অবৈধ ভোটারদের নাম ঢোকাচ্ছে বিজেপি, অভিযোগ মমতার, চিঠি দিলেন জ্ঞানেশ কুমারকেও
বিজেপি বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে 'অবৈধ ভোটার'দের রাজ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচনী ফল নিজেদের পক্ষে আনতে চাইছে। আজ এমনই অভিযোগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার এক জনসভায় তিনি ভোটারদের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, তৃণমূলের প্রার্থীরা যেই হোন না কেন, রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই যেন তাঁকেই প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা হোক।

তৃণমূল সুপ্রিমো আরও বলেন, "গতকাল অভিষেক (বন্দ্যোপাধ্যায়) আমাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি প্রচারের মাঝপথেই কলকাতার ইসি অফিসে ছুটে যান, কারণ খবর আসে যে একদিনে প্রায় ৩০,০০০ ফর্ম জমা পড়েছে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য।"
তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, "বিজেপি বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে অবৈধ ভোটারদের বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। তারা ট্রেনের মাধ্যমে বহিরাগত ভোটারদের আনার পরিকল্পনা করছে, যেমনটি তারা বিহারেও করেছিল।"
বাংলার প্রতি বিজেপি-র কোনও শ্রদ্ধা নেই বলে দাবি করে মমতা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগসাজশে 'এসআইআর' (SIR) প্রক্রিয়ার আড়ালে মহিলা ও সংখ্যালঘুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
এ বিষয়ে বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় বলেন, "বিজেপি এবং ইসি (EC) মানুষের নাগরিকত্ব, সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। আমরা প্রতিটি ধাপে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব।"
মমতা সতর্ক করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালিদের আমিষ খাবার নিষিদ্ধ করতে পারে। তৃণমূল কেন্দ্রীয় সরকারের এনআরসি (NRC) প্রয়োগ বা নাগরিকদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর যেকোনো প্রচেষ্টা রুখে দেবে।
দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের চিঠিও দিয়েছেন মমতা। ফেসবুকে তিনি লেখেন, "আমি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছি এবং বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে যে গুরুতর ষড়যন্ত্র রচিত হচ্ছে, সেই বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।
বিজেপি এজেন্টরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে হাজার হাজার জালিয়াতিপূর্ণ ৬ নম্বর ফর্ম জমা দিয়ে বাংলার ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের ঢুকিয়ে দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে। এটি ভোটার হাইজ্যাকিংয়ের একটি প্রচেষ্টা, যে একই নোংরা খেলা বিজেপি মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে সফলভাবে খেলেছে।
যখন ৬০ লক্ষের বেশি প্রকৃত ভোটারের নাম বিচারধীন অবস্থায় রয়েছে এবং ত্রুটিপূর্ণ SIR প্রক্রিয়ার কারণে ইতিমিধ্যেই ২০০-র বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, তখন ভারতের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে এই একগুচ্ছ জালিয়াতিপূর্ণ আবেদনগুলি বন্ধ দরজার পিছনে গ্রহণ করার জন্য তাড়াহুড়ো করছে। এটি কেবল বেআইনি এবং মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থীই নয়, বরং বাংলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর একটি সরাসরি আক্রমণ।
আমি দাবি জানিয়েছি যে, ভারতের নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বন্ধ করুক, কঠোরভাবে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশাবলী মেনে চলুক এবং ২৮.০২.২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যেন কোনও জাল ভোটার যুক্ত না করা হয় তা নিশ্চিত করুক। বাংলা তার গণতন্ত্রকে দিনের আলোয় চুরি হতে দেবে না। বাংলার মানুষ নজর রাখছে।"












Click it and Unblock the Notifications