রাশিয়ার তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার ছাড় আরও ৩০ দিন বাড়াল আমেরিকা, বড় লাভ ভারতের
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার ঘোষণা করেছেন যে, বেশ কয়েকটি দেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ান সমুদ্রবাহিত তেলের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মকুবের মেয়াদ ৩০ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশগুলো রাশিয়া থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে।
এতে প্রধান রাশিয়ান তেল সংস্থাগুলির উপর জারি কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন না করেই ট্যাঙ্কারগুলিতে আটকে পড়া রাশিয়ান তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যে অস্থায়ী প্রবেশাধিকার মিলবে।

ওয়াশিংটন মূলত এই ছাড় চালু করেছিল মার্কিন-ইজরায়েলি অভিযানের সময় ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় সৃষ্ট তেলের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায়। তবে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম কমাতে এটি খুব একটা কার্যকর হয়নি।
স্কট বেসেন্ট বলেন, "মার্কিন ট্রেজারি একটি অস্থায়ী ৩০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স জারি করছে, যার মাধ্যমে সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলো বর্তমানে সমুদ্রে আটকে পড়া রাশিয়ান তেল অস্থায়ীভাবে পেতে পারবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এই সম্প্রসারণ অতিরিক্ত নমনীয়তা প্রদান করবে, এবং আমরা এই দেশগুলোর সাথে কাজ করে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট লাইসেন্স প্রদান করব। এই সাধারণ লাইসেন্সটি অপরিশোধিত তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে এবং নিশ্চিত করবে তেল সবচেয়ে জ্বালানি-সংকটাপন্ন দেশগুলিতে পৌঁছায়। এটি চিনের ছাড়যুক্ত তেল মজুত করার ক্ষমতা হ্রাস করে সবচেয়ে অভাবী দেশগুলিতে বিদ্যমান সরবরাহ পুনর্নির্দেশ করতেও সহায়তা করবে।"
ট্রেজারি বিভাগ এই নিয়ে দ্বিতীয়বার নিষেধাজ্ঞা মকুবের মেয়াদ বাড়াল। গত মার্চে প্রথম চালু হওয়া এই মকুবের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের উপর মার্কিন-ইজরায়েলি আক্রমণের ফলে সৃষ্ট সরবরাহ বিঘ্ন ও মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা।
যদিও এই পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে খুব একটা কার্যকর না হলেও, এর অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী ভারত যথেষ্ট লাভবান হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ছাড় কার্যকরের পর ভারত প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান তেল আমদানি করেছে। পূর্বে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজসহ ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলি রোসনেফট ও লুকোয়েলের মতো রাশিয়ান জ্বালানি সংস্থাগুলি থেকে ক্রয় কমিয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications