১২ বছর পেরোলেই মেয়েরা হয়ে যায় ছেলে! আজব এ গ্রামের কাহিনি বিস্ময়ের
আজব এ গ্রাম। মেযে হয়ে যায় ছেলে! এ গ্রামে কোনো মেয়ের বয়স ১২ বছর পেরোলেই বিপত্তি! অদ্ভুতভাবে পাল্টাতে থাকে তাঁর শারীরিক গঠন। ক্রমেই মেয়েটি রূপান্তরিত হতে থাকে ছেলেতে। ধীরে ধীরে একটি মেয়ে ছেলে হয়ে ওঠে।
এই ধরনের ঘটনা আজও ঘটে চলছে লাতিন আমেরিকার দ্বীপ রাষ্ট্র ডমিনিকান রিপাবলিকে। এই ডমিনিকান রিপাবলিকের দক্ষিণাংশে অবস্থিত সালিনাস গ্রামে কোনো মেযের বয়স ১২ বছর হওয়ার পর সে ছেলের মতো দেখতে হয়ে যায়। শুধু অবয়ব নয়, শারীরিকভাবেও বদলে যেতে থাকে তার গঠন।

কয়েকশো বছর ধরে এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে ওই গ্রামে। শুধু ১২ বছর পেরনোর অপেক্ষা। তারপর শারীরিক গঠন বদলাতে থাকে। মেয়ে ক্রমে ছেলে হতে শুরু করে। কেন হয় এমনটা? বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা চালায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এক ধরনের বিশেষ শারীরিক ত্রুটির কারণে গ্রামের মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন এক বিশেষ এনজাইমের অভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে গ্রামের মেয়েদের, প্রাথমিকভাবে এই ধারণা হয়।
১২ বছরের পর থেকে একটা মেয়ে ছেলে হতে শুরু করে। তাদের পুরুষাঙ্গ বাড়তে থাকে। ক্রমেই সে পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হয়ে যায়। মেয়ে হয়ে জন্মেছিল যে, সে যখন যৌবনে পা দেয়, তখন সে যুবক। কিন্তু কেন এমন ঘটছে, তা নিয়ে ভেবে আকুল বিশেষজ্ঞরা

১৯৭৯ সালে প্রথম এই বিষয়টি নজরে আনেন ডা. মাইকেল মোসলে। তিনি জানান, ডিহাইড্রো টেস্টোস্টেরন নামের একটি হরমোন গর্ভস্থ শিশুদের পুং জননাঙ্গ পরিস্ফুট হয়। এক বিশেষ ধরনের এনজাইম এই হরমোনকে আবার সক্রিয় করে তোলে। ফলে ১২ বছরের পর মেয়ে হয়ে ওঠে ছেলে।
তিনি বলেন, সালিনাস গ্রামের মায়েদের গর্ভকালীন পুষ্টির অভাবের কারণে এই এনজাইম তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্ষরণ হতে পারে না। ফলে পুরুষ শিশুদের পুরুষাঙ্গ জন্মের সময় ঠিকমতো গজায় না। তার ফলে তাদের মেয়েদের মতো লাগে। অর্থাৎ তারা আসলে পুরুষ শিশু।
ডা. মাইকেল মোসলে আসলে যেটা বলেন, সেটা হল- মেয়েরা পুরুষ হয়ে যায় না। পুরুষ শিশুরাই মেয়েদের মতো হয়ে জন্মায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য এক অন্য পন্থা নিয়েছেন ওই গ্রামের বাসিন্দারা। অন্য গ্রামে বিয়ে করে এই সমস্যা কিছুটা মিটেছে। এই গ্রাম ধীরে ধীরে সুস্থ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।












Click it and Unblock the Notifications