প্রার্থী পিছু লাগবে লক্ষ টাকা, সন্তুষ্ট করতে হবে সুকান্ত মজুমদারকে! পুরভোটের আগে 'বিজেপি' নেতার ভিডিও ভাইরাল
প্রার্থী পিছু লাগবে লক্ষ টাকা, সন্তুষ্ট করতে হবে সুকান্ত মজুমদারকে! পুরভোটের আগে 'বিজেপি' নেতার ভিডিও ভাইরাল
নিজেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করা প্রীতম সরকার (Pritam Sarkar) নামে এক ব্যক্তির ভিডিও এই মুহূর্তে ভাইরাল। যেখানেই এই ব্যক্তি বলছেন, বিজেপির (BJP) প্রার্থী হতে গেলে একলক্ষ টাকা করে দিতে হবে। ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে তিনি বিষয়টি নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি ওই ব্যক্তি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং অনির্বাণ গাঙ্গুলির (Anirban Ganguly) নামও করেছেন। যদিও সুকান্ত মজুমদার বলেছেন তিনি প্রীতম সরকার নামে কাউকেই চেনেন না।
|
ভিডিওতে দাবি
নিজেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ট বলে দাবি করা তাঁরই পরিচিতের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ কলে কথোপকথন করেছেন। সাধারণ কল রেকর্ড হতে পারে ধরে নিয়ে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে কলে কথা বললেও, সেই কথোপকথন আবার রেকর্ড করে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়া হয়েছে। সেখানে প্রীতম সরকার নামে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, তিনি জগদ্ধাত্রী পুজোয় শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত এবারই প্রথমবার শুভেন্দু অধিকারীর কাঁথির বাড়িতে জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন হয়েছে। এছাড়াও প্রীতম সরকার নামে ওই ব্যক্তি বলেছেন অনির্বাণ গাঙ্গুলিদের কাছেও তিনি গিয়েছেন। এরপরেই এসেছে লেনদেনের কথা। সেই ব্যক্তির দাবি তাঁর বৈঠক রয়েছে সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে। সেখানে থাকবেন জেলা সভাপতিও। ফোনের অপর পারে থাকা বলছেন, তারা ১২ টা প্রার্থী দিতে চান। তার জন্য কত দিতে হবে। তখন প্রীতম সরকার নামে ওই ব্যক্তি বলছেন, ১২ টা হবে কিনা বলতে পারছেন না, তবে প্রার্থী পিছু ১ লক্ষ টাকা করে লাগবে। এব্যাপারে কমানোর কথা বললে, প্রীতম সরকার বলছেন, বিষয়টি সুকান্ত মজুমদারকে বোঝাতে হবে।

তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং করেই জেতানোর ব্যবস্থা
অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি বলছেন, তাঁর আসনটিকে ভাল আসন হবে। সেই সময় প্রীতম সরকার নামে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে ভাল তো বটেই, এরপরেও তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং করে জেতানোর ব্যবস্থা করা হবে। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্করদার কথা বলছেন। পাশাপাশি বলছেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে ব্যবহার করেই এগোতে হবে। কথোপকথন যে কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত বেহালার অংশকে নিয়ে তা বোঝা যাচ্ছে।

তৃণমূলের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট
কথোপকথনের ওই ভিডিওটি তৃণমূলের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। সঙ্গে বিজেপি এবং রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে কটাক্ষ করে লেখা হয়েছে, বিজেপি বাংলায় প্রার্থী পিছু একলক্ষ টাকা করে চাইছে। এইভাবে আত্মপ্রচারের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন? স্তম্ভিত। যদিও এই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করে দেখেনি ওয়ানইন্ডিয়া বেঙ্গলি।

সুকান্ত মজুমদারের প্রতিক্রিয়া
এব্যাপারে সুকান্ত মজুমদার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি প্রীতম সরকার নামে কাউকেই চেনেন না। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত সম্পত্তি কী করে হল, আর তাঁর (সুকান্ত) সম্পত্তি হিসেব করে দেখা হোক। সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, অধ্যাপক হিসেবে তিনি বড় টাকাই উপার্জন করতেন। অন্যদিকে বিজেপির তরফে কলকাতা পুরভোটের দায়িত্বে থাকা রুদ্রনীল ঘোষও দাবি করেছেন, তিনিও ওই নামে কাউকে চেনেন না। তবে ভোটের সময় অনেতেই টাকা রোজগারের চেষ্টা করেন। তিনি বলেছেন, যে প্রীতম সরকার আসন পিছু এক লক্ষ টাকা চাইছেন, আবার তিনিই বলছেন, তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং-এর কথা। তাহলে কি তৃণমূল দলটা ওই প্রীতম সরকারের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে, পাল্টা প্রশ্ন করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ।












Click it and Unblock the Notifications