অলৌকিক শক্তির ওপর প্রেমের জয়, ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ বলবে ইশা–শিবার লাভস্টোরি
অলৌকিক শক্তির ওপর প্রেমের জয়, ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ বলবে ইশা–শিবার লাভস্টোরি
নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর উচ্চাকাঙ্খা কী তার একেবারে যথাযোগ্য উদাহরণ হতে পারে পরিচালক অয়ন মুখোপাধ্যায়ের ছবি 'ব্রহ্মাস্ত্র: পার্ট ওয়ান-শিবা'। দু'জনেই একে-অপরকে ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং এই উচ্চাকাঙ্খা ও কল্পনার সংমিশ্রণকে সুন্দরভাবে বড় পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য অবশ্যই পরিচালককে ধন্যবাদ দিতে হয়। সামগ্রিকভাবে সিনেমা দেখা একটি বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা, বেশিরভাগ সময় দর্শকরা সিনেমার একটি উপাদানকে অন্যটির চেয়ে বেশি পছন্দ করে। আর এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট রিয়্যাল লাইফ জুটিকে প্রথমবার রিল লাইফে কেমন মানিয়েছে এটা দেখতেই দর্শকদের প্রধানত সিনেমা হলে আসা। মার্ভেল স্টুডিওর সিনেমা বলুন বা হ্যারি পটার সিরিজের সিনেমা এবং লর্ড অফ দ্য রিংস সিরিজের ছবি, এসবের প্রভাবে গত আড়াই দশকে পুরো এক প্রজন্মের তরুণ দর্শক তৈরি হয়েছে। যাঁরা তাঁদের ঠাকুমা-দিদার কাছ থেকে শোনা রূপকথার কাহিনীগুলিকে বড় পর্দায় ফুটে উঠতে দেখেন। 'ব্রহ্মাস্ত্র' সেই শ্রেণীরই ছবি।

শক্তিশালী অস্ত্র ব্রহ্মাস্ত্র
পুরো বিষয়টিকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে আধুনিক যুগে, যেখানে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ব্রহ্মাস্ত্র নিয়ে বৃহৎভাবে ব্যাখা করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে প্রেমের গল্প, যা ভালো-মন্দের সংঘর্ষের মধ্যে পড়তে দেখা দেবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এই ছবিতে একজনের ইচ্ছা ও দায়িত্ববোধকেও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সিনেমার গল্প
হিন্দু পুরাণে, ব্রহ্মাস্ত্র এমন একটি অস্ত্র যা চালানোর পরে কখনও ব্যর্থ হয় না। দ্বাপর যুগে মহাভারতের সময় এর প্রয়োগ হয়েছিল। এটি একটি নিখুঁত অস্ত্র। এর প্রয়োগ বারবার হতে পারে। আর এটা একবার চালালে তা খালি হাতে ফেরে না। অয়ন অনাদিকাল থেকে এবং ব্রহ্মাস্ত্রের উৎপত্তি থেকে বর্তমান দিন পর্যন্ত গল্পের শেষের সন্ধান করে, এর রক্ষকদের একটি গোপন সম্প্রদায় গঠন করে, যেখানে বিজ্ঞানী মোহনের চরিত্র ধর্ম এবং বিজ্ঞান একত্রিত হয়। অন্ধকারের রানী মোহনের কাছ থেকে কিছু গোপনীয়তা শিখে এবং তাদের অনুসন্ধানের মাঝে শিব এবং ইশার প্রেমের গল্প আসে। সিনেমায় শিবা (রণবীর কাপুর) একজন ডিজে, যে নিজের শক্তি সম্পর্কে অবগত থাকলেও তা নিজের গভীরে চাপা দিয়ে রেখেছেন। একাকীত্বে ভোগা অনাথ শিবা ইশা (আলিয়া ভাট)-এর মধ্যে ভালোবাসা খুঁজে পান এবং স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে চান। যদিও তাঁর অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়তি তাঁকে শক্তি ও আবেগের রোমাঞ্চকর অভিযানে নিয়ে যায়।

সফল পরিচালক
পরিচালক হিসেবে অয়ন মুখোপাধ্যায় এমন একটা ছবি তৈরি করার চেষ্টা করেছেন, যেটা হিন্দি সিনেমা এখনকার পরিচালকরাও এই যুগে বানানোর সাহস করতে পারেননি। আসল পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে তৈরি প্রচুর সিনেমা রয়েছে। কিন্তু, এটি পৌরাণিক দৃশ্যকল্পে কাল্পনিক গল্প তৈরির একটি ভিন্ন ব্যবহার। পরিচালক মাইথোলজি-কমেডি-প্রেম-কল্পনা সব রঙকে একসঙ্গে মিশিয়ে পর্দায় যে রামধনু রঙ ফুটিয়ে তুলেছে তার প্রশংসা না করে আপনি থাকতে পারবেন না। একদিকে অভূতপূর্ব কাল্পনির দৃশ্যায়নের পাশাপাশি ইশা-শিবার প্রেমের রোম্যান্টিক দৃশ্য দশর্ককে আসনের সঙ্গে আঠার মতো সেঁটে রাখতে সহায়তা করবে। অয়ন পরিচালিত এই সিনেমার অবশ্য মূল ইউএসপি আলিয়া ও রণবীর, যাঁদের প্রেম শুরু হয় এই সিনেমার শুটের মাধ্যমেই এবং পরিণতি পায় সিনেমা মুক্তির কিছু মাস আগে।

অভিনয় অনবদ্য
সিনেমায় যে সব অভিনেতা-অভিনেত্রীরা রয়েছেন তাঁদের অভিনয় নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। রণবীর ও আলিয়া উভয়ই তাঁদের চরিত্র যথেষ্ট সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন পর্দায়। আর তাঁদের মিষ্টি রসায়ন দর্শকদের যে ভালো লাগবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে রণবীরের গুরুর চরিত্রে থাকা অমিতাভ বচ্চন অথবা নার্গাজুন আক্কেনেনির নন্দী অস্ত্রের চরিত্র তাও যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে জুনুন চরিত্রে মৌনী রায় আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছেন। বলিউড ভবিষ্যতে ভিলেন রূপে নতুন এক অভিনেত্রীকে পেতে চলেছে। তবে ক্যামিও চরিত্রে থাকা শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডিম্পল কাপাডিয়ার চরিত্রগুলি আর কিছুটা থাকলে ভালো হত।

ভিএফএক্স এফেক্ট
এই সিনেমায় ভিএফএক্সের দারুণ এফেক্ট দেখা গিয়েছে, যা পর্দায় না দেখলে বোঝা মুশকিল। কাল্পনিক জগতকে যে স্পেশাল এফেক্ট দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা মনে হয় না কোনওদিন বলিউডে কখনও হয়েছে। অন্যদিকে চিত্রনাট্য ও সংলাপও যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই সবমিলিয়ে বলা যায় সম্পূর্ণ বিনোদন পেতে আর আলিয়া-রণবীরের মিষ্টি রোম্যান্স দেখতে একবার হলেও এই সিনেমা দর্শকরা দেখতে যেতে পারেন। নিরাশ হবেন না।












Click it and Unblock the Notifications