাকি কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল লালহলুদের। টাটা স্টিল ভীষণভাবেই এই লিগে খেলতে চেয়েছিল, তাই লালহলুদের হাত ধরেই তারা মাঠে এসেছিল। ইস্টবেঙ্গল জার্সি , লোগো, ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট নিয়ে দু'পক্ষ ঐক্যমতে পৌঁছতে না পারায় চুক্তি হয়নি। শেষে টাটা স্টিল নিজেরাই আইএসএল খেলার জন্য দরপত্র তোলে।
এদিকে এই বিষয়ে কোনও রকম মন্তব্য করতে নারাজ মোহনবাগান কর্তৃপক্ষ। সবুজমেরুণের পক্ষ থেকে সহ সচিব সৃঞ্জয় বসু জানিয়েছেন ফ্রাঞ্চাইজি ফি দিয়ে মোহনবাগান কখনই খেলবে না। আইএসএলে খেলার বিভিন্ন শর্তের মধ্যে অনেক কিছুতেই মোহনবাগান নমনীয় হয়েছিল। এমনকি কলকাতার বাইরে কিছু ম্যাচ খেলতেও তাঁরা রাজি ছিলেন, কিন্তু ফ্রাঞ্চাইজি ফি দেওয়ার শর্তে কখনই তাঁরা সহমত ছিলেন না। তবে সৃঞ্জয় বসুর বক্তব্য,'আলোচনাতে সবরকম জট খুলতে পারে, ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে তাই আলোচনা চলা উচিত। খুব তাড়াতাড়ি এই জট খুলে যাবে।'

তবে ফুটবল স্পোর্টস ডেভলপমেন্ট লিমিটেডের এইসব তথ্যকে উড়িয়ে দিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল সচিব কল্যাণ মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, 'যাঁরা এই ধরণের কথা বলেছেন তাঁরা স্বকল্পিতভাবনা জানিয়েছেন। এটা পুরোপুরি মিথ্যে এবং এক বা একাধিক ব্যক্তির মস্তিষ্ক প্রসূত।' এর পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন ভারতীয় ফুটবলে এআইএফএফের কোনও বক্তব্য আর বেঁচে নেই, পুরোটাই 'হিজ মাস্টার্স ভয়েস , থুড়ি হার মাস্টার্স ভয়েস।'












Click it and Unblock the Notifications