বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পরিকল্পনা, আমেরিকা সফরে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পয়লা সেপ্টেম্বর পানাগড় শিল্প তালুকের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) বলেছিলেন, এবার তাঁর লক্ষ্য শিল্প। ফের বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সচিবদের নির্দেশ দেন।
পয়লা সেপ্টেম্বর পানাগড় শিল্প তালুকের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) বলেছিলেন, এবার তাঁর লক্ষ্য শিল্প। ফের বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সচিবদের নির্দেশ দেন। শুধু এইসব পরিকল্পনাই নয়, এবার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে বিনিয়োগ (investment) টানতে বিদেশেও যেতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রথমেই তাঁর গন্তব্য হতে পারে আমেরিকা (usa), এমনটাই খবর নবান্ন সূত্রে।

বণিকসভাকে বার্তা রাজ্যের
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের ব্যাপারে বণিকসভা আমেরিকান চেম্বার্স অফ কমার্সকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। সব কিছু সঠিকভাবে এগোলে শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমেরিকা সফর চূড়ান্ত করে ফেলা হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত শুক্রবার আমেরিকান চেম্বার্স অফ কমার্সের বৈঠকে রাজ্য সরকারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। রাজ্যের তরফে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির ছিলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র এবং রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই বৈঠকে আমেরিকার চেম্বার্স অফ কমার্সের তরফে রাজ্য সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এই বণিকসভার আহ্বায়ক ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত।

রাজ্যে বিদেশি বিনিয়োগ বহুগুণ বেড়েছে
রাজ্য সরকারের দাবি ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। যার মধ্যে অনেকটাই আমেরিকার বিভিন্ন শিল্পসংস্থার বিনিয়োগ। রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১০-১১ সালে যেখানে রাজ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৯.৫ কোটি ডলার, সেখানে ২০১৯-২০ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৬০.৮০ কোটি ডলার। এই রাজ্যে আমেরিকার বিভিন্ন শিল্প সংস্থার তরফে তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়াও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, লজিস্টিক্সে প্রচুর বিনিয়োগ করা হয়েছে। যার জেরে রাজ্যে কর্মসংস্থানও বাড়ছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

রাজ্যে আমেরিকার সংস্থার কর্মসংস্থান
রাজ্য সরকারের তরফে তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, আমেরিকার তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা কগনিজেন্টে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। পেপসির তরফে তিনটি খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। সেখানেও কর্মসংস্থানের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজারের মতো। রাজ্যে বিনিয়োগ করেছে আমেরিকার অপর সংস্থা কোকোকলাও। আমাজন রাজ্যে সাতটি লজিস্টিক্স হাব তৈরি করেছে। সব কটি কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার চাকরি হয়েছে বলে দাবি রাজ্যের। রাজ্যে তাদের পরিধি বাড়াচ্ছে ফ্লিপকার্টও।

নতুন বিনিয়োগ আনতে আমেরিকায়
রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আনতে শিল্প প্রতিনিধিদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আমেরিকায় যেতে পারেন বলে সূত্রের খবর। তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সম্প্রসারণে উৎসাহই মুখ্যমন্ত্রীর সফরের লক্ষ্য হতে পারে। পয়লা সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী পানাগড়ে জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকার সামাজিক উন্নয়নে এমন সব কাজ করেছে যা অন্য কোনও রাজ্যে হয়নি। বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের সামাজিক উন্নয়নের প্রকল্পের প্রশংসাও করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। গত ১০ বছরে রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নেও ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়েছে। তিনি সেদিন আশা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, রাজ্য ফের শিল্পে একনম্বর হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাজ্যে বিভিন্ন সংস্থার ডেটা সেন্টার তৈরি হলে বহু মানুষের চাকরি হবে। রাজ্যে শিল্পকে ত্বরান্বিত করতে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার চেয়ারম্যান মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মুখ্যসচিব-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের সচিবরা। শুধু রাজ্যের আগ্রহ নয়, ভৌগলিক দিক থেকে রাজ্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়াটাও আমেরিকার বিভিন্ন সংস্থাও রাজ্যকে নিয়ে রয়েছে। সেসব সংস্থাকে একসূত্রে বাঁধতে চায় রাজ্য সরকার।
৬ ও ৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রোমে। সেখানে তিনি যাবেন কিনা, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরে, ২০১৫-তে বাংলাদেশে, ওই বছরেই লন্ডনে, ২০১৭-তে নেদারল্যান্ডস, ২০১৮-তে জার্মানি ও ইতালি সফর করেন।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে একাধিকবার বিদেশ গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর মধ্যে ২০১৭ সালে বিদেশ সফর ছিল বেশ বড়। সেই সফরে শিল্পপতিরা ছাড়াও ছিলেন সাংবাদিকরাও। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দেড় বছরের বেশি সময়ে তা সম্ভব হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর আগেকার বিদেশ সফর নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী নেতারা। বিদেশ গিয়ে কত টাকা বিনিয়োগ রাজ্যে এসেছে, তা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও তুলেছিলেন বিরোধী নেতারা।












Click it and Unblock the Notifications