আয়না কিন্তু তাতে মুখ দেখা যায় না, ছুটি কাটিয়ে আসুন এমনই আশ্চর্য জিনিসে ভরা জগৎ শেঠের প্রাসাদে

ব্রিটিশদেরও টাকা ধার দিতেন জগৎ শেঠ। িসরাজউদদৌল্লার জগৎ শেঠের কাছে টাকা ধার করতেন

মুর্শিদাবাদ জেলার পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। নবাবি মুর্শিদাবাদ যাঁর কাছে হার মানত তিনি জগৎ শেঠ। তাঁর সম্পদের কোনও হিসাব ছিল না। যিনি ব্রিটিশদেরও টাকা ধার দিতেন। শোনা যায় তিনিই পলাশি যুদ্ধে অর্থ সাহায্য করে ছিলেন। এখন টিকিট কেটে দেখতে হয় সেই প্রাসাদ। কলকাতার কাছেই একদিনের ছুটিতে বেড়িয়ে আসা যায়।

কে ছিলেন জগৎ শেঠ

কে ছিলেন জগৎ শেঠ

বাংলার শ্রেষ্ঠ ধনীদের তালিকায় যাঁর নাম সবার আগে আসে তিনিই জগৎ শেষ। তাঁকে নিয়ে প্রবাদও আছে অনেক। জগৎ শেঠরা আসলে ছিলেন রাজস্থানের বাসিন্দা। তাঁর জৈন ছিলেন। পরে বাংলায় এসে বৈষ্ণব ধর্ম নিয়েছিলেন। বাংলার তৎকালীন রাজধানী মুর্শিদাবাদ ছিল তাঁদের বাসস্থান। শোনা যায় জগৎ শেঠের পূর্বপূরষ হীরানন্দ ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র। তিনি এক মরণাপন্ন বৃদ্ধের সেবা করেছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে গুপ্তধনের হদিশ পেয়েছিলেন সেই গুপ্তধনের দৌলতেই বিপুল ধনী হয়ে ওঠে তাঁর পরিবার। হীরানন্দের কনিষ্ঠপুত্র ছিলেন জগৎ শেঠের বংশের প্রতিষ্ঠাতা।

জগৎ শেঠ আসলে উপাধি

জগৎ শেঠ আসলে উপাধি

জগৎ শেঠ আসলে কোনও নাম ন উপাধি। সেটি পেয়েছিলেন তাঁর বংশের প্রতিষ্ঠাতা হীরানন্দের ছেলে মানিক চাঁদ। মূলত তেজারতির ব্যবসা ছিল তাঁর। মুর্শিদ কুলি খাঁর কাছ থেকে জমি কিনে মুর্শিদাবাদে গঙ্গার পাড়ে এই প্রাসাদটি তৈরি করেছিলেন তিনি। মানিক চাঁদের পুত্র ছিল না তিনি ভাগ্নে ফতেচাঁদকে দত্তক নিয়েছিলেন। তিনিই পরে জগৎ শেঠ নামে প্রসিদ্ধ হন। জগৎ শেঠদের গদিতে নাকি সবসময় ১০ কোটি টাকা মজুত থাকত। এতটাই সম্পত্তি ছিল তাঁদের। এই জগৎ শেঠরাই একসময় বাংলার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন।

মুর্শিদাবাদে রয়েছে সেই জগৎ শেঠের প্রাসাদ

মুর্শিদাবাদে রয়েছে সেই জগৎ শেঠের প্রাসাদ

মুর্শিদাবাদে রয়েছে সেই জগৎ শেঠের প্রাসাদ। সেখানে এখন মিউজিয়ামে পরিণত হয়েছে। টিকিট কেটে দেখা যায় সেই জগৎ শেঠের বাড়িতে। তিনি যে বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেন সেটা এখনও এই প্রাসাদে এলেই পৌঁছে যাওয়া যায়। এই প্রাসাদে একাধিক বহুমূল্য জিনিস এখনও রয়েছে। রয়েছে গুপ্তঘর। যেখানে নিজের ধনসম্পদ লুকিয়ে রাখতেন জগৎ শেঠ। এই মিউজিয়ামেই রয়েছে এমন একটি আয়না যাতে নিজের মুখ দেখা যায় না।

কীভাবে যাবেন

কীভাবে যাবেন

এখানে যেতে হলে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বা বাসে পৌঁছে যেতে হবে মুর্শিদাবাদ। বহরমপুরে রয়েছে জগৎ শেঠের সেই প্রাসাদ। একেবারে গঙ্গার পাড়ে। ছুটির দিন ছাড়া প্রায় সবদিনই খোলা থাকে প্রাসাদটি। অনায়াসেই সেখানে আসা যায়। থাকার জায়গাও রয়েছে। গাড়িতেও করে আসা যায় এখানে। শুধু জগৎ শেঠের বাড়ি নয়। মুর্শিদবাদে অনেক ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে দেখার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+