দেওয়াল লিখন এখনও বাকি! ভোট কবে জানেন না পশ্চিমবঙ্গের এইসব এলাকার মানুষরা
বেলপাহাড়ি। ঝাড়খণ্ড লাগোয়া ঝাড়গ্রাম এলাকার বেলপাহাড়ি। এক সময় এই এলাকা ছিল মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল। এখন অবশ্য মাওবাদীরা পিছু হটেছে। এই এলাকা এখন তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে।
বেলপাহাড়ি। ঝাড়খণ্ড লাগোয়া ঝাড়গ্রাম এলাকার বেলপাহাড়ি। এক সময় এই এলাকা ছিল মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল। এখন অবশ্য মাওবাদীরা পিছু হটেছে। এই এলাকা এখন তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে।
বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতি সবই শাসক দলের। তারা ক্ষমতায় আসার পর এলাকায় শান্তি ফিরেছে, উন্নয়ন হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা। কিন্তু এই এলাকায় গ্রামগুলিতে মনে হয় না সামনেই নির্বাচন।
অন্য এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামগুলোতে যখন প্রার্থীদের নামে দেওয়াল ভরে উঠেছে, নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে, তখন ব্যতিক্রম বেলপাহাড়ি।

ভোট চাইতে আসেনি কেউ
বেলপাহাড়ির গিদিঘাটি, মাজুগাড়া, সিয়ারবিন্দা, জামতলগাড়া , বারিঘাটা, দোমোহানি, খান্দারানি, জোড়াম। এই গ্রামগুলোতে দেওয়াল লিখন তো অনেক দূর এখানে ভোট চাইতে কেউ আসেনি।
এই এলাকার নির্বাচন ১২ মে। ঝাড়গ্রাম এলাকায় অনেক এলাকায় নির্বাচনী প্রচার জোর কদমে শুরু করে দিয়েছে সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা। কিন্তু বেলপাহাড়ির এই সব জায়গাতে এখনও কেউ আসেনি।
এই সব গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় সর্দার, অশ্বিনী মাহাত, বাসুদেব মাহাত, প্রমীলা শবররা বলেন, এই সব জায়গাতে এখনও কেউ ভোট চাইতে আসেনি। এই সব গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ জানেন না লোকসভা নির্বাচন কবে।

লোকসভার দেওয়াল লিখন হয়নি
ঝাড়গ্রাম লোকসভার বিভিন্ন স্থানে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, কংগ্রেস প্রার্থীদের দেওয়াল লিখন চোখে পড়লেও এই এলাকার বিভিন্ন স্থানে , গ্রামে এখনও পরিষ্কার করে দেখা যাচ্ছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দেওয়াল লিখন।
এই সব গ্রামে যে নির্বাচন প্রচার শুরু হয়নি তা মেনে নিচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

প্রচার শুরু হয়েছে
বেলপাহাড়ি এলাকার কংগ্রেস নেতা সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, তাদের প্রার্থী যজ্ঞেশ্বর হেমব্রমকে নিয়ে প্রচার শুরু হয়েছে। সব এলাকায় এখনও পর্যন্ত যেতে পারেননি। তবে ওই সব প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও নিশ্চয়ই যাওয়া হবে।
সিপিএম নেতা পুলিন বিহারী বাস্কে বলেন, তাদের প্রার্থী দেবলীনা হেমব্রমকে নিয়ে বেলপাহাড়ির শিমুলপাল এলাকায় প্রচার হয়েছে। অন্য এলাকায় গিয়েও প্রচার করা হবে।
বিজেপি নেতা সুখময় শতপতি বলেন, " এই এলাকায় নির্বাচন হতে এখনও দেরি আছে। এটা ঠিক যে কিছু এলাকায় আমরা এখনও প্রচার করতে যায়নি। হাতে এখনও সময় আছে তাই সব জায়গাতেই তাদের প্রার্থীকে নিয়ে পৌঁছে যাবেন।
আর তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুকুমার হাঁসদার দাবি, সব জায়গাতেই সব গ্রামে তাদের লোক আছে। দেওয়াল লিখন তো প্রচার করার একটা অঙ্গ। গ্রামে গ্রামে প্রচার চলছে। তাও তারা সব এলাকায় প্রার্থীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

আতঙ্ক তাড়া করে বেরাচ্ছে
এই এলাকায় এক সময় মাওবাদীরা দাপিয়ে বেরিয়েছে, অনেককে খুন করেছে। এখন এই এলাকায় মাওবাদীদের দেখা পাওয়া না গেলেও তাদের আতঙ্ক এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
তাই শাসক দল এলাকায় শান্তি ফিরেছে বলে দাবি করলেও ভোটের প্রচার নেই। ভোটের বাজারে তাই ব্যতিক্রম এই এলাকা। হয়ত এই জায়গার নাম বেলপাহাড়ী বলেই।












Click it and Unblock the Notifications