সাত্তোরের সেই নির্যাতিতাকে ১৫ লক্ষ টাকা, চাকরির টোপ তৃণমূলের
বর্ধমান, ২১ জানুয়ারি: বীরভূমের পাড়ুই থানার সাত্তোর গ্রামে যে বধূকে তুলে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছিল পুলিশ, তাঁকেই এ বার ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলল তৃণমূল কংগ্রেসের চারজন নেতা। মঙ্গলবার ভোররাতে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, নির্যাতিতার পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরির টোপও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন: ভাশুরপো বিজেপি কর্মী, বিছুটি ঘষে, তালু চিরে বধূকে শায়েস্তা পুলিশের
ভাশুরপো শেখ মিঠুন বিজেপি-তে নাম লেখানোয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই বধূর ওপর গত শনিবার প্রচণ্ড অত্যাচার চালানো হয়। শাড়ি খুলে দেওয়া হয়। শ্লীলতাহানি করার পর গায়ে বিছুটি পাতা ঘষে দেওয়া হয়। ব্লেড দিয়ে চিরে দেওয়া হয় দুই হাতের তালু। শাসক দলের গুন্ডাদের পাশে নিয়ে ঘটনার নেতৃত্ব দেন কার্তিকমোহন ঘোষ নামে এক পুলিশ অফিসার। প্রথমে তাঁকে 'ক্লোজ' করেই দায় সেরেছিলেন বীরভূমের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। কিন্তু হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা হওয়ায় চাপে পড়ে কার্তিকমোহন ঘোষকে সাসপেন্ড করে রাজ্য সরকার।

পুলিশের অত্যাচারের শিকার ওই বধূ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোরে চারজন লোক আসে হাসপাতালের ওয়ার্ডে। তারা নিজেদের পরিচয় দেয় 'অনুব্রত মণ্ডলের লোক' বলে। প্রসঙ্গত, অনুব্রত মণ্ডল হলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি। তারা এসে বলে, "১৫ লাখ টাকা দেব তোমাদের। অভিযোগ তুলে নাও। তোমাদের বাড়িতে তো কেউ সরকারি চাকরি করে না শুনেছি। কাজও পাইয়ে দেব। আমাদের কথা শুনলে ভালো থাকবে।"ওই বধূ ভয় পেয়ে কিছু বলতে পারেননি তখন। পরে মিডিয়ায় বিষয়টি জানাজানি হতে হইচই শুরু হয়। অনুব্রতবাবুকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "আমি কাউকে পাঠাইনি। ওই ঘটনায় আমাদের দলের কেউ জড়িত নয়।"
এদিকে, ওই বধূর ননদ অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সালেহা খাতুনকে পুলিশ হুমকি দিয়েছে বলে খবর। শেখ মিঠুনকে ধরিয়ে না দিলে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করার হুমকি দিয়েছে পুলিশ। অন্তত এমনটাই দাবি পরিবারের। ভয়ে সে স্কুলে যাচ্ছে না।












Click it and Unblock the Notifications