ওয়াইএসআর কংগ্রেসের উত্থানের কাহিনী মনে পড়ায় মমতার তৃণমূল কংগ্রেসকে
মাত্র বছর আষ্টেক আগে দলটির দায়িত্বে আসেন অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডির পরিবার। শুরুর সেই দিনগুলি রেড্ডি পরিবারের জন্যে সুখকর ছিল না।
মাত্র বছর আষ্টেক আগে দলটির দায়িত্বে আসেন অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডির পরিবার। শুরুর সেই দিনগুলি রেড্ডি পরিবারের জন্যে সুখকর ছিল না। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ত্ব পরিবারবাদের নীতি মেনে চললেও পাশে রাজশেখরের পেশায় ব্যবসায়ী পুত্র ওয়াইএসআর জগন মোহন রেড্ডির রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়াটা মেনে নেয়নি। সেই নিয়ে জগনের সঙ্গে কম সংঘাত বাধেনি এবং ২০১০ সালে জগন ও তাঁর মা বিজয়লক্ষ্মী কংগ্রেস ত্যাগ করে ওয়াইএসআর কংগ্রেস নামক দলটির হাল ধরেন। তাঁদের দেখাদেখি প্রয়াত রাজশেখরের অনেক অনুগামীও সেই দলে আসেন এবং তার ফলে অন্ধ্রপ্রদেশে কংগ্রেস ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। এই গণ ইস্তফার ফলে প্রয়োজন হয়ে পরে উপ-নির্বাচনের এবং ২০১২ সালের জুন মাসে সম্পন্ন অন্ধ্রপ্রদেশের সেই উপনির্বাচনে ওয়াইএসআর কংগ্রেস ১৮টির মধ্যে ১৫টি আসনে জিতে বুঝিয়ে দেয় যে তারাও রাজ্য রাজনীতিতে একটি বড় শক্তি হতে চলেছে।

জগনের মতো মমতাও একদিন কংগ্রেসকে দূরে সরিয়েছিলেন
অনেকটা পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের মতোই যেন ওয়াইএসআর কংগ্রেসের উত্থান। তৃণমূল যেমন বামেদের ঘোর দাপটের যুগে জন্ম নিয়েছিল কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছিলেন কংগ্রেসের সঙ্গে থাকলে বামেদের সঙ্গে লড়াই কখনও জেতা যাবে না। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে নিজের দল তৈরী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রথম কয়েক বছরে বামেদের সঙ্গে পেরে না উঠতে পারলেও তৃণমূলের ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে ২০০৮-০৯ সাল নাগাদ থেকে, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম কাণ্ডের পর থেকে। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রথম বড় আকারে আত্মপ্রকাশ এবং তার দুই বছর পরে, কলকাতার মসনদে আসীন হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। সেই থেকে এই যাবৎ তৃণমূলকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে এই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির অভূতপূর্ব উত্থানের পরে কী হতে চলেছে রাজ্য রাজনীতিতে তা এখুনি অনুমান করা কঠিন।
তৃণমূলের মতোই লড়তে লড়তে উপরে উঠেছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস, হারিয়েছে বড় দলগুলিকে
তৃণমূলের মতো একইরকম ভাবে পথ হেঁটেছে ওয়াইএসআর কংগ্রেসও। ২০১৪ সালে তারা প্রথম বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। বিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের ১৭৫টি আসনের মধ্যে ৬৭টি পায় জগনের দল এবং লোকসভাতে ২৫টির মধ্যে ৯টি পায় তারা। ১০২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টি। আর এই সমস্ত ওয়াইএসআর কংগ্রেস করে দেখিয়েছে জগনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা এবং তাঁর ১৬ মাসের জেল হওয়ার পরেও। আস্তে আস্তে উপরে উঠে টিডিপি এবং কংগ্রেসের মতো বড় দলগুলিকে হারায় তারা।
চন্দ্রবাবু যখন নানা রাজনৈতিক প্যাঁচপয়জারে ব্যস্ত, তখন জগন একের পর এক পদযাত্রার কর্মসূচি নিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন; রাজ্যজুড়ে প্রভাববিস্তার করেছেন। আর তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত জনসংযোগের ফলস্বরূপ আজ অন্ধ্রপ্রদেশের তখন তাঁর নাগালে চলে এসেছে; চূড়ান্ত ভরাডুবি হয়েছে পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ চন্দ্রবাবুর।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গেও বামেদের ৩৪ বছরের দূর্গ ধসিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৩ বছরের তৃণমূল সেই একই কার্যসিদ্ধ করেছিল।












Click it and Unblock the Notifications