বিহারে টলমল বিজেপি-জেডিইউ জোট সরকার, কী চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার

বিহারে টলমল বিজেপি-জেডিইউ জোট সরকার, কী চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার

বিজেপির সঙ্গে জোট করে বিহারের সরকার গড়েছিলেন জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার। কিন্তু দু-বছর যেতে না যেতেই কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির চাপে দমবন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাঁর। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে চাইছেন। তাই কি তিনি বিজেপি ছেড়ে ফের মহাজোটে ফিরতে চাইছেন। চাইছেন আরজেডি ও কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন সরকার গড়তে? বিজেপিও এখানে জেডিইউকে ভেঙে আর একটা মহারাষ্ট্র ঘটাতে চাইছে।

বিজেপিকে পাল্টা দেওয়ার লক্ষ্যে নীতীশ

বিজেপিকে পাল্টা দেওয়ার লক্ষ্যে নীতীশ

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার মঙ্গলবার তাঁর দল জেডিইউয়ের সমস্ত বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন। সম্প্রতি শীর্ষ জেডিইউ নেতা আপসিপি সিং দল ছেড়ে নীতীশ কুমারকে তিরস্কার করেছেন। তিনি বিজেপির ঘনিষ্ঠ, তাই তাঁকে নিয়ে বিজেপি বিহারকে মহারাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠে পড়েছে। এই অবস্থায় জেডিইউও বিজেপিকে পাল্টা দেওয়ার চেষ্টা করছে। নীতীশ কুমার বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি তৈরি বিজেপির মোকাবিলায়।

আরজেডি, কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে মহাজোট!

আরজেডি, কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে মহাজোট!

২০২৪-এর নির্বাচনের আগে তিনি যে প্রয়োজনে মহাজোটে ফিরতে তৈরি এবং প্রয়োজনে সরকার ভেঙে তিনি নতুন সরকার গড়ার উদ্যোগ নিতে পারেন, তেমন আভাস মিলেছে। সম্প্রতি কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তিনি ফোনে কথা বলেছেন। তারপর থেকে এমন জল্পনা শোনা যাচ্ছে। সেইমতো তিনি আবার যে বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে আরজেডি, কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে হাত মেলান কি না, সেটাই দেখার।

বিজেপির অভিষন্ধির জবাব দিতে তৈরি নীতীশ

বিজেপির অভিষন্ধির জবাব দিতে তৈরি নীতীশ

বিহারে বিজেপিকে ক্ষমতার বাইরে পাঠাতে বিরোধীরাও উৎসাহী। সেই কারণে বিরোধীরাও নীতীশ কুমারের সঙ্গে জোট বেঁধে বিজেপিকে ধরাশায়ী করতে পারে। বিহারকে মহারাষ্ট্র করা এত সহজে সম্ভব হবে না। আর সবথেকে বড় কথা বিহারে সর্ববৃহৎ দল আরজেডি। বিহারে সরকার ভেঙে গেলে আরজেডি প্রবল দাবিদার হয়ে উঠতে পারে ক্ষমতার। আর বিজেপির অভিষন্ধির জবাব দিতে নীতীশ কুমার এবার কড়া মনোভাব নিতে পারেন।

নীতীশ কুমার মাঝপথে ফের খেল দেখতে চাইছেন!

নীতীশ কুমার মাঝপথে ফের খেল দেখতে চাইছেন!

ঠিক যেমন মহাজোটের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নীতীশ কুমার মাঝপথে সরকার ভেঙে বিজেপির সমর্থনে সরকার গড়েছিলেন। আবারও সেই খেলা খেলতে পারেন তিনি। এই খেলায় তিনি ফের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ধরে রাখতে পারেন, আবার বিজেপিকে শায়েস্তা করতে পারেন। মহারাষ্ট্রে বিজেপি ছিল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। বিহারের কিন্তু বিজেপি বা জেডিইউ- কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নয়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ তেজস্বী যাদবের আরজেডি।

বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে পরবর্তী লক্ষ্যে নীতীশ

বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে পরবর্তী লক্ষ্যে নীতীশ

মঙ্গলবার বিহারের ক্ষেত্রে ছবিটা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। নীতীশ কুমার যে বিজেপির প্রতি বিরক্ত, তা তিনি রাখঢাক করছেন না, প্রকাশ্যেই তিনি বলে দিয়েছেন। সে কারণে তিনি নীতি আয়োগের বৈঠকেও যাননি। সম্প্রতি বিজেপি যে খেলা খেলতে শুরু করেছে বিহারে, তার জবাব দিতেই ভিতরে ভিতরে তৈরি হচ্ছেন নীতীশ কুমার। তারও আগে তিনি অমিত শাহের ডাকা বৈঠকেও যাননি। যাননি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে এবং নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও। তার আগে মোদীর ডাকা করোনাকালীন বৈঠকও তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

নীতীশ কুমারের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছে বিজেপি

নীতীশ কুমারের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছে বিজেপি

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে পারে কেন বিজেপির প্রতি এত বিরক্ত নীতীশ কুমার? বিজেপির একটা অংশ কিছুতেই নীতীশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মানতে পারছেন না। তাঁদের কথায় কেন, সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও জেডিইউকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ছাড়তে হবে? কেন তাঁদের দলের কেউ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। নীতীশ কুমার ছিলেন গোষিত মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী। কিন্তু বিজেপি তাঁকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না। বিজেপি ২০২৫ সালের নির্বাচনের আগেই নীতীশ কুমারকে সরিয়ে তাঁদের দলের মুখ্যমন্ত্রী চাইছে। তাই নীতীশ কুমারের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছে বিজেপি।

কেন্দ্রে মোদীর সরকারকে সমর্থনে অনীহা নীতীশের

কেন্দ্রে মোদীর সরকারকে সমর্থনে অনীহা নীতীশের

তারপর নীতীশ কুমারের আরও একটা হতাশার কারণ, বিহার বিধানসভার স্পিকারের তথা বিজেপি নেতা বিজয়কুমার সিনহার সঙ্গে তাঁর বনিবনা হচ্ছে না। তাঁকে সরাতেও পারছেন না নীতীশ কুমার। স্পিকার বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের কাজেই প্রশ্ন তুলছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করছেন। তারপর কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব প্রশ্নে বিজেপির সঙ্গে মতবিরোধী তৈরি হয়। নীতীশ চাইছিলেন না তাঁর দলের কেউ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় থাকুন। বিহারে তিনি বিজেপিতে নিয়ে সরকার চালালেও কেন্রে ্ তিনি বিজেপির শরিক হতে চাইছিলেন না। তাই আরসিপি সিংকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন তিনি। তিনি সম্প্রতি জেডিইউ ত্যাগ করেন। তারপর তিনি নীতীশ কুমারকেও তিরষ্কার করেন।

অস্বস্তির নাম চিরাগ, কিন্তু প্রতিপক্ষ তেজস্বী যে ভাতিজা

অস্বস্তির নাম চিরাগ, কিন্তু প্রতিপক্ষ তেজস্বী যে ভাতিজা

আর নীতীশ কুমারের আর একটা অস্বস্তির কারণ চিরাগ পাসোযান। তিনি এখন আবার বিজেপির খুব কাছের হতে শুরু করেছেন। রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলে এলজেপি নেতা চিরাগ পাটনায় বিজেপির মিটিংয়েও যোগ দেন। এইসব নানা কারণে নীতীশ কুমরা আবার মহাজোটের রাস্তা পরিষ্কার করতে চাইছেন। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সেই কারণেই তাঁর কথা হয় বলে বিশেষজ্ঞমহল মনে করছে। আর আরজেডি সুপ্রিমো তেজস্বীর সঙ্গে তো তাঁর চাচা-ভতিজার সম্পর্ক।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+