মমতা-ঘনিষ্ঠ ১৮০ কোটি টাকার স্বাস্থ্য কেলেঙ্কারিতে যুক্ত! স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ব্যাগ গোছাতে বলে দাবি শুভেন্দুর
Suvendu On Scam: আরজি কর হাসপাতালে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তার তদন্ত সিবিআই করবে। নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।
সিঙ্গল বেঞ্চের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন সন্দীপ। শুভেন্দু অধিকারী সেই ঘটনা পরম্পরার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন।

আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির তদন্তভার সিবিআইকে দেওয়ার পর রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা ডিভিশন বেঞ্চে যান বলে দাবি শুভেন্দুর। প্রধান বিচারপতি আজ ছিলেন না। হরিশ ট্যান্ডন ও হিরন্ময় ভট্টাচার্যের এজলাসে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও তা হয়নি।
এর ফলে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ মোতাবেক স্বাস্থ্য দফতর সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তভার কাল সকালে সিবিআই গ্রহণ করবে। শুভেন্দুর কথায়, আমি আর সুকান্ত মজুমদার বারবার বলেছি, শিক্ষা ও খাদ্য গিয়েছে জেলে। এবার স্বাস্থ্যের পালা। পার্থ (পার্থ চট্টোপাধ্যায়) ও বালু (জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক)-র মতো এবার ব্যাগ গোছান মমতা।
শুভেন্দুর অভিযোগ, কোভিডের সময় প্রধানমন্ত্রী প্রচুর টাকা পাঠালেও কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে স্বাস্থ্য দফর, যার মন্ত্রী খোদ মুখ্যমন্ত্রী। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের টাকাও নয়ছয় হয়েছে। দুর্নীতিতে যুক্ত মমতার পার্সোনাল ফিজিশিয়ানও।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, ২০১২ সালে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শ্যামাপদ দাস একটি সংস্থা খোলেন। তিনি ছাড়াও তার ডিরেক্টর ছিলেন তাঁর কন্যা ডা. তন্দ্রা দাস ও উৎপল শাসমল। ২০১২ থেকে ২০১৭ অবধি এই সংস্থা আরজি কর-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে মেটেরিয়াল সরবরাহ করেছে। ১৮০ কোটি টাকার দুর্নীতির টেন্ডার-সহ সব নথি রয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ওঁর লজ্জা নেই। কলকাতায় উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলে মিছিল করছেন। আর সুপ্রিম কোর্টে কপিল সিব্বল-সহ ২১ জন আইনজীবীকে নিযুক্ত করছেন যাতে নির্যাতিতা ন্যায়বিচার না পান। এখন শুনানি সরাসরি দেখা যায়। গোটা দেশ দেখেছে কীভাবে ন্যায়বিচার ঠেকাতে মরিয়া রাজ্য সরকার।
শুভেন্দু বলেন, জনগণের করের টাকা ব্যবহার করে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে আইনজীবীদের শুনানিতে অংশ নিতে পাঠানো হচ্ছে। রাজ্য সরকারের হয়ে যাঁরা মামলা লড়েন তাঁদের না পাঠিয়ে বিপুল ফি যে আইনজীবীদের তাদের নিয়োগ করা হয়েছে।
এদিকে, আজও জিজ্ঞাসাবাদের পর সিবিআই অফিস থেকে বেরিয়ে গেলেন সন্দীপ ঘোষ। শুভেন্দুর দাবি, আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে অর্থ দফতর বা ক্যাগের কাউকে না রেখে সিট গঠন করা হয়েছিল। সন্দীপকে শেখানো হতো সিবিআই জিজ্ঞাসা করলে কী কী বলতে হবে। কলকাতা হাইকোর্ট সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, শ্যামবাজারে ধর্না চলবে রবিবার অবধি। তারপর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তবে মমতা পদত্যাগ না করা অবধি বিজেপি পথেই থাকবে প্রতিবাদ- আন্দোলন চালিয়ে যেতে।












Click it and Unblock the Notifications