অমানবিকতার ছবি শহরে! প্রায় ৪৮ ঘন্টা পড়ে রইল করোনা আক্রান্তের দেহ, হন্যে হয়ে ঘুরল পরিবার

দীর্ঘ প্রায় ৪৮ ঘন্টারও বেশি পার হয়ে গেলেও মৃত কোভিড রোগীর দেহ সৎকার না হওয়ার অভিযোগ! এমনই মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল হাওড়ায়। শেষে প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতির সমাধান হয়।

দীর্ঘ প্রায় ৪৮ ঘন্টারও বেশি পার হয়ে গেলেও মৃত কোভিড রোগীর দেহ সৎকার না হওয়ার অভিযোগ! এমনই মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল হাওড়ায়।

শেষে প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতির সমাধান হয়। দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রায় ৪৮ ঘন্টা পড়ে রইল করোনা আক্রান্তের দেহ,

জানা গিয়েছে, বেলুড়ের এক ব্যক্তি শনিবার দুপুরে লিলুয়ার রেল হাসপাতালে মারা যান। কিন্তু তারপর থেকে দেহ সৎকার কারা করবে সেই নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয় বলে অভিযোগ।

দেহটি ওইভাবেই পড়ে থাকার অভিযোগ ওঠে। এর জেরে মৃতের কন্যা বাবার দেহ সৎকারের আশায় বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করতে থাকেন।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রচুর টাকা দাবি করে। ফলে সেই অ্যাম্বুলেন্স ডাকা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি বলেই অভিযোগ।

অন্যদিকে মৃতের আত্মীয় শত্রুঘ্ন পন্ডিত জানান, তাঁর শ্বশুরের মৃতদেহ এত ঘন্টা ধরে পড়েছিল ওই হাসপাতালে। কিন্তু সৎকারের কোনও ব্যবস্থা করা হচ্ছিল না। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

পালটা তাঁদের দাবি, উল্টে আমাদের ফোন করে জানানো হয় পুরনিগম থেকে কোনও অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হচ্ছে না। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করে মৃতদেহ নিয়ে যেতে তারা বলেন।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে মৃতের মেয়ে কমলিকা বাইন জানান, তাঁর বাবার কোভিড হয়েছিল। ফুসফুস নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে লিলুয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে আসা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মারা যান।

হাসপাতাল থেকে তাদের বলা হয় পরিবারের সদস্যরা সম্পূর্ণ নিজেদের দায়িত্বে মৃতদেহ নিয়ে যেতে পারবেন অথবা মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে হাসপাতাল। হাওড়া পুরনিগমের অ্যাম্বুলেন্স এলে তারপর তাদের ডাকা হবে। এরপর সোমবার দুপুর কেটে গেলেও দেহ নিয়ে যাবার ব্যবস্থা হয়নি।

হাসপাতালেই মৃতদেহ পড়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যুক্তি রবিবার ছুটির জন্য পুরনিগম গাড়ি পাঠাতে পারেনি।

সোমবারও তারা আসতে পারবে না। এতদিন মৃতদেহ হাসপাতালে রাখা সম্ভব নয় বলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ পড়ে ছিল। সৎকার হয়নি। এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে এর থেকে বেশি কিছু বলতে চায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, পরে শেষপর্যন্ত প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের উদ্যোগে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে রাজ্যে একাধিক জায়গাতে এমন অমানবিক ছবি দেখা গিয়েছে। কোথাও ঘন্টার পির ঘন্টা পড়ে রয়েছে দেহ তো আবার কোথাও সৎকার হয়নি। যদিও সেদিকে তাকিয়ে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। কোভিড আক্রান্তের মৃত্যুর পর দেহ সৎকার নিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

এই প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, 'নিয়ম অনুযায়ী কোন কারণ না থাকলে পোস্টমর্টেম করা হবে না। দেহ আর পরে থাকবে না। ডেথ সার্টিফিকেট থাকলে সৎকার করা হবে। নাহলে ধাপায় দেহ রাখা হবে। আরটিপিসিআর রিপোর্ট আসার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাড়িতে বা রাস্তায় আর করোনা রোগীর দেহ পরে থাকবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপরেও এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+