মণিপুরের রাজনীতিতে নারীদের যোগদান কোথায় দাঁড়িয়ে?
মণিপুরের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় হতে চলেছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৫ মার্চ এই রাজ্যে ভোট রয়েছে। এই মণিপুরের অনেক হাইলাইটগুলির মধ্যে একটি হল এশিয়ার সর্ববৃহৎ মহিলা পরিচালিত বাজার, যা ইম্ফলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। রাজ্যের মহিলারা যথেষ্ট সোচ্চার, তা মনোরমা দেবী ধর্ষণ কাণ্ডের জন্য 'নগ্ন’ আন্দোলন হোক অথবা মানবাধিকার কর্মী ইরম শর্মিলা, যিনি উত্তর-পূর্বে সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইন আফস্পা এর বিরুদ্ধে ১৬ বছরের অনশনে ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে প্রতিবেশী মেঘালয়ের খাসিরা বিশ্বের সর্বশেষ বিদ্যমান মাতৃতান্ত্রিক সমাজগুলির মধ্যে একটি। তবে এই সমৃদ্ধ ইতিহাস সত্ত্বেও উত্তরপূর্বের রাজনীতিতে মহিলা প্রতিনিধিদের হার যথেষ্ট কম।

৫২ শতাংশ মহিলাদের মধ্যে ভোটে লড়ছেন ১৭ জন
মণিপুরের জনসংখ্যার মধ্যে ৫২ শতাংশ যেখানে মহিলা, সেখানে মাত্র ১৭ জন (২৬৫ জনের মধ্যে ৬.৪২ শতাংশ) মহিলা প্রার্থী পুরো রাজনৈতিক দলগুলির হয়ে লড়ছেন। ১৭ জনের মধ্যে কংগ্রেসের প্রার্থী ৪ জন, শাসক বিজেপি দল ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) হয়ে লড়ছেন ৩ জন মহিলা প্রার্থী, সিপিআই, জনতা দল-সংযুক্ত ও স্থানীয় দলের হয়ে লড়ছেন একজন করে এবং ২ জন স্বাধীন প্রার্থী।

ইমা বাজারের মহিলাদের দৃষ্টিভঙ্গি
১৬ শতকের জোরপূর্বক শ্রম ব্যবস্থার অন্তর্গত, যেখানে পুরুষদের নিজেদের জায়গা ছেড়ে দূরে কাজে পাঠানো হত, সেই সময় এই বাজার তৈরি করেন ইমা অর্থাৎ মায়েরা। সকাল সাতটা থেকে প্রতিদিন এই বাজার শুরু হয়, চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। গত ২০ বছর ধরে এই বাজারে দোকান রয়েছে সুনীতার, তিনি বলেন, 'আমরা ভোর চারটের সময় উঠি এবং বাড়ির কাজকর্ম সেরে তারপর এখানে আসি এবং দোকান খুলি। আমরা এখানে জাবিকা অর্জনের জন্য আসি। আমরা রাজনীতি নিয়ে কীভাবে ভাবনাচিন্তা করব?' তবে শুধু সুনীতার একার নয়, এই বাজারে কর্মরত সকল মহিলারাই এটাই বিশ্বাস করেন যে তাঁদের চেয়ে পুরুষরা অধিকতর ভালো রাজনীতি বুঝতে পটু। ঝা শঙ্কর এ বিষয়ে বলেন, 'আমাদের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গিয়েছে এখন ইমা মার্কেট। এখানে ক্লান্তিকর কাজ করা এক জিনিস আর রাজনীতি আরেক জিনিস।। মহিলারা দুর্বল, তাঁরা কীভাবে নির্বাচনের সময় দৌড়ে বেড়াবেন।' পেশায় সাংবাদিক তরুণী তানিয় এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আমরা এটা বলতে পারি যে ধীরে হলেও মহিলাদের যোগদান রাজনীতিতে বাড়ছে। ২০১৬ সালে মাত্র ৩ শতাংশ মহিলা রাজনীতিতে অংশ নেন, সেখানে এখন সেটা ৬ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা আশা রাখব পরবর্তীকালে এটা আরও বাড়বে।'

কী বলছে রাজনীতি
মহিলা বিজেপি শাখার রাজ্য সভাপতি সারদা দেবী বলেন, 'সচেতনতা হল সবচেয়ে বড় সমস্যা। স্থানীয় সংগঠনে মহিলা প্রতিনিধি রয়েছেন। আমি নিশ্চিত যে রাজ্যস্তরেও তাঁরা এগিয়ে আসবেন।' বিজেপি নেত্রী লতিকা এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, 'আমি টিকিট চেয়েছিলাম কিন্তু তাঁরা আমায় দেননি, আমি যে কোনও জায়গা থেকে লড়তে প্রস্তুত ছিলাম।' মণিপুরে কংগ্রেসের দায়িত্বে থাকা ভক্ত চরণ দাস বলেন, 'প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে চাই।' মহিলাদের রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং বলেন, 'আমরা ৩টি আসনে মহিলাদের লড়ার জন্য দিয়েছি, এটা আস্তে আস্তে বাড়বে। এবার আমরা জয়ের যোগ্যতা এবং বিশ্বস্ততার উপর ফোকাস করছি।'

মহিলারা দুর্বল, মনে করেন রাজ্যের পুরুষরা
জনতা দল-একতা এবং প্রাক্তন পুলিশ তেজিন্দর বৃন্দা এ প্রসঙ্গে বলেন, 'নির্বাচেনর অর্থ হল অর্থ ও পেশী শক্তি, যেটা মহিলাদর কাছে নেই। এটা তাঁদের জন্য কঠিন। পুরুষরা তাঁদের সুযোগ ছাড়বেন না, এমনকী ইমা বাজারেও পুরুষ বিক্রেতা এখন রয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের আরও প্রতিনিধিত্ব থাকবে।' তাই বলা যেতে পারে রাজ্যের মহিলারা কেবল আশা করতেই পারেন যে ইমারা দায়িত্ব নেবেন এবং আবার সরকারে তাঁদের জায়গার জন্য লড়াই করবেন একদিন।












Click it and Unblock the Notifications