মমতাকে 'মিথ্যাশ্রী'-তে বিঁধে ত্রিপুরার ভিডিও শেয়ার শুভেন্দুর, মিথ্যাচারের পাল্টা প্রমাণ দিলেন কুণাল
ত্রিপুরা নিয়ে তোলপাড় বঙ্গ-রাজনীতি। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, চলছে চাপানউতোর। ত্রিপুরায় দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গণতন্ত্র ফেরানোর ডাক দিয়ে বছর দেড়েক পরেই ত্রিপুরায় তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হামলাকারীদের গ্রেফতার না করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। এমনকী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, দোলা সেন, কুণাল ঘোষ, সুবল ভৌমিক ও প্রকাশ দাসের বিরুদ্ধে ১৮৬/৩৪ ধারায় মামলা রুজুও হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর শেয়ার করা ভিডিও গোটা বিষয়ে অন্য মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এই ভিডিও সত্য নয় বলে দাবি তৃণমূলের।

মমতার দাবি
ত্রিপুরায় আক্রান্ত হওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের চিকিৎসার বন্দোবস্ত করেছেন এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসারত দলীয় কর্মীদের দেখতে গিয়ে বিপ্লব দেব সরকারকে নিশানা করে দলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, অমিত শাহের নির্দেশে পরিকল্পনামাফিক হামলা হয়েছে। এমনকী আক্রান্তদের চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। এক গ্লাস জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

শুভেন্দুর কটাক্ষ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি খণ্ডন করতে গতকাল রাতে একটি টুইট করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি টুইটে লেখেন, তৃণমূল সুপ্রিমোর ভিত্তিহীন অভিযোগ খণ্ডন করছি। তিনি বলেছেন যে তাঁর 'সম্পদ'দের নাকি ত্রিপুরাতে এক গ্লাস জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষে বিঁধে শুভেন্দু অধিকারী টুইটে লেখেন, তাঁকে অনুরোধ করব নিজেকে 'মিথ্যাশ্রী' উপাধিতে ভূষিত করার জন্য। এই অনুরোধ গ্রহণ করে আমাদের বাধিত করবেন।
|
ভিডিও ভাইরাল
শুভেন্দু অধিকারী যে ভিডিও তাঁর টুইটে শেয়ার করেছেন সেখানে দেখা গিয়েছে, আক্রান্ত সুদীপ রাহার চিকিৎসা করা হচ্ছে। থানার সামনে বসে জয়া দত্ত গ্লাস থেকে জল পান করছেন। অপর একটি অংশে দেখা গিয়েছে, থানার ভিতর যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষরা ছিলেন সেখানে সুদীপ রাহার হাতে একটি জলের বোতল রয়েছে। অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারী এই বিভিন্ন মুহূর্তের কোলাজের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য খণ্ডন করতে চেয়েছেন।

মিথ্যাচারের পাল্টা তোপ
যদিও এই ভিডিও-র সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ওয়ানইন্ডিয়া বেঙ্গলিকে জানিয়েছেন, জয়া দত্তকে যে জল পান করতে দেখা যাচ্ছে তা অনেক আগের ভিডিও। এটি ঘটনার দিন ছয়েক আগে আগরতলার থানার ফুটেজ। আর এটা সত্যি তৃণমূল কংগ্রেসের আক্রান্ত কর্মীদের চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়নি, জলও দেওয়া হয়নি। তৃণমূল নেতৃত্ব যখন থানায় যান তারপর দলের কর্মীরা জয়া, সুদীপদের জন্য জলের ব্যবস্থা করেন। সুদীপের মাথায় চোট লেগেছিল। স্ক্যানের প্রয়োজন ছিল, সেটাও করা হয়নি। কোর্টে তোলার আগে প্রেসার মাপা-সহ শারীরিক পরীক্ষা করতেই হয়। কিন্তু আক্রান্ত হওয়ার পর যে চিকিৎসার দরকার হয় তা পাননি তৃণমূল কর্মীরা।

শুভেন্দুকে কুণালের বাউন্সার
শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে কুণাল ঘোষ বলেন, কিছু না জেনেই উনি এ সব ভিডিও শেয়ার করেন। আদ্যন্ত মিথ্যা কথা বলেন। তিনি নিজেই জানেন না তাঁর বাবা (শিশির অধিকারী) কোন দলে রয়েছেন। এটা ভাবতেই এক মাস সময় চলে গেল! ফলে এভাবেই মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস লাগাতার চালিয়ে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী।

ভয় পেয়েছে বিজেপি!
এদিন কুণাল ঘোষ একটি ফেসবুক বার্তায় লিখেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের উপর বিজেপির পরিকল্পিত হামলা এবং তারপর অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করায় সেই কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ত্রিপুরার খোয়াই থানার পুলিশ মামলা করেছে। অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, দোলা সেন, কুণাল ঘোষ, সুবল ভৌমিক, প্রকাশ দাস। আমরা কোনও সরকারি কাজে বাধা দিইনি। আমরা আমাদের কর্মীদের খোঁজ নিতে গিয়েছি। যথাযথ চিকিৎসা, খাবার, জল দিতে বলেছি। পুলিশ এসকর্ট যেভাবে ওদের ফাঁদে ফেলে মার খাইয়ে গ্রেফতারের চিত্রনাট্যে ঢুকিয়েছে, তার প্রতিবাদ করেছি। ধারাগুলি জানতে চেয়েছি। অন্যায়ভাবে দেওয়া ধারা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছি। আইনজীবীরা এসে না পৌঁছনো পর্যন্ত একটু সময় ভিক্ষা করেছি। না হলে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারতেন না বন্দিরা। আসল হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে বলেছি। ছবি দেখিয়েছি। বিজেপি তখন থানা ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল। তার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছি। অভিষেকের নির্দেশে ব্রাত্য, দোলা, আমি নিজেরা ওদের নিয়ে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কোর্টে রওনা করিয়েছি। ভিডিও ফুটেজ স্পষ্ট। কোর্টে যাওয়ার পথে নেতাদের এবং আইনজীবীদের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। তার প্রতিবাদ করে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ওরা নেয়নি। কোর্টে বন্দিদের পেশ করাটা স্বাভাবিক। আমরা বাধা কেন দেব? জামিন করিয়েছি। যদি আমরা আদৌ বাধা দিতাম, সেদিন কোর্টে নিশ্চয়ই এসব পুলিশ বা সরকারপক্ষ বলত। সেদিন কিছু বলা হল না। সরকারি আইনজীবী সাংবাদিক বৈঠকেও বললেন না। ৪৮ ঘণ্টা পর মিথ্যা কথা বলে মামলা করা হল। হামলা, মামলা- কোনওভাবেই তৃণমূলকে থামানো যাবে না। আইনি লড়াই চলবে। রাজনৈতিক লড়াই বাড়বে। প্রমাণিত, বিজেপি ভয় পেয়েছে।
শুভেন্দু মিথ্যা বলছে।
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) August 11, 2021
জল আমাদের কর্মীরা এনে দিয়েছে।
সুদীপ, জয়ার আঘাতের চিকিৎসা না করে গ্রেপ্তারির পর রুটিন প্রেসার দেখা হয়েছে।
দলবদলু আগে বলুক 2014তে BJP 16/8 খেলার জন্য পালন করলেও ও কেন এখন খেলা দিবসের বিরোধিতা করছে?
আর শিশিরদা কোন দলে ভাবা শেষ হল? https://t.co/bxmIsdt9ht
Tripura: @AITCofficial এর ধাক্কায় বেসামাল @BJP4India. CM বিপ্লব দেবকে দিল্লির তলব। ওদিকে সুদীপ বর্মণ গোষ্ঠী বলছে তিনি নাকি বড় ক্ষমতায় আসছেন। জিতবেন কে?
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) August 11, 2021
ঘর সামলাক বিজেপি। তাসের ঘরের মত ভাঙবে।
সন্ত্রাস আর মিথ্যে মামলা দিয়ে এবার তৃণমূলকে ঠেকানো যাবে না।












Click it and Unblock the Notifications