'মন-শুমারি আদরে' দর্শকদের কতটা কাছে টানতে পারল ' উড়নচণ্ডী'
কংক্রিট থেকে লাল মাটির পথই হোক কিংবা তার উল্টোটা... চলতে থাকতেই হয় । 'চলা' বন্ধ করলেই সব স্তব্ধ! প্রতিটি মানুষের চলার পথ নিজের মতো করে এক সফরের গল্প বলে। সেই সফরে যোগ হতে থাকে বহু অধ্যায়।
কংক্রিট থেকে লাল মাটির পথই হোক কিংবা তার উল্টোটা... চলতে থাকতেই হয় । 'চলা' বন্ধ করলেই সব স্তব্ধ! প্রতিটি মানুষের চলার পথ নিজের মতো করে এক সফরের গল্প বলে। সেই সফরে যোগ হতে থাকে বহু অধ্যায়। এক একটি অধ্যায় থাকে কিছু চরিত্র আর অভিজ্ঞতা। এই চরিত্র আর অভিজ্ঞতার মিশেলে 'উড়নচণ্ডী'-তে এক গল্প বলেছেন পরিচালক অভিষেক সাহা। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এন আইডিয়াজ ক্রিয়েশনাস এর ছবি 'উড়নচণ্ডী' কংক্রিটের নাভিঃশ্বাসে যেন সোঁদা মাটির প্রশান্তি নিয়ে এসেছে।

প্রেক্ষাপট
বিতে চারজন মানুষের গল্প বলা হয়েছে। যে গল্পে একটা বড় জায়গা করে নিয়েছে নারী স্বাধীনতার প্রসঙ্গ। ছবির গল্পের অন্যতম চরিত্র বিন্দি ( সুদীপ্তা) স্বামীর অত্যাচারের স্বীকার হয়ে সন্তানসম ছোট্টু ( অমর্ত্য)কে নিয়ে রওনা হয়েছেন উদ্দেশ্যহীনভাবে। সঙ্গে রয়েছে ছোট্টুর লরি। চলার পথে সঙ্গী হয় মিনু (রাজনন্দিনী)। বিয়ের আসর থেকে সোজা পালিয়ে যোগ দেয় পথচলতি বিন্দি ও ছোট্টুদের সঙ্গে। এদিকে, বৃদ্ধ বয়সের ছেলেদের কাছে 'বোঝা' হয়ে উঠছিলেন সাবিত্রী (চিত্রা সেন)। মিনু, বিন্দিদের সঙ্গে যোগ দেন তিনিও। শুরু হয় অচিনপুরের যাত্রা। শুরু হয় উড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখা। পথ চলে 'উড়নচণ্ডী'।

পরিচালনা
বাংলা চলচ্চিত্রে রোড-মুভির এক অন্য স্বাদ যোগ করেছেন অভিষেক। চার চরিত্র আর তাঁদের জীবনপঞ্জী অন্য ঘরানায় তুলে ধরেছেন অভিষেক। গল্পের বাঁধন, উপস্থাপনা প্রমাণ করে অভিষেক সাহাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারে বাংলা চলচ্চিত্র।

অভিনয়
সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও চিত্রা সেন এই ছবির অন্যতম পাওনা। ফের একবার চিত্রা সেনকে পাওয়া গেল চেনা ঘরানায়। সুদীপ্তাও নিজের একসো শতাংশ ঢেলে দিয়েছেন ছবিতে। উল্লেখযোগ্যভাবে নজর কেড়েছেন নবাগতা রাজনন্দিনী । অমর্ত্যও চরিত্র অনুযায়ী মানানসই।

সবশেষে
দেবজ্যোতি মিশ্রর সঙ্গীত পরিচালনায় এই ছবির গান লাল মাটির সোঁদা গন্ধ এনে দিয়েছে। সঙ্গে ছবির গল্পও যুগিয়েছে সতেজ বাতাস । সপ্তাহান্তের ক্লান্তি দূর করার পক্ষে যে বাতাস যথেষ্ট।












Click it and Unblock the Notifications