পাহাড় জুড়ে কেবল পাখি, ফাগুনের রঙে রঙিন কলকাতার কাছেই রয়েছে সেই পাখি পাহাড়
সপ্তাহান্তের ছুটিতে বেড়িয়ে আসুন কলকাতার কাছেই পাখি পাহাড় থেকে
পাহাড় তো অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু পাখি পাহাড় কি দেখেছেন কেউ। অথচ কলকাতার কাছেই রয়েছে সেই পাহাড়। আর বসন্তে তো আরও রঙিন হয়ে ওঠে সেই পাহাড়। সপ্তাহান্তের ছুটিতে অনায়াসেই বেড়িয়ে আসা যায় সেই পাখি পাহাড় থেকে। তাহলে আর দেরি না করে ব্যাগ গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন পাখি পাহাড়ের সন্ধানে। নতুন এক অ্যাডভেঞ্চার।

কোথায় আছে পাখি পাহাড়
কলকাতার একেবারে কাছেই রয়েছে পাখি পাহাড়। পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত। বসন্তের ছুটিতেই অনেকেই পুরুলিয়ায় বেড়াতে যান। কেউ যান অযোধ্যা পাহড়ে। কেউ যান মুরুগুমা ড্যাম দেখতে। কিন্তু পাখি পাহাড়ের কথা অনেকেই জানেন না। অথচ এই পুরুলিয়াতেই রয়েছে পাখি পাহাড়। এই পাহাড়ের আসন নাম মুরাবুরু পাহাড়। অযোধ্যা পাহাড়ের মত বড় না হলেও। সেটা কম বড় নয়। এই পাহাড়ই এখন পাখি পাহাড় নামে পরিচিত। যদিও এই অফবিট পর্যটন কেন্দ্রটির একটা আলাদা মাধুর্য রয়েছে।

পাখি পাহাড়ের ইতিহাস
পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি জেলায় রয়েছে এই পাখি পাহাড় বা মুরাবুরু পাহাড়। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় মুরাবুরু পাহাড়টি কীভাগে পাখি পাহাড় হয়ে উঠল তার একটা ইতিহাস রয়েছে। সেই ইতিহাস কিন্তু খুব বেশি প্রাচীণ না। এই মুরাবুরু পাহাড়টিকে পাখি পাহাড় গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৯৪ সালে বিখ্যাত শিল্পী চিত্ত দে-র হাত ধরে। প্রকৃতির প্রতি অগাধ ভালবাসা ছিল শিল্পীর। নিজের শিল্প ভাবনাকে রূপ দিতে তিন বছরের বেশি সময় ধরে অনুসন্ধানের পর এই পাহাড়টিকে পছন্দ করেছিলেন তিনি। বনদফতরের কাছে পাহাড়টি খোদাই করার জন্য অনুমতি চান তিনি। প্রথমে হাসি ঠাট্টা করে অনেকেই বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছিলেন। শেষে ১৯৯৫ সালে অনুমতি দেয় বনদফতর।

কীভাবে গড়ে ওঠে পাকি পাহাড়
নিজের কিছু ছাত্র এবং স্থানীয় আদিবাসী শিল্পীদের নিয়ে পাখি পাহাড়টি তৈরি করেছিলেন শিল্পী। পাথরের গায়ে ফুটিয়ে তুলেছিলেন সব পাখির ভাস্কর্য। পাথর খোদাই করে একেকটি পাখরে একেক রকম পাখির অবয়ব তৈরি করা হয়। তিন বছর সময় েলগেছিল তাঁর এই স্বপ্ন পূরণ করতে। রক কার্ভিং করে তৈরি করা হয় একেক রকম পাখির পাহাড়। শাল-পিয়ালের জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যেতে হয় সেই পাখি পাহাড়। জঙ্গলের মধ্যে এমন একটি শিল্পসৃষ্টি মুগ্ধ করবে সকলকে। দূর থেকে এই পাহাড়ের পাখি দেখা যায়।

কীভাবে যাবেন
শিল্পীর শিল্পভাবনা দেখতে ট্রেন বা গাড়ি উভয় পথেই যাওয়া যায়। নিকটবর্তী রেলস্টেশন বরাভূম।হাওড়া থেকে চক্রধরপুর এক্সপ্রেস বরাভূম স্টেশনে নেমে পড়ুন। সেখান গাড়ি রিজার্ভ করেচলে আসা যায় এই পাখি পাহাড়ে। বসন্তে আরও রঙিন হয়ে যায় পাখি পাহাড়। পাখি পাহাড় দেখে চলে যেতে পারেন অযোধ্যা পাহাড়ে অথবা গড় পঞ্চকোটে। সেখানেও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications