মুকুলকে দেখে শিখছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতারা! তবে কি ‘অন্য সমীকরণ’ ২০২১-এর আগে
মুকুলকে দেখে শিখছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতারা! ২০২১-এর আগে কি ‘অন্য সমীকরণ’
২০১৭ সালের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর আড়াই বছর কেটে গিয়েছে। অবশ্যই বিজেপিতে গিয়ে মুকুল রায় তৃণমূলের কাছে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এই আড়াই বছরে তিনি একটি দলীয় সাংগঠনিক পদ কি জোগাড় করতে পেরেছেন? পারেননি। হয়তো পারবেনও না। বিজেপি তাঁকে ব্যবহার করে নেবে।

মুকুলকে দেখে বিজেপিতে যাওয়ার ভাবনা শিকেয়
মুকুলের এই হাল দেখে বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীরা তাই দ্বিধাবিভক্ত। তাঁরা ভাবছেন এই পরিস্থিতিতে কি মুকুল রায়কে ভরসা করে দল ছাড়া ঠিক হবে। নাকি পুরনো দলে থাকাই শ্রেয়? নিজেদের গুরুত্বের কথা তাঁরা আগে ভাবছেন। আর তা ভেবেই বিজেপিতে যাওয়ার ভাবনা শিকেয় তুলে রাখছেন।

বিজেপিতে গিয়ে গুরুত্ব পাওয়া দুস্কর হবে
মুকুল রায় নিজের জন্য একটা পদ জোগাড় করতে পারেননি, এই অবস্থায় তাঁর হাত ধরে বিজেপিতে গিয়ে গুরুত্ব পাওয়া দুস্কর হয়ে যাবে। তখন একূলও যাবে ওকূল যাবে। তাই বিক্ষুব্ধরা ভাবছেন দল না ছাড়াই মঙ্গল। মুকুল রায়ের পক্ষে সেই কারণে নতুন করে বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীদের দলে টানা কঠিন হবে।

তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে জোটেই বিকল্প রাস্তা
বরং তৃণমূলের বিক্ষুব্ধরা অন্য সমীকরণের কথা ভাবছেন। যদি রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোট হয়, তবে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করা অনেক ভালো হবে। তখন নিজেদের একটা দল থাকবে। সেখানে নিজেদের মতো করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। বাম-কংগ্রেসও চাইছে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে জোট করে একটা বিকল্প রাস্তা বের করতে।

মহাজোট গড়ে তোলার একটা ভাবনা কাজ করছে
কেননা অনেক নেতা-নেত্রী রয়েছেন, যাঁরা তৃণমূল ছাড়তে চাইছেন, কিন্তু সঠিক বিকল্প খুঁজে পাচ্ছেন না। তাঁরা কিছুতেই বিজেপিতে যেতে চাইছেন না। তাঁরা চাইছে বিকল্প কোনও শক্তি। কিন্তু বাংলায় বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে তাঁদের দলে যোগ দেওয়া না দেওয়া সমান। এই অবস্থায় বিকল্প মঞ্চ করে মহাজোট গড়ে তোলার একটা ভাবনা এখন থেকেই কাজ করছে।

মান্নানের চিঠি সোনিয়াকে, শুরু জল্পনা
সম্প্রতি এমনই এক ধারণার জন্ম দিয়েছেন আবদুল মান্নান। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের বিধায়ক আবদুল মান্নান একটি চিঠি লিখেছেন সর্বভারতীয় সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে। সেই চিঠিতে তিনি এমনই এক ধারণার জন্ম দিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল জমি হারাচ্ছে বাংলায়, আর বিজেপিও জনবিরোধী নীতি ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণে জন সমর্থন হারিয়ে ফেলছে।

মান্নানের ভাবনা বিজেপি-তৃণমূলকে আটকাতে
মান্নানের বক্তব্য এই অবস্থায় তৃণমূলের অনেক মন্ত্রী-বিধায়ক, বিশিষ্ট মানুষ বিকল্প পথের সন্ধানে নতুন দল গড়তে চাইছেন। এই পরিস্থিতি চূড়ান্ত হলে বাংলায় উচিত হবে বাম-কংগ্রেস সঙ্গে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের মঞ্চকে নিয়ে একটা জোট তৈরি করা। তাহলে খুব সহজেই বিজেপির উত্থান আটকানো যাবে এবং তৃণমূল সরকারকেও আটকানো যাবে।
{quiz_152}












Click it and Unblock the Notifications